• প্রচ্ছদ » » আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম দেবনাথ মিন্নিকে শাস্তি দিতে এতো তৎপর কেন?


আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম দেবনাথ মিন্নিকে শাস্তি দিতে এতো তৎপর কেন?

আমাদের নতুন সময় : 20/07/2019

সারওয়ার তুষার

বরগুনার রিফাত হত্যা মামলাটা পুলিশ শুরুই করেছে প্রধান আসামি নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে। এরপর দৃশ্যপটে হঠাৎ (নাকি প্রত্যাশিত?) আবির্ভাব ঘটেছে নয়ন বন্ডের গডফাদার, স্থানীয় এমপিপুত্র ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের। তিনি এই মামলার ক্ষেত্রে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নির দিকে সব মনোযোগ ঘোরাতে সক্ষম হয়েছেন। রিফাতের বাবাকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করিয়েছেন, নয়ন বন্ডের মাকে দিয়ে বিবৃতি দিইয়েছেন। ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে মানববন্ধন করে মিন্নির গ্রেপ্তার ও শাস্তি জানিয়েছেন। এরপর পুলিশ বুঝতে সক্ষম হয়েছে কোনদিকে তৎপর হতে হবে। মিন্নিকে সাক্ষী হিসেবে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা মানসিক নির্যাতন করে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম দেবনাথ মিন্নিকে শাস্তি দিতে এতো তৎপর কেন?
নয়ন বন্ডকে যেভাবে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে খুন করা হলো এবং নয়ন বন্ড কীভাবে ‘০০৭’র নয়ন বন্ড’ হয়ে উঠলো এটা যদি একটু খেয়াল করা যায়, তাহলেই স্পষ্ট হবে। নয়ন বন্ড জীবিত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া ফেস করলে অবধারিতভাবে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের নাম বেরিয়ে আসতো। কারণ তার এবং সম্ভবত স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বড় একটা অংশের ছত্রছায়ায় নয়ন বন্ড পুলিশের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করে বেড়াতো। এজন্যই বেশ কয়েকবার তাকে আটক করা হলেও ‘কোনো এক অজ্ঞাত কারণে’ সে বারবারই ছাড়া পেয়ে গেছে। ফলে তার ধারণা হয়েছে, বরগুনা মুল্লুকে সে, মানে নয়ন বন্ড, সব ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেউ তার টিকিটিও ধরতে পারবে না। কিন্তু নয়ন বন্ডরা জানে না, তাদের তৈরিই করা হয় খরচের খাতায় সম্ভাব্য একটা নাম হিসেবে ধরে নিয়ে। যতোদিন সম্ভব নয়ন বন্ড রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ফিল্ড মার্শাল হয়ে থাকবে, এরপর যখনই গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দেয়ার মতো কোনো হত্যাকাÐ ঘটবে এবং নয়ন বন্ডদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা থাকবে, তখনই নয়ন বন্ডদের নিয়ে পুলিশ ‘অস্ত্র উদ্ধারে যাবে’।
আরিফ আর হোসাইনরা খুশি হবেন। বলবেন আগের সব ক্রসফায়ার ‘গ্রহণযোগ্য’ হয়ে গেলো। জাফর ইকবালরা ‘বিভ্রান্ত’ হয়ে যাবেন। অপরাধের অসহনীয় মাত্রা তাদের আর আগের মতো ক্রসফায়ার নিয়ে বিচলিত করবে না। তাদের গা সওয়া হয়ে যাবে। আইনের শাসনের সমান্তরাল এই ক্রসফায়ার-এনকাউন্টারের লুপহোলের যোগসূত্র খোদ এই রাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে। বিদ্যমান রাজনীতি ক্রসফায়ারের ধারক ও বাহক। অপরাধ-সহিংসতার সূতিকাগার বিদ্যমান রাজনীতি মানুষের মধ্যে সহিংসতাজনিত ভয়-ক্ষোভ-অসহায়ত্ব এমন স্তরে নিয়ে গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে ক্রসফায়ারই সমাধান। কিন্তু ক্রসফায়ার আসলে বিদ্যমান রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটা টুল ছাড়া আর কিছু নয়।
নয়ন বন্ডদের ছাড়া এই রাজনীতির কোনো গতি নেই। নিজেদের প্রয়োজনেই নয়ন বন্ডদের তৈরি করে এই তথাকথিত ‘মূলধারার’ রাজনীতি। তারপর বেপরোয়া হতে হতে একের পর এক অপরাধ করেও পার পেতে পেতে নয়ন বন্ডরা ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে। তারপর রিফাত হত্যার মতো এমন দেশজুড়ে আলোচিত হত্যাকাÐ ঘটানোর পর যখন নয়নবন্ডদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে সবার নজর যেতে শুরু করবে তখনই ক্রসফায়ার। সাধারণ মানুষ খুশি, সন্ত্রাসীর জন্য কোনো বিচার দরকার নেই। বুদ্ধিজীবীরা ‘বিভ্রান্ত’। কিন্তু আসলে মূল যেটা ঘটার সেটাই ঘটছে। সহিংসতার উপর টিকে থাকা রাজনীতির দিকে আর আমজনতার নজর গেলো না। তারা বুঝতে বুঝতেও বুঝতে পারলো না খোদ এই সহিংস রাজনীতির গোড়া ধরে কথা বলতে না পারলে, মিন্নিরা বলির পাঠা হতেই থাকবে, এক নয়ন বন্ডের শূন্যস্থান আরেক নয়ন বন্ড দিয়ে পূরণ করা হবে। কিংবা হয়তো বুঝতে পেরেও তাদের কাছে কোনো আপাত সমাধান নেই। কবরের নিস্তব্ধতার মধ্যেই হয়তো স্ফুলিঙ্গের শর্ত তৈরি হওয়ার অপেক্ষায় আছে… ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]