• প্রচ্ছদ » » একক কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারীশাসক এরশাদ!


একক কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারীশাসক এরশাদ!

আমাদের নতুন সময় : 15/07/2019

অসীম সাহা

স্বৈরাচারী এরশাদ বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখলের পর ৯ বছর একটানা স্টিম রোলার চালিয়ে দেশকে শাসন করেছেন। মিলনকে হত্যা করেছেন, বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শীর্ষক প্ল্যাকার্ড চাপানো অবস্থায় গুলি করে নূর হোসেনকে মেরেছেন। নারী কেলেংকারিতে তাকে আজ পর্যন্ত কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। এই ধরনের একজন লোককে রংপুরের লোকজন বারবার ভোট দিয়ে ক্ষমতার সিংহাসনে নানাভাবে অধিষ্ঠিত করতে পারেন, সেটাই বিস্ময়কর! এমন একজন স্বৈরাচারীকে নির্বাচিত করতে রংপুরবাসীর কি একটুও লজ্জা লাগেনি?
সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে, এরশাদের সাঙ্গপাঙ্গদের ভ‚মিকা। তাদের ভূমিকা ‘যেমনি নাচাও, তেমনি নাচি/তুমি খাওয়াইলে আমি খাই’।-এর মতো। এরশাদ বারবার লাত্থিগুঁতো মেরেছেন, কিন্তু ধ্যাতা বিড়ালের মতো এরা তবু দল ছেড়ে যায়নি। কিসের লোভে? মালকড়ি-বাড়ি-গাড়ি? না হলে কিসের মোহ? এমন একজন লোকের সঙ্গে থাকতে থাকতে তারা যে ক্লাউনে পরিণত হয়ে গেছেন, সেটা বোঝবার ক্ষমতাও তাদের নেই। এরশাদ যেভাবে খুশি ডুগডুগি বাজান, তাদের দলে সবগুলো তেমনি করে নাচেন। রওশন এরশাদের পার্টিতে থাকা আর না থাকা নিয়ে তার কৌতুক সকল নাটককে ছাড়িয়ে গেছে। রুহল আমিন হাওলাদারকে বাদ দিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মহাসচিব করা, ফের বাবলুকে বাদ দিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব করা কোন্ নাটকের কোন অংকে পড়ে, সেটা নিয়ে ভাবতেই হয়। আপন রক্তের ভাই জিএম কাদের, যিনি জাতীয় পার্টিতে সবচেয়ে ভদ্রলোক বলে বিবেচিত, রওশনকে বাদ দিয়ে এরশাদ তাকে
কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কথা নেই, বার্তা নেই, কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ করে ভাইকে জবাই করে ফেললেন? এরশাদ ছাড়া আর কারো পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ফের রওশনকে
কো-চেয়ারম্যান এবং সংসদ উপনেতা বানিয়েছিলেন, তা নিয়ে জাতীয় পার্টির মধ্যেও কানাঘুষা চলেছে। অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে ফের রওশন এরশাদকে বাদ দিয়ে আপন ভাই জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব দিলেন, সেটা জানা দুরূহ। রওশনকে সরিয়ে জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়্যারম্যান করার পর থেকেই এরশাদ গুরুতর অসুস্থ। কিছুদিন পরেই হাসপাতালে। এখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এই কর্তৃত্ববাদী মানুষটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক বছর খাঁচায় পুরে রাখলেও সুযোগ পেলেই তিনি মাথা বের করে কামড়ে দিতে চেষ্টা করতেন। কামড়ে দেয়ার অভ্যাসটা শয্যাশায়ী হওয়ার আগপর্যন্ত তার পুরোপুরিই ছিলো, তা তার সর্বশেষ দৃষ্টান্তেও প্রমাণিত হয়েছিলো। তিনি এখন হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ-সময়ে তাঁর সম্পর্কে মূল্যায়নধর্মী কোনো লেখা লিখতে হলে নির্মোহভাবে লিখতে হবে। ৯ বছরের শাসনকালে তিনি এই দেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন, তা তার মৃত্যুর পর মূল্যায়ন করা হবে। তবে এটা নিশ্চিত, জীবিত থাকতেও যেমন তিনি জণগণের কাছে একজন স্বৈরাচারী একনায়ক হিসেবে এবং গণতন্ত্রহত্যাকারী হিশেবে বিবেচিত ছিলেন, মৃত্যুর পরও তার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না!




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]