অনুগল্প : অন্য আমি

আমাদের নতুন সময় : 20/07/2019

চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী

কবিতার কথারা আজ খুব অস্থির, আজ আর তারা মাখবে না রূপের সৌরভ, খাতাটা তাই আজ বন্ধই থাক। অনেক ম্যাসেজভর্তি সলফোনটা খাতার পাশেই পড়ে আছে। শুকনো নিমডালটায় বসে দোয়েলটা সমানেই ডেকেই চলেছে, সেও বড় একা। রবীন্দ্র রচনাবলী টেবিলের ওপর শুয়ে, উপচে পড়া অ্যাশট্রের দিকে চেয়ে আছে। সেলফোনের ম্যাসেজগুলো পড়তে ইচ্ছা করছে খুব। কিন্তু কী হবে, আবার পড়বো, আবার তাতে আমার নিজের মতো করে বিশ্বাসের রঙ চড়াবো। তার থেকে এই বেশ, পড়বো না ম্যাসেজ। তেইশটা মিসড কল, আত্মবিশ্লেষণের কী প্রবল ইচ্ছে! আমার লাল নখরঞ্জনীর ফাঁকে এখন ধরা জ্বলন্ত সিগারেট। আজ আমি নিজের মতোই থাকি, স্বতন্ত্র, ওই রবীন্দ্র রচনাবলীর মতো, বারবার পড়ার পরেও যে চিরনতুন । ও সব আজ থাক পড়ে, আমার যে আছে মস্ত খোলা আকাশ, একটা গেরুয়া বিকেল, বেগুনী সন্ধ্যা আর আছে একঝাঁক জটলাবাঁধা পাখি। দলছুট হয়ে যাওয়া একটা পাখি এসে বলেÑ
‘এই মেয়েটা, মুখ লুকিয়ে তুমি কি খুব কাঁদছো?” “উহু, ভুলে গেছি সে-সব আমি, না হলে কীে করে বাঁচবো? “তা হলে ঝড়ের দিকে পেছন ফিরে কেন উদাস হয়ে তাকাও?”“আমাকে ছুঁয়ে কোথায় যেন চলে যাচ্ছে বাতাস।” “তুমি বলেছিলে, দেখো, নদী সারারাত জেগে থাকে, পিছলে যাওয়া চাঁদ, তারার অকৃপণ আলোয় হিম শরীরে ভাসিয়ে রেখে। আমি দেখেছিলাম তোমার চিবুক, কথার ভাঁজে উঠে আসা নাম।” সেদিনও রাত সেজেছিলো আধো-আলোয় । চাঁদ বললো, “এই মেয়ে-জোনাকি, পাঠিয়ে দিলাম তোমায়, একটা একটা করে আলো খুঁটে নিও তোমার নিজের করে, ওরাই আমাকে পৌঁছে দেবে তোমার কাছে। আমি দেখেছিলাম তোমার রসালো ঠোঁটের কাঁপন কোথায় গিয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে আছে। আবার সেলফোনের রিংটোন বেজে ওঠে, বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। চব্বিশটা মিসড কল, আর উপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না। একবার বললাম, “শুধু তোমাকেই ভালোবাসি আমি, নতুন করে প্রাণের সঞ্চয়, যেন আমার মধ্যেই আর এক আমি।”




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]