ভারত ও নেপালে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি নিহত শতাধিক, আসামে পানিবন্দি ১০ লাখ মানুষ, নেপালে নিহত ৬৫

আমাদের নতুন সময় : 16/07/2019

নূর মাজিদ : চলতি জুলাইয়ের মৌসুমি বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে এখন পর্যন্ত শতাশিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বন্যা কবলিত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। নেপালেই বেশি প্রাণহানি হয়েছে। প্রবল বর্ষণজনিত বন্যা এবং ভূমিধসে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী দেশটিতে ৬৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো ৩৫জন। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।

দেশটির উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়া উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত করছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়কগুলো ভেঙ্গে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে টেলিফোন লাইন। যার কারণে উদ্ধারকর্মীদের আরো বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নেপালে বন্যা ১০ হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি আরো অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পানির উচ্চতা বাড়লে আরো উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ ।

ভারী বৃষ্টি উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করছে। আসামের রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৫ জন মারা গেছেন, নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বন্যা কবলিত হয়েছেন ১০ লাখ মানুষ।

এই বিষয়ে রাজ্যটির একটি গ্রামীণ স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ বলেন, আসামের অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলের কোন কোন স্থান ২ দশমিক ২ মিটার পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে গেছে। রাজ্যের শত শত গ্রাম এই বন্যার কবলে পড়েছে।  তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্গত এলাকার পরিমাণও বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখানে বৃষ্টির ধরনও বদলেছে বিগত এক দশকে। তাই এই মুহূর্তে আগাম কোন ধারণা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।’

উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন মেঘালয়, সিকিম, মিজোরাম এবং বিহারেও বৃষ্টির কারণে বন্যা এবং ভূমিধবস হয়েছে। মিজোরামের ছোট্ট ট¬াবুং শহরে প্রায় ৪০০ বাড়ি তলিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সময় বজ্রপাতের কারণে গত শনিবার পর্যন্ত ১৪-১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে এই তথ্য জানানো হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, বন্যায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে তাদের বাড়িঘর ।

বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকায় আশ্রিত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ভারী বৃষ্টি এবং বন্যায় মানবিক সংকটে পড়তে পারে, বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক সহায়তা সংস্থাগুলো।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]