• প্রচ্ছদ » সাবলিড » নেতাকর্মীদের দাবির মুখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রংপুরে সমাহিত হলেন এরশাদ


নেতাকর্মীদের দাবির মুখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রংপুরে সমাহিত হলেন এরশাদ

আমাদের নতুন সময় : 17/07/2019

ইউসুফ বাচ্চু ও মোস্তাফিজার বাবলু : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রংপুরে তার নিজবাড়ী পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে বাবার কবরের পাশে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এসময় ভাই জি এম কাদের, ছেলে শাদ এরশাদসহ আত্মীয়-স্বজন এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শেষ জানাজা ও দাফনে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জামেল হক উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে জাতীয় ও সামরিক পতাকায় মোড়ানো এরশাদের কফিন নিয়ে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসে অবতরণ করে। দুপুর ১২টার পর রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ ও শেষ জানাজার জন্য এরশাদের মরদেহ আনা হয়। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ জানাজায় শরিক হয়। জানাজার মধ্যেই রংপুরে এরশাদের দাফনের দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মি হট্টগোল শুরু করে।

জানাজার আগে বক্তৃতায় মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা রংপুরে এরশাদের দাফনের দাবি আবারও তোলেন। এরপর জি এম কাদের বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু তার বক্তব্যের মাঝেই দাফনের বিষয়টি উল্লেখ করে স্লোগান শুরু হয়। বেলা ২টা ২৫ মিনিটে এরশাদের জানাজা শুরু হয়। জানাজার পর শত শত কর্মী এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি ঘিরে ধরেন। তারা রংপুরে কবর দেওয়ার দাবি জানান। গাড়িটিতে ছিলেন মেয়র মোস্তাফিজার। ময়দানে মাইক থেকে তার প্রতি আহ্বান জানানো হয়, মরদেহ যেন রংপুর থেকে ঢাকায় না যায়। এ পরিস্থিতিতে বেলা তিনটার দিকে এরশাদের মরদেহ শহরে তার বাড়ি পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়। এরপর সেখানেই দাফন করার ঘোষণা দেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, এরশাদকে রংপুরে দাফন করার ব্যাপারে ঢাকায় যারা আছেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা সম্মতি দিয়েছেন বলে আমি এ সিদ্ধান্তের কথা জানালাম।

জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতাবোধকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ। এরশাদের কবরের পাশে তার জন্য কবরের জন্য জায়গা রাখতেও অনুরোধ জানিয়েছেন রওশন।

দাফনকার্য পরিচালনা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরশাদের মৃত্যুর আগে ও পড়ে তার দাফন নিয়ে মতবিরোধে পড়ে তার দল ও পরিবার। রংপুরে লাশ নেয়ার আগে পর্যন্ত পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিলো ঢাকায় সেনা কবরস্থানে দাফন করার কথা বলা হয়েছিল পরিবার থেকে। সে অনুযায়ী ঢাকায় সামরিক কবরস্থানেও এরশাদের জন্য কবর খনন করা হয়। তবে রংপুরের নেতাকর্মীরা এরশাদকে দাফনের জন্য তার পল্লী নিবাসে কবর খনন করেন।  দাফনের আগে এরশাদপুত্র স্বাদ তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে, এরশাদের মরদেহ দেখতে সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ওই ঈদগাহ ময়দানে সামনে ভিড় জমায়। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন। এরপর, সকল জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেতা কর্মীদের ব্যারিকেট বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে এরশাদের লাশবাহী গাড়ী নেওয়া হয় পল্লী নিবাসে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]