তেল-গ্যাস ব্যবসার সাতকাহন

আমাদের নতুন সময় : 16/07/2019

সোহেল অভিতাভ

প্রায় ৩০ বছর আগে আমি যখন কাতারের রাজধানী দোহাতে বাস করতাম তখন অন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় কাতার বা দোহাকে গ্রামই বলতে হবে। এখন যারা দোহাতে যায় অথবা কাতারে বসবাস করে তাদের কাছে আমার কথা অবিশ্বাস্যই মনে হতে পারে। কাতার খুব দ্রæত উন্নতি করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ভেন্যু নির্বাচিত হয়েছে দোহা। একইসঙ্গে মোকাবেলা করছে সৌদি জোটের কঠোর এক অবরোধ। কাতারের তেল ছিলো না, গ্যাস ছিলো। গ্যাস তুললে যেটুকু তেল বের হয় সেটুকুই ছিলো সম্বল। কাতারের বর্তমান শাসক তখন তরুণ। একদিন তার বাবা যিনি তখন শাসক ছিলেন, তিনি ফ্রান্সে বেড়াতে গেলে ছেলে অভ্যুত্থান করে শাসন ক্ষমতা দখল করে নেয়। শুরু হয় কাতারের নতুন ইতিহাস। নতুন শাসক প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করলেন গবেষণায়। পৃথিবীর বড় বড় এনার্জি গবেষণা কিনে ফেললেন। অন্যরা ভাবলো ছেলেটা পাগল! সিএনজি আর এলএনজি গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলো কাতার। গ্যাস থেকে এলএনজি রূপান্তর আর সেই তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের পরিকাঠামো আবিষ্কার ও বাস্তবায়নে কাতার হয়ে উঠেছে পৃথিবীর এক নম্বর ডেস্টিনেশন!
পরিবেশ সচেতনতায় তেল পিছিয়ে পড়েছে এলএনজির কাছে। বাংলাদেশ ও কাতার থেকেই এলএনজি সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে। আমি যখন কাতারে ছিলাম তখন রাষ্ট্রায়ত্ত ‘কাতার গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি’র পরিচালনা ঠিকাদার ছিলো ‘ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম’ বিপি (যাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে তাদের সব সম্পত্তি কিনে নিয়ে তৈরি করেছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা) জিবি বিপিতে তখন পৃথিবীর সেরা সেরা হাইড্রোকার্বনিস্ট চাকরি করতো যাদের বেতন গুণতে হতো কাতার সরকারকে। সেসব মহাজ্ঞানী হাইড্রোকার্বনিস্টদের সঙ্গে আমার অনেক দহরম-মহরম গড়ে উঠে এবং ওদের উৎসাহ ও চাপে পড়ে আমাকে তেল গ্যাস ব্যবসায় ঢুকতে হয়। এনার্জি ব্যবসা তো আর ফকির ফাকরার কাজ নয়। বিষয়টা নিয়ে বুঝে উঠতে উঠতে প্রায় ১০ বছর কেটে যায়। তারপর আটঘাট বেঁধে যখন বাংলাদেশে শুরু করতে এলাম তখন স্থানীয় বিনিয়োগকারী বা পার্টনারের প্রয়োজন পড়লো। একজন শিল্পপতি ও একজন অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত উৎসাহী হলেন আমার পার্টনার হতে। প্রতিযোগিতায় শিল্পপতি টিকে গেলেন। তৈরি করা হলো বাংলাদেশের প্রথম ইন্ডেজিনিয়াস অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানি। নাম দেয়া হলো ‘এনার্জিইস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড’। কোম্পানির লোগো তৈরি করে দিলো বর্তমানের বিখ্যাত ইন্টেরিয়র, গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। তারপর হিং টিং ছট… আজ এসব মনে পড়লো হঠাৎ করে গড়াই সভ্যতার এক কর্পোরেট পেশাজীবীর সঙ্গে ফেসবুকে দেখা হয়ে কথা হলো বলে। আর লালনের গানের কলি ভেসে এলো… দিন থাকিতে দিনের মর্ম কেন বুঝলে না… সময় গেলে সাধন হবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]