• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » ছেলেধরার গুজব মানুষকে সেনসিটিভভাবে আক্রান্ত করায়, বিক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মনে করেন ড. তাজুল ইসলাম


ছেলেধরার গুজব মানুষকে সেনসিটিভভাবে আক্রান্ত করায়, বিক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মনে করেন ড. তাজুল ইসলাম

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

আমিরুল ইসলাম : ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’… সম্প্রতি এমন গুজবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৩ জন। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গণপিটুনির মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেছেন, শিশু অপহরণের ব্যাপারে আমাদের দেশের মানুষ একটু বেশি সেনসিটিভ। ছেলে ধরার গুজব খুব সেনসিটিভভাবে মানুষকে আক্রান্ত করে। তখন তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

এটাকে আমরা বলি মব ভায়োলেন্স। মানুষ দুই ধরনের রিঅ্যাকশন করে। কিছু আগে উল্টো বলতাম। চোখের সামনে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হলেও সবাই দর্শক কেউ  এগিয়ে আসছে না। এটা এক ধরনের রিঅ্যাকশন আমাদের। আবার উল্টোটা হচ্ছে সামান্য অন্যায় করেছে বা মনে হচ্ছে একটা অপরাধ করেছে, তখন মানুষ একত্র হয়ে পাগলের মতো বা উন্মাদের মতো আচরণ করে মানুষ খুন করে ফেলে। সমাজে যখন অন্যায্যতা চলে, বৈষম্য চলে, বিচারহীনতা চলে এবং চারদিকে যখন অরাজকতা চলে, তার কোনো প্রতিকার দেখে না, উপায় দেখে না। মানুষ তখন বিক্ষুব্ধ হয়ে থাকে। বিক্ষুব্ধ মানুষ যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হয়। গুজব আরেকটি জিনিস যেটা মানুষকে এমন করতে ইন্ধন জোগায়। দুই-একটি উদাহরণ মানুষ পাচ্ছে যার কারণে মানুষ সেনসিটাইজ্ড হয়ে থাকে। মানুষ মনে করছে ছেলেধরা থাকতে পারে। কেউ আন্দাজ করে বা শত্রুতা করে গুজব ছড়ালে আশপাশের মানুষ সহজেই বিশ্বাস করে, কারণ তারা ভাবছে এমনটাতো হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে যে সমাজে এমন লোক আছে, তখন গুজবটা দ্রুত ছড়িয়ে যায়। তার চোখের সামনে ছেলেধরা আছে জানতে পারলে মানুষ উত্তপ্ত হয়ে সেখানে যায়। সেখানে যদি ভায়োলেন্স থাকতো, ছেলেধরা নামে যে আসছে সে অস্ত্র নিয়ে থাকলে মানুষ এগোতো না। যেহেতু বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ, তাই তাদের যখন ছেলেধরা বলা হয় সবাই এগিয়ে আসে এবং তারা ভয়ে আরও বেশি দৌড়ায়। এমন দুর্বলতা যখন পাওয়া যায় এবং ঘৃণিত অপরাধী মনে করা হয় তখন তাকে মানুষ জাপটে ধরে। মানুষ মাত্রই কিন্তু বিধ্বংসী। মানুষ মাত্রই সহিংসপ্রবণ। আমরা বেশিরভাগ সময় নিজেদের কন্ট্রোল করে রাখি। কিন্তু নিজেদের আসল পরিচয় বিশেষ সময় প্রকাশিত হয়। নিজেদের মব তখন উন্মুক্ত হয়ে তাদের উপর চড়াও হয় এবং তাদের খুন করে ফেলে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]