• প্রচ্ছদ » » এতো বহুরূপী দস্যু নিয়ে আমরা কীভাবে উন্নত দাবি করবো?


এতো বহুরূপী দস্যু নিয়ে আমরা কীভাবে উন্নত দাবি করবো?

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বড়রা আমাদের অনেক দস্যুর কল্প কাহিনি শোনাতো। সাধারণত এসব দস্যু বনে-জঙ্গলে থাকতো বলে গল্পে আমাদের বলা হতো। আমরা আঁৎকে উঠতাম ওইসব দস্যুর ডাকাতির ঘটনা শুনে। তারা টাকা পয়সা লুটপাত করতো, মানুষকে মারধর করতো, বেঁধে রেখে উধাও হয়ে যেতো। বলা হতো গভীর বনে তাদের গোপন কক্ষ থাকতো সেখানেই তারা নিভৃত্তে থাকতো। যখনই তাদের টাকা পয়সার দরকার হতো তখনই তারা বের হয়ে আসতো, তাদের ডাকাতির জন্য মানুষ খুঁজতো। একইভাবে দস্যুরা লুটপাট করে উধাও হয়ে যেতো। এ ধরনের ঘটনা নিয়েই অনেক কাহিনি আমাদের দেশে অনেকেইএরপর পৃষ্ঠা ৭, সারি

(শেষ পৃষ্ঠার পর)   লিখেছেন। সেসব দস্যু বনহুরের কাহিনি পড়ে অনেক শিক্ষার্থী তাদের পাঠের অভ্যাস শুরু করতো।

পৃথিবীর অনেক দেশেই দস্যুকে কেন্দ্র করে অনেক কাহিনি রচিত হয়েছে। শুধু বনের দস্যুই নয়, জলের দস্যুও মানুষকে নিঃসঙ্গ করতো। মধ্যযুগে স্থলপথে মানুষ যাতায়াত করতে পারতো না। সে কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নৌকাযোগেই চলাচল করতো। সেখানেই জলদস্যুদের সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ হতো। জলদস্যুরা সবকিছুই লুটেপুটে নিয়ে চলে যেতো। আটলান্টিক মহাসাগরের অসংখ্য জলদস্যুর বিচরণ ছিলো। তাদের নিয়ে মানুষের ভয়ও ছিলো। তারা অতর্কিত হামলা করে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যেতো। এসব জলদস্যুরা একসময় অনেক বেশি শক্তি সঞ্চয় করে সমুদ্রে বড় বড় লুটপাটের অভিযান পরিচালনা করতো। তাদের জাহাজ, নাবিক, বন্দুক, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি সবই ছিলো। এমনকি ভৌগোলিক আবিষ্কারে যখন অনেকেই এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে নৌবহর নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছিলেন তখনও অনেক জলদস্যু সেসব অভিযানে কখনো কখনো বাধা দিয়েছিলো আবার কোনো কোনো জলদস্যু এতোটাই শক্তি সঞ্চয় করেছিলো যে, ইউরোপের অনেক বড় বড় ধনিক গোষ্ঠীর সাহায্য নিয়ে অভিযানে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। যেমন স্পেনিশ অভিযানকারীরা যখন দক্ষিণ আমেরিকা আবিষ্কার করে তার পরই ইংরেজ, ওলন্দাজ, বেশ কিছু, জলদস্যু স্পেনকে প্রতিহত করতে যুক্ত হয়েছিলো। আমরা ইংরেজ জলদস্যু জন ড্রেইক এবং হেন্ড্রি মর্গানের নাম জানি। যাদের ভয়ে স্পেনিশ রাষ্ট্র ক্ষমতা পর্যন্ত নড়েচড়ে উঠেছিলো। স্পেন ইংরেজদের ‘শিক্ষা দিতে’ ইংল্যান্ড অভিমুখে সামরিক অভিযানও পরিচালনা করেছিলো। এসব ঘটনা ইতিহাসে প্রচুর রয়েছে।

আমাদের এখানেও জলদস্যুদের কথা সমুদ্রে যারা মাছ ধরতে যান তারা অহরহ দেখতে পান। অনেকেই এসব জলদস্যুর আক্রমণের শিকার হন, মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের সুন্দরবনে অনেক জলদস্যু লুকিয়ে আছে বলে প্রশাসন আমাদের অবহিত করে। সেখানে নাকি অনেক বনদস্যুও আছে… যারা কাঠ ও বনজ সম্পদ কেটে উজাড় করে দিচ্ছে। আমাদের রাস্তাঘাটে এখন আর আমরা বনদস্যু দেখি না। তবে হাইজ্যাকার, পকেটমার, মলমপার্টি ইত্যাদি গোষ্ঠীর ওঁৎ পেতে থাকার কথা শুনি। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়। আজকাল জলদস্যু, বনদস্যুসহ যেসব সন্ত্রাসী বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় তাদের ‘ক্রসফায়ার’ হতে শুনি। তবে ইদানীং দস্যুতা পেশার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। যেমন ভূমিদস্যু, রেলের জায়গা দখল, বন্দর দখল, নদী দখল, সমুদ্র দখল, বাড়িঘর দখল, শহরে সরকারি সম্পত্তি দখল, বস্তি দখল ইত্যাদি দখলদাররাও এখন দস্যুরূপে পরিচিত হচ্ছে। এরা অনেকেই বেশ প্রভাবশালী, অর্থবিত্তে অনেক বেশি সম্পদশালী বলে শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালুনদী ইত্যাদির তীরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এসব মহাশক্তিশালী দস্যুর কথা বারবার গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আমরা ভেবে পাই না গণমাধ্যমে যখন তাদের ভূমিদস্যু বলে অভিহিত করা হয় তখন তারা আসলেই কি প্রীত হন, নাকি লজ্জিত হন। মনে তো হয় না তারা খুব বেশি লজ্জিত হন। যে কাজটি তারা করেছেন সেটি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। তারা সেই অবৈধ্য কাজটি জেনেশুনেই করেছেন। যারা এ যুগে ব্যবসা-বাণিজ্য, বসবাস, ধর্মাধিষ্ঠানসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে জায়গা দখল করে গড়ে তোলে তারা অতীত যুগের দস্যুদের মনোবৃত্তি যেন পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন আমাদের সমাজে। এতো সম্পদ থাকার পরও যখন বেশ কিছু মানুষ আরও সম্পদ বেদখল করে আরও বেশি সম্পদশালী হতে চায় তখন রাষ্ট্র চিরকাল চোখ বুজে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। আধুনিক রাষ্ট্র চলে আইন, বিচার ও নিয়ম-নীতিতে। রাষ্ট্রের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই সেভাবে চলতে হয়। আমাদের এতোসব আধুনিক যুগের দস্যুরা যদি আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্যকে ক্রমাগত অবজ্ঞা করতে থাকেন তাহলে আধুনিক রাষ্ট্র বোধহয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে আর বসে থাকতে পারে না। নদীর প্রাণ নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে, রেলওয়ের প্রাণ তথা ভূমি রেলওয়েকে ফিরিয়ে দিতে হবে,[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ ংঃধৎঃ: }থএড়ইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ বহফ: }থএড়ইধপশ শহরের প্রাণ শহরকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। তাহলেই সব প্রাণ নিয়ে আমাদের সমাজ হবে সকলের জন্য বসবাস যোগ্য। সবাইকে সে কথাই বুঝতে হবে, মানতে হবে, ছেড়ে দিতে হবে কলঙ্কের দস্যু পরিচিতি। ফেস বুক থেকে

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]