• প্রচ্ছদ » » শুভ জন্মদিন ইঙ্গমার বার্গম্যান


শুভ জন্মদিন ইঙ্গমার বার্গম্যান

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

বাবলু ভট্টাচার্য :বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ও চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান এএফআই কর্তৃক নির্বাচিত সর্বকালের সেরা ১০০ ছবির তালিকায় তাঁর নির্মিত একাধিক ছবি স্থান পেয়েছে। ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে নির্মাণ করেছেন ৬২টি চলচ্চিত্র তার তিনটি ছবি সেরা বিদেশি ভাষার ছবির বিভাগে জিতেছে অস্কার। তিনি ইঙ্গমার বার্গম্যান। বার্গম্যান কেবল চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই নন, মঞ্চনাটক ও অপেরা পরিচালক হিসেবেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়।   একই সঙ্গে তিনি চিত্রনাট্যকার এবং লেখকও। তার নির্মিত প্রায় সব ছবির চিত্রনাট্য তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। লিখেছেন উপন্যাস ও নিজের আত্মজীবনী।

শূন্যতা, নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি এলো সেই কথা, মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন, একসঙ্গে নারী-পুরুষের থাকা। যদি তারা জীবনের চাপ, জীবনের ভারÑ এসবের বিরোধিতা করতে চায়, প্রতিরোধ করতে চায়। মানুষ একা মনের শান্তি অর্জন করতে পারে না। তাকে সাহায্য চাইতে হবে, কিংবা মরে যেতে হবে। এরকম একটি কাহিনিকে অবলম্বন করে ১৯৪৫ সালে বার্গম্যান নির্মাণ করলেন তার প্রথম ছবি ‘ক্রাইসিস’। এর পরপরই তিনি আরও কিছু ছবি পরিচালনা করেন। কিন্তু ১৯৫৬ সালে ‘দ্য সেভেন্থ সিল’-এর মাধ্যমে বার্গম্যান সমালোচনা এবং জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান। ‘দ্য সেভেন্থ সিল’ একজন যোদ্ধার নৈতিকতার কাহিনী— যিনি তার ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহের সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে বেড়ান এবং জগতের রহস্য উন্মোচন করেন, মৃত্যুকে দাবা খেলায় চ্যালেঞ্জ করেন। এমনকি বার্গম্যানের সমালোচকরা পর্যন্ত একমত যে, এই ছবিটিতে অসাধারণ নাটকীয় ক্ষমতার দুঃসাহসিক দৃশ্য আছে।

এর এক বছর পর যৌবন বার্ধক্যের মধ্যে যে ভিন্নতা তার উপর একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বার্গম্যান পরিচালনা করেন ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’। তার পরবর্তী ছবি ‘দ্য ম্যাজিশিয়ান’ (১৯৫৯)-এর মাধ্যমে বার্গম্যান তার পূর্ববর্তী প্রতীকী কাজের ধারায় ফেরেনÑযেখানে কিছুকে বোঝাবার জন্য বিভিন্ন বস্তু বা বিষয়কে ব্যবহার করা হয়। এটি একদল ভ্রাম্যমাণ যাদুঘর এবং তাদের অপার্থিব ক্ষমতা ব্যবহারের গল্প নিয়ে তৈরি। অল্প কিছু কাজের পাশাপাশি ১৯৬০ সালে তিনি তৈরি করেন ‘ভার্জিন স্প্রিং’। ১৯৬১ সালে বার্গম্যান তার উচ্চাভিলাষী তিনটি ছবি নিয়ে উঠে পড়ে লাগেন। শুরু করেন ঘোর, উন্মত্ত, পারিবারিক সহিংসতার পর্যবেক্ষণমূলক ছবি ‘থ্রু এ গ্ল্যাস ডার্কলি’ দিয়ে। দ্বিতীয় অবদান ‘উইন্টার লাইট’ (১৯৬২) বিশ্বাস হারিয়ে যাওয়ায় শূন্যতার উপস্থাপন। তৃতীয় ছবি ‘দ্য সাইল্যান্স’ (১৯৬৩) যোগাযোগ সমস্যার রহস্য উদঘাটন। এই তিনটি ছবির মাধ্যমে ঈশ্বরের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট উদ্বিগ্নতা প্রকাশ পায়। ফলে জগৎ সম্পর্কে বার্গম্যানের ক্রমবর্ধমান জটিল দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচিত হয়।

মৃদু কাব্যিক ধরনের ছবি ‘পারসোনা’ (১৯৬৬)তেও এক ধরনের জটিলতার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এই ছবির কাহিনি এক অদ্ভুত সম্পর্ককে ঘিরে— যেখানে এক তরুণী নায়িকা যে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চুপ হয়ে যাচ্ছে এবং একজন বাঁচাল নার্স যে তার সেবায় রত। ১৯৬৮ সালে একজন শিল্পীকে নিয়ে বার্গম্যান নির্মাণ করলেন ‘দ্য আওয়ার অফ দ্য ওলফ’ যার ওপর ভূত ভর করে। এই ছবিটির মাধ্যমে বার্গম্যানের পূর্বের ধর্মীয় অবিশ্বাসের বিপরীতে কিছু অনুশোচনীয় অনুভূতির সন্ধান মেলে। ১৯৭০ সালে টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরি করার জন্য নরওয়ে, জার্মানি এবং সুইডেনে অবস্থান করেন। সেই সময়ে তার নাটক নির্ভর ছবিগুলোর মধ্যে ছিলো ‘ক্রাইস অ্যান্ড হুইসপারস’ (১৯৭১), এবং ‘অটাম সোনাটা’ (১৯৭৮)। ১৯৮২ সালে বার্গম্যান তার জীবনের বিস্তারিত বিবরণ সমৃদ্ধ একটি আত্মজীবনীমূলক ছবি ‘ফ্যানি অ্যান্ড অ্যালেকজান্ডার’ মুক্তি দেন। যেহেতু এটা ছিলো তার শেষ ছবি তাই তার পুরনো কাজগুলো থেকে এই ছবিটির মধ্যে বহু আলাদা ধরনের বিষয় লক্ষ্য করা যায় এবং এই ছবিতে তার জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে একটি শক্তিশালী সারমর্ম প্রতিফলিত হয়।

১৯৮৮ সালে তার আত্মজীবনী ‘দ্য ম্যাজিক ল্যানট্যার্ন’ এবং ১৯৮৯ সালে ‘বেস্ট ইনটেনশন’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন এবং সুইডিশ টেলিভিশন আর মঞ্চের জন্য তার লেখা এবং পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।  চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি আবার মঞ্চে ফিরে যান। আবার নাটক লিখতে শুরু করেন, নাটকের নির্দেশনা দেন সুইডিশ রয়েল ড্রামাটিক থিয়েটারে। মঞ্চ থেকে তিনি অবসরে যান ২০০৩ সালে, ৮৫ বছর বয়সে।  ইঙ্গমার বার্গম্যান ১৯১৮ সালের ১৪ জুলাই সুইডেনে জন্মগ্রহণ করেন।

লেখক : চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]