• প্রচ্ছদ » » মানুষের বিশ^াস, প্রেম-ভালোবাসা, যৌনতা এবং যাপিতজীবন


মানুষের বিশ^াস, প্রেম-ভালোবাসা, যৌনতা এবং যাপিতজীবন

আমাদের নতুন সময় : 20/07/2019

কারও কোনো অল্প-বিস্তর বিশ্বাস করা পন্থায় যদি আঘাত লাগে, তবে সে বিশ্বাস দ্বিগুণ তিনগুণ চৌগুণ হয় বেড়ে। তাতে পুশ করে জীবনের না পাওয়া, বিবাদ, অশান্তি আর বিভ্রাটও। যেকোনো আলতো বিশ্বাসে অথবা ধরা যাক কেউ একজন মনে মনে নতুনভাবে ধারণা করছে ওই পথটা ঠিকঠাক, এই ইজমের অনেকটাই বেশ কার্যকর। তারপর সে সেই ভাবনা লোকের সঙ্গে শেয়ার করলো। সাপোজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই। ঠিক তখন থেকেই তার সঙ্গে ওই ইজমের একটা লেবেল অলিখিত জুড়ে যায়। তারপর থেকে যেকোনো (অনলাইন ভিত্তিক, অনেক ক্ষেত্রে অফ লাইনেও) তর্কে, সমালোচনায় তার গায়ে সাঁটানো লেবেল ধরে ধরে তারে সম্বোধন করতে থাকা হয় এবং সেটা ব্যঙ্গার্থেই বেশি। যেমন : মাদ্রাসার ইসলামী সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী হলে তারে ‘পোঁদ মারা খাওয়া’ দিয়ে খোঁচানো হবে। হিন্দুত্ববাদে কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বাসী হলে তাকে ‘মুতের চিকিৎসা নেয়া চাড্ডি’ ডাকা হবে। রেড সাইডের সঙ্গে কোনো জায়গায় সহমত হলে তাকে ‘মাওয়ের পোঁদ চাটা এলিট’ ডাকা হবে ইত্যাদি। তাতে কী হয়, তাদের ওই বিশ্বাসের ভিত্তিটা, একগুঁয়ে সমর্থনটা বেড়ে গিয়ে দশগুণ হয়। ওই দেখতে পাওয়া পথই ঠিক, সেটা সে তখন শক্তি খরচ করে, বল দিয়ে বলতে থাকে জানাতে থাকে। নিজে কতোটা বিশ্বাস আছে ওই পন্থায়, তার থেকে বেশি তখন মেটার করে লোককে বোঝানো যে, আমি শতভাগ ওই দিকেই আছি। এই পথই সঠিক। আমি তার একনিষ্ঠ সমর্থক। তর্কের স্পৃহা মাত্রা ছাড়িয়ে অনেক সময় উগ্রতায় রূপ নেয়। কম ক্ষেত্রে কল্যাণেও আসে, সেটা পরিস্থিতি আর কোন ইজম, তার উপর নির্ভর করে। তারপর বাস্তব জীবনের বিভ্রাট ব্যক্তিকে কী করে ওই পথের স্বল্পতম সমর্থন আরও উসকে দিয়ে বাড়িয়ে দেয়।
অনলাইনে জীবনের সঙ্গে সঙ্গেই তো বাস্তব চলে। মা-বাবার সঙ্গে বনিবনা না হওয়া, চাকরি সমস্যা, আর্থিক অশান্তি, প্রেম ঘটিত ছ্যাঁকা, ভালোবাসার অভাব, যৌন সম্পর্কের অভাব, পরিবার আর সমাজের অন্যান্য চাপ ইত্যাদিতে তেতে পুড়ে লোকে নিজেকে যেদিকে সর্বোচ্চ শক্তিতে রাগ-ক্ষোভ নিয়ে ঢেলে দিতে পারলে শান্তি পায়, ওই দিকেই যেতে থাকে। ওই দিক অবলম্বন করে হয় সব কিছুই ভেঙে গুঁড়িয়ে চৌচির করে দিতে ইচ্ছে করবে, নইলে ‘ভালো’ করতে উঠেপড়ে লাগতে ইচ্ছা করবে। প্রথমটাই হয় বেশি। ভালো করার স্পৃহাও আসে, তা পরিস্থিতি আর ওই ইজমনির্ভর, আগেই বলেছি। মানে, কারও কোনো পন্থার প্রতি উগ্রতর সমর্থন, তা ইনক্রিজিংলি বাড়তে থাকা, ইত্যাদি তার নিজের এবং চারপাশের ভালো করছে না খারাপ করছে, তিনি নিজেও অনেক সময় বুঝতে পারেন না। মোদ্দা কথা মন আর শরীর সর্বস্ব শক্তি নিয়ে ধাবিত হতে থাকবে। অভ্যন্তরীণ ফুঁসে উঠা শক্তি ক্ষয় করতে, ক্রোধ মেটাতে অজান্তে বয়েই যেতে থাকে ব্যক্তি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]