• প্রচ্ছদ » » আ ব ম ফারুক বলেছেন,‘বিপন্ন’ বোধ করছেন তিনি, আসলে ‘বিপন্ন’ বোধ করার কথা সব গবেষকেরই


আ ব ম ফারুক বলেছেন,‘বিপন্ন’ বোধ করছেন তিনি, আসলে ‘বিপন্ন’ বোধ করার কথা সব গবেষকেরই

আমাদের নতুন সময় : 16/07/2019

আলী রীয়াজ

যে বিষয়ের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ল্যাবরেটরিতে তা নিয়ে যাওয়া হয়েছে আদালতে, যে পরীক্ষার ফল নিয়ে সরকারের করণীয় হচ্ছে গবেষককে ডেকে নিয়ে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য সরকারি গবেষণাগার উন্মুক্ত করে দেয়া সেখানে তার বিরুদ্ধে চলছে হুমকি-ধমকি ও ‘ব্যবস্থা’ নেবার তোড়জোড়, যেখানে যুক্ত করা দরকার স্বাধীন গবেষকদের, অবিলম্বে তাদের এই পরীক্ষা বারবার করার জন্য ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে স্যাম্পলগুলো বিদেশি ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে অবিলম্বে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সেখানে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে আমলাদের এবং গবেষকের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে ‘ট্রল বাহিনীকে’, যেখানে খোঁজা দরকার অতীতে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা জার্নালে এই নিয়ে করা গবেষণার ফলগুলো এবং বিবেচনা করা ওইসব ফলের সঙ্গে এর অসামঞ্জস্য আছে কিনা সেখানে হঠাৎ করে ‘পিয়ার রিভিউড’ জার্নালে কেন বের হলো না সেই নির্বোধ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের সহকর্মীদের দায়িত্ব হচ্ছে একই পরীক্ষা করে প্রমাণ করা যে এই ফল সঠিক অথবা ভুল সেখানে বিভাগীয় প্রধানরা ‘বিভাগের দায়িত্ব নেই’ বলে একটা অর্থহীন বিবৃতি দিয়ে জল ঘোলা করছেন, যে খাদ্যগুলো নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোর মান বজায় রাখতে উৎপাদকরা কী করছেন সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে দায়িত্ববানদের কাজ, তার বদলে চলছে উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের/মন্ত্রণালয়ের তর্জন-গর্জন।
এই হচ্ছে পাস্তুরিত দুগ্ধ বিষয়ে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের করা পরীক্ষার ফল নিয়ে চলমান ঘটনা প্রবাহ। যা করার তার বদলে যা করার নয় তাই করা হচ্ছে। তার করা পরীক্ষা ভুল প্রমাণ করুন, তাহলেই তো সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না। উপরন্তু এই ট্রল বাহিনী যাদের গবেষণার সামান্যতম অভিজ্ঞতা আছে কিনা সেই নিয়েই সংশয় আছে তারাও মেথোডোলজি ও এথিক্স নিয়ে লিখে যাচ্ছেন। কারণ কী সেটা বোঝা যাচ্ছে কি? কারণ কেবল এই নয় যে, তাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে, কারণ কেবল এই নয় যে, সরকারি পরীক্ষাগারের ফল প্রশ্নবিদ্ধ হলে অন্যান্য খাদ্যের মান বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, প্রশ্ন উঠবে এগুলো কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, এর মধ্যে আরেকটা বড় প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে আপনি সরকারি ভাষ্য চ্যালেঞ্জ করতে পারেন কিনা। যেটা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেই ভুল-সঠিক নির্ধারণ করা যায় সেটাই যদি চ্যালেঞ্জ করা না যায়… একেবারে হার্ড সায়েন্সের বিষয় নিয়ে যদি প্রশ্ন না করা যায় তবে আপনি সামাজিক বিজ্ঞানের অধীত বিষয় নিয়ে কীভাবে প্রশ্ন করবেন? আ ব ম ফারুক বলেছেন, তিনি ‘বিপন্ন’ বোধ করছেন, ‘বিপন্ন’ বোধ করার কথা সব গবেষকের। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]