• প্রচ্ছদ » » এরশাদের যদি ক্ষমতা থাকতো এদেশ কচিকাঁচায় ভরে যেতো : জিনাত


এরশাদের যদি ক্ষমতা থাকতো এদেশ কচিকাঁচায় ভরে যেতো : জিনাত

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

আলী আকবর টাবী

এরশাদ আমলে বলা চলে আমার জীবনের মূল্যবান প্রায় দশটি বছর রাজপথেই কাটিয়েছি। আন্দোলন সংগ্রামে ব্যস্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বাসা থেকে হাত খরচার টাকা-পয়সা বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিউশনি এবং প্রেসের প্রæফ দেখার কাজ জুটিয়ে নিতে হয়। কাজেই এরশাদকে উদারভাবে দেখার সুযোগ আমার নেই… এরশাদ ক্ষমতা আর অর্থের দাপটে প্রথমেই অন্যের স্ত্রী সুন্দরী মেরীকে কব্জা করে ফেলেন। নায়িকা-গায়িকাসহ প্রায় একডজন নারী বান্ধবীর মধ্যে বিএনপির মন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের পতœী জিনাত মোশাররফের সঙ্গে এরশাদের পরকীয়া ছিলো ১৪ বছরের, বিষয়টি ছিলো ওপেন সিক্রেট। এরশাদের সঙ্গে পরকীয়া ভেঙে যাওয়ার পর জিনাত বলেছিলেন, ‘এরশাদের যদি বাচ্চা ফোটানোর ক্ষমতা থাকতো তবে এদেশে কচিকাঁচায় ভরে যেতো।’ প্রেম করে বিদিশাকে বিয়ে করেন। পরে বহুরূপী এরশাদ বিদিশা সিদ্দিকাকে তালাক দিয়ে চুরির মামলায় জেলে পাঠান। এভাবে এরশাদের লাম্পট্য জীবনের কাহিনি বলে শেষ করা যাবে না। ভÐামীতেও তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ব্যর্থ প্রমাণ করে তিনি ২৪ বছর পর পুত্র সন্তানের জনক হলেন। এরশাদের মন্ত্রী আতাউর রহমান খান তার স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে লিখেছেন, পুত্রসন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়া সম্পর্কে এরশাদ সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাল রাত্রে আপনার সাথে কথা হলো। তখনও তো কিছু বলেননি।’ এরশাদ উত্তর দিলেন: ‘আমার ধারণা আপনি জানতেন।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘…কয়েকদিন আগেও রওশন এশাদকে বঙ্গভবনের মাঠে এক চা চক্রে দেখিয়াছি। সন্তান সম্ভাবনার কোনো লক্ষণই দেখতে পাইনি।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর হত্যার পরিকল্পনাকারী খুনি মান্নানক শিক্ষামন্ত্রী বানিয়ে এরশাদ শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে উপহাস করেছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলবাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস সাধন করেছেন, যার খেসারত আমরা এখনো দিচ্ছি। স্বৈরাচার এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারি হাই কোর্টের মোড়ে ছাত্রদের মিছিলে গুলি করে পাখির মতো জাফর ও জয়নালকে হত্যা করে। ২৮ ফেব্রæয়ারি আমাদের মিছিলে ট্রাক তুলে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা সেলিম ও দেলোয়াকে পিষে হত্যা করেন। ১ মার্চ এরশাদের পেটোয়া বাহিনী আদমজীতে ট্রেড ইউনিয়ন ও সিপিবি নেতা কমরেড তাজুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হত্যা করেন। ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি বাকশালপন্থী ছাত্রলীগ নেতা রাউফুন বসুনিয়াকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৮৮ সালের চট্টগ্রামে ৮ দলীয় জনসভা পÐ করার জন্য পুলিশ শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে দশজন ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। ডা. মিলন ও নূর হোসেনকে হত্যা করে এরশাদ বিশ্ব বেহায়ার আসনটি অলংকৃত করেন। পরিশেষে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন করে তিনি কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকেছিলেন। এমন একজন স্বৈরাচার, লম্পট, ভÐ, খুনিকে আমি কখনোই ভদ্রলোক বলতে রাজি নই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]