• প্রচ্ছদ » » ‘পুরুষালি’ সর্বদা স্ট্যান্ডার্ড, তা মানতে হবে কেন?


‘পুরুষালি’ সর্বদা স্ট্যান্ডার্ড, তা মানতে হবে কেন?

আমাদের নতুন সময় : 18/07/2019

মোজাফফ্র হোসেন

পুরুষ চরিত্রপ্রধান গল্প লেখা আর পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা আলাদা বিষয়। শত শত বছর ধরে শিল্প-সাহিত্যে নারী নির্মিতি হয়েছে পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে। চিপিউয়া এলডাল বলছেন… অন্য কেউ আপনার গল্পের ভাষ্যকার হলে আপনার গল্পটি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হবে। এই কারণে কানাডীয় নারীবাদী লেখক মারগারেট অ্যাটউডকে বলতে শুনি আমি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্বাস করি না। আমি নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে লিখতে চাই।
নারীরা এক অর্থে পুরুষের কলোনাইজড, আরেক অর্থে সাবঅলটার্ন। ফলে নারীকে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজস্ব ন্যারেটিভ নির্মাণ করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলছেন : ডযধঃ রং ধ চড়বঃ? ঐব রং ধ সধহ ংঢ়বধশরহম ঃড় সবহ, সাহিত্যের ঐতিহ্য থেকে এ রকম শত শত উদাহরণ দেয়া যাবে যেখানে শিল্প বা সাহিত্য সৃষ্টি ও চর্চা পুরুষের একান্ত কাজ হিসেবে ধরে নেয়া হতো। ফলে নতুন করে এখন নারীদের একটা সাহিত্যিক-ঐতিহ্য তৈরি করতে হচ্ছে। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ান নারীবাদী লেখক ডেল স্পেনডার তার গড়ঃযবৎং ড়ভ ঃযব ঘড়াবষ বইতে বলছেন, রঃ রং হড়ঃ হবপবংংধৎু ঃড় রহাবহঃ ধ ষরঃবৎধৎু ঃৎধফরঃরড়হ ভড়ৎ ড়িসবহ, ড়হষু ঃড় ৎবৎিরঃব ঃযব ৎবপড়ৎফং ধহফ ঃড় ঢ়ঁঃ রহ যিধঃ সবহ যধাব ষবভঃ ড়ঁঃ. এই বইতে ডেল দেখাচ্ছেন যে, জেন অস্টিনের আগে উল্লেখ করার মতো একশজন নারী ঔপন্যাসিক এসেছেন। কিন্তু সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক পুরুষ হওয়ার কারণে এবং সাহিত্যের ইতিহাস পুরুষদের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখার ফলে এসব লেখক হারিয়ে গেছেন। আমরা জানি বাংলায় উনিশ শতকের শুরুতে নারীরা এখনকার মতো গদ্য লিখতেন না। তারা বিভিন্ন সাময়িকীতে পত্রাকারে নিজের একান্ত অনুভ‚তির কথা লিখতেন। তাও অবশ্য সব কাগজে লিখতে পারতেন না। হিন্দু ‘ভদ্রজন’ দ্বারা সম্পাদিত কাগজে নারীরা লিখতে পারতেন না। ‘সমাচার-দর্পণে’ লিখতে পারতেন কারণ সেটি ছিলো মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত। আর লিখতে পারতেন ‘সম্বাদ-কৌমুদী’তে, কারণ সেটির পেছনে ছিলেন রামমোহন রায়ের মতো প্রগ্রেসিভ ভারতীয়। ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকায়ও লিখতে পারতেন। কয়েকটি লেখা (পত্র) প্রকাশিত হয়েছে সোমপ্রকাশেও। তবে সেসময় নারীদের লেখার আরেক যন্ত্রণা ছিলো স্বনামে তারা লিখতে পারতেন না। নানা ছদ্মনামে লিখতেন। যে কারণে এখনো অনেক লেখার প্রকৃত লেখকের নাম বা পরিচয় পাওয়া যায়নি। সাহিত্যের ইতিহাসে তাদের নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। আমি আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চাই, ঃযব ষধহমঁধমব ড়ভ ষরঃবৎধৎু যরংঃড়ৎু রং সধহ-সধফব, ধহফ ঃযব ড়ৎফবৎ রঃ রসঢ়ড়ংবং ড়হ ঃযব ঢ়ধংঃ ধ সধষব পড়হংঃৎঁপঃ. এই কারণে এখন একজন নারী লেখকের ভালো লেখাটাই কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়, নারীদের নিজস্ব সাহিত্যের ট্রাডিশন তৈরিতে অবদান রাখতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বটে। এই যে নারীদের স্বকীয় ভাষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের ছলে বলা হয় মেয়েদের গদ্য মেয়েলি এবং মেয়েরাও চেষ্টা করেছেন এই মেয়েলি গদ্য থেকে বের হয়ে পুরুষ সমালোচকীয় দৃষ্টিতে উৎরে যেতে। পুরুষের ভাষায় আমি লিখবো কেন? এই প্রশ্ন ক’জন করতে পেরেছেন! সাহিত্যে ভাষা দু’রকমের। ভালো এবং মন্দ। এটা শিল্পের বিচারে। কিন্তু জেন্ডার রাজনীতিতে শিল্পের ভাষা আরও দু’ধরনের। পুরুষের ভাষা এবং নারীর ভাষা। নারীর গদ্যভাষার অনন্য উদাহরণ হতে পারে ভার্জিনিয়া উলফ-কেট শপা-শার্লট পারকিনস গিলম্যান-উইলা ক্যাথারসহ আরও অনেকে। নারীদের সাহিত্য ভাষার সমস্যা হলো ভাষাটা তৈরি নয় নানা দিক থেকে। যেমন : আমি মনে করি নারী লেখকদের যৌনতার ভাষা এখনো তৈরি হয়নি। কারণ এখনো সাহিত্যে নায়িকার রূপের যে বর্ণনা থাকে, সেটা পুরুষের দেখা দৃষ্টিতে। পুরুষের ফ্যান্টাসি দিয়ে গড়া সাহিত্যের অধিকাংশ নায়িকারা। মধ্যযুগের সাহিত্যে আলাওল বা জায়সির কল্পনায় পদ্মাবতীর রূপটি কেমন? সুচারু নিতম্ব অতি ধরে নিতম্বিনী।/করিবর কুম্ভ জিনি সুন্দর বলনি।/নাভি অধঃস্থলে পুনি ত্রিজ গমোহন।/উচিত কহিতে লাজ অকথ্য কথন।
আধুনিক সাহিত্যে এসে ভাষাটা বদলেছে, দৃষ্টিভঙ্গির বদল ঘটেনি। ফলে নায়িকার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় ঘটিয়ে দিতে তার গায়ের রং, বুক কেমন, সুনিতম্বিনী কিনা এগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করেন লেখক, কিন্তু নায়কের কোনো শারীরিক বর্ণনা আমরা পাই না। যৌনতার ক্ষেত্রে নারীরা এখনো সাহিত্যে সাবমিসিব। এটা একটা দিক। এমন আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মোটের উপর কথা হলো সাহিত্যে ‘মেয়েদের গদ্য মেয়েলি, এটা দুর্বল’, এই ধরনের কথা বলা একটা জেন্ডার পলিটিক্স। ‘মেয়েলি’ বলে সুন্দরও তো হতে পারে। ‘পুরুষালি’ সর্বদা স্টান্ডার্ড এটা মানতে হবে কেন? আপনাদের কি মত? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]omoy.com