• প্রচ্ছদ » » মিন্নি অপরাধী কিনা দেশের আইন-আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে, তবে আমাদের অবস্থান আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগ


মিন্নি অপরাধী কিনা দেশের আইন-আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে, তবে আমাদের অবস্থান আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগ

আমাদের নতুন সময় : 20/07/2019

মুনশি জাকির হোসেন

অনেকেরই অজ্ঞতাজনিত ধারণা হচ্ছে, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জন্য কথা বলার অর্থই মিন্নিকে দায়মুক্তি দেয়া। মিন্নি মেয়ে। এই জন্য মিন্নির অপরাধ লঘু করার চেষ্টা। তাদের জন্য সরাসরি উত্তর হচ্ছে, মিন্নি অপরাধী কি অপরাধী না সেটি দেশের আইন-আদালতের মাধ্যমেই প্রমাণিত/নির্ধারিত হবে। তাহলে আমাদের অবস্থান কী? অবস্থান যথেষ্ট পরিষ্কারÑ আইনের, আদালতের স্বাভাবিক প্রয়োগ। মিন্নির ঘটনায় সেই স্বাভাবিক গতি তো নেই-ই। উল্টো অপপ্রয়োগ, অপকৌশল, অপপ্রচার সব কিছুই হচ্ছে। বরগুনা জেলা আদালতের একজন আইনজীবীও মিন্নির পক্ষে আদালতে উপস্থিত হননি! অথচ আইনি সেবা পাওয়া প্রত্যেকেরই সাংবিধানিক অধিকার। এটি দেখে অনেকের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা মনে হতে পারে। আসলে এটি হবে আইনজীবীদের উপস্থিত হতে দেয়া হয়নি। পরিস্থিতি কতোটা খারাপ হলে, কতোটা প্রতিক‚ল হলে, গডফাদারদের দৌরাত্ম্য কতোটা বিস্তৃত হলে এটি সম্ভব।
একটি সোজা প্রসঙ্গ আনছি, এই মেয়ে মন্ত্রী/এমপির/শিল্পপতির মেয়ে হলে আপনার অবস্থান কি হতো? থানা, পুলিশ, আইন, আইনজীবী, আদালতের ভ‚মিকা কি হতো? কতোটা বেপরোয়া হলে একটি সাধারণ মেয়ের গ্রেপ্তারের জন্য সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হতে পারে। একটি জেলা শহরে, বিভিন্ন কারণে কয়েকজনের পূর্বাপর যোগাযোগ, কথোপকথন, কথিত ভিডিওর বডি ল্যাংগুয়েজ, সাইন ল্যাংগুয়েজকে একটি হত্যাকাÐের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এগুলো ফৌজদারি মামলাতে কতোটা ভিত্তিহীন সেটি যারা ফৌজদারি আইন, আদালত সম্পর্কে অবগত তারা ছাড়া বাইরের কেউ তেমন বুঝবে না। কারণ নবুড়হফ ৎবধংড়হধনষব ফড়ঁনঃ ঃযবড়ৎু-এর বাইরে আদালতে সাজা দেয়া সম্ভব নয়’ এখানে স্পেকুলেশনের কোনোও মূল্য নেই। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে একটি হত্যাকাÐের ২০ দিন পরে এসে পুলিশ মোবাইলের কল লিস্ট, ফেসবুকের আলাপ, ছবি, বডি ল্যাংগুয়েজকে প্রাসঙ্গিক মনে করছে। যেখানে প্রধানতম সাক্ষীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। মূলত এই মামলা এখানেই শেষ। এগুলো হচ্ছে একটি কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক, পছন্দমতো একটি গল্প তৈরি করা। যে গল্পের প্রতি এদেশের অধিকাংশ মানুষের ভীষণ আগ্রহ থাকে। মিন্নির বিষয় একটি উপলক্ষ মাত্র। আমাদের মূল বক্তব্য হলো আইনের শাসন, আইনের প্রভাবমুক্ত প্রয়োগ, পুলিশের নিরপেক্ষ আচরণ। অদৃশ্য ক্ষমতা, মন্ত্রী, এমপি, গডফাদারদের প্রভাব থেকে দেশের পুলিশ, আইন, আদালতকে রক্ষা করা। আইনকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেয়া। নুসরাতের পুড়িয়ে মারার ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি হস্তক্ষেপ না করলে মেয়েটিকে চরিত্রহীন বানিয়ে দেয়া হতো। তখন এই বক্তব্যকে আমার তেমন পছন্দ হয়নি। কারণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কেন এই সাধারণ বিষয়ে কথা বলবেন। আজকে মিন্নির ঘটনায় সেটির প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাচ্ছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]