• প্রচ্ছদ » » শেয়ারবাজারকে ‘শেয়ারবাজার’ না বলে, লুণ্ঠনবাজার বলাই শ্রেয়


শেয়ারবাজারকে ‘শেয়ারবাজার’ না বলে, লুণ্ঠনবাজার বলাই শ্রেয়

আমাদের নতুন সময় : 16/07/2019

মুনশি জাকির হোসেন

এনটিভিতে এক দর্শক ফোন করে বলছেন, তিনি শেয়ারবাজারে ৬৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, এখন তার ৬ লাখ টাকা আছে। ৬০ লাখ টাকা গত ৮ বছরে শেষ। কয়েক লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী এভাবে সর্বশান্ত হয়েছেন, এখনো হচ্ছেন। এটিকে শেয়ারবাজার না বলে লুণ্ঠন বাজার বলাই শ্রেয়! কীভাবে দিনের আলোতে এই ডাকাতি চলছে? এগুলো চলছে আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই! আপনার একটি ছোটখাটো ব্যবসা আছে, বড়জোর ৫০০ কোটি টাকার আঁকার হবে! এখন আপনি এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দিয়ে বাংলাদেশ শেয়ারবাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করতে পারবেন! কীভাবে করবেন? শুরুতে শিক্ষিত কিছু চার্টাড একাউন্টেট খুঁজবেন, তাদের পেছনে ১০ কোটি টাকা খরচ করবেন! তারা ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসাকে ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা বানানোর সকল কাগজ তৈরি করে দেবে। কোম্পানি করে সেটি লাভজনক ঘোষণা করবেন, সামনে ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে দেবেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কোম্পানির সম্পত্তির মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা দেখাবে! এবার ওই সকল ভুয়া কাগজপত্র শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেবেন, সাথে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দেবেন। কর্তৃপক্ষ আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল ভুয়া কাগজপত্র, হিসাবপত্র সঠিক বলে ঘোষণা দেবে। এর পরে ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক শেয়ার, আইপিও এর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা তোলার অনুমতি দেবে!
জনগণের কাছ থেকে প্রাথমিক শেয়ারের মাধ্যমে ডাকাতি করার পর দ্বিতীয় ধাপে ডাকাতির আয়োজন চলে। প্রথম বছরে আবারো ভুয়া কাগজ তৈরি করে, কোম্পানিকে লাভজনক দেখিয়ে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস শেয়ার দিয়ে এবার রাইট শেয়ার ইস্যু করার জন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন করে। আবারও ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে রাইট শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি লাভ করে। ৫০০ কোটি টাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ৩ বছরে শেয়ারবাজার থেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রাথমিক শেয়ার এবং রাইট শেয়ারের মাধ্যমে দুই ধাপে ১০ হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করে নিলো! এখানে ঘুষ বাবদ খরচ বড় জোর ১ হাজার কোটি টাকা। লাভ ৯ হাজার কোটি টাকা। এর পরেই আসল খেলা শুরু। তৃতীয় বছরেই কোম্পানির পরিচালকগণ নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে ৫০ থেকে ১০ শতাংশে নামাতে থাকে! কোম্পানি লোকসানে যেতে থাকে। আর বোনাস দিতে পারে না। জনগনের ১০ হাজার কোটি টাকার শেয়ারের দাম চলে আসে ১০ হাজার টাকায়। এভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬৬ লাখ টাকার পুঁজি ৬ লাখ টাকায় নেমে আসছে। সরকারের পক্ষে একদল চামার, চাটার দল আছে যারা জনগণকে না বুঝে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য সাধারণ জনগণকে গালাগাল করে। এই সকল ইতরের দল ডাকাতির আসল চিত্র হয় ধরতে পারেনি, না হয় বুঝেও না বোঝার ভান করে! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]