• প্রচ্ছদ » » জয় হবে অগণিত শান্তিকামী মানুষের
পূর্ববর্তী


জয় হবে অগণিত শান্তিকামী মানুষের

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

লাভা মাহমুদা

গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতা শব্দটি মনে যতোটা দোলা দেয়, বাস্তবের সঙ্গে তার ব্যাপক ফারাক। একাত্তরের আগে আমরা জাতি হিসেবে পরাধীন ছিলাম, কিন্তু মনোজগৎ ছিলো অনেকটাই স্বাধীন। সেই সময়ের ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভেতরে ভেতরে আফসোস করি, দীর্ঘশ্বাস ফেলি। ছবি অনেক কথা বলে, ছবি ইতিহাসের কথা বলে। মানসিকতায় কতোটা অসাম্প্রদায়িক ছিলো এ অঞ্চলের মানুষ। বাইরে ছিলো স্বাধীনতার উদগ্র বাসনা, অন্তরে অসীম মমতা। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ছিলো প্রবল। যুদ্ধের সময়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বাঙালি, আদিবাসীতে কোনো ভেদাভেদ ছিলো না। আবদ্ধ ছিলো সম্প্রীতির বন্ধনে। কোনো বাড়িতে রাতের অন্ধকারে আশ্রয় নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সে বাড়ির মানুষেরা পরম মমতায় বুকে তুলে নিতো, মুখে তুলে দিতো আহার। জানতে চাইতো না তার ধর্মীয় পরিচয়। সেজন্যই আমাদের যুদ্ধ জয়ের গল্পগুলো এতোটা মানবিক, এতোটা হৃদয়গ্রাহী… এটাই ছিলো মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মানবিক সৌন্দর্য। তারপর স্বাধীন হলো দেশ। একটার পর একটা সরকার আসলো… পরিবর্তিত হতে থাকলো দৃশ্যপট, এদেশের মানুষ, মানুষের মূল্যবোধ। একাত্তরে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ ছিলো, তার পলেস্তারা খসে যেতে শুরু করলো। খসে যেতে যেতে এখন দাঁড়িয়ে আছে শুধু অস্থি কংকালসার কাঠামো মাত্র।
আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হচ্ছি। নি¤œ আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, বেড়েছে জীবনযাত্রার মান। অবকাঠামো চোখে পড়ার মতো… রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ঝকঝকে মহাসড়ক, ঝকমকে আলোকোজ্জ্বল ফ্লাইওভার, উঁচু উঁচু ভবন আরও কতো কি। কিন্তু এসবের বিনিময়ে আমরা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রায় হারিয়েছি।
এই অঞ্চলের মানুষ মানসিকভাবে সরল, ধর্মীয় অনুভ‚তিতে সংবেদনশীল। মোক্ষম এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে কায়েমী স্বার্থবাদী এবং ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা রাজনৈতিক দলগুলো। সংবিধানকে কাজে লাগিয়ে অথবা সংবিধানের বাইরে থেকে সূ² ও স্থূলভাবে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছে। শিক্ষা কারিক্যুলামে ধর্মীয় প্রভাব এবং ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের মগজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেছিলো তা এখন ডালপালা ছড়িয়ে মহীরুহে রূপ নিয়েছে। সেই বিষে ক্ষয়ে যাচ্ছে সামাজিক কাঠামো, মানুষের আচরণ, অভ্যাস, সামাজিক বিন্যাস। অনাচার মাত্রা ছাড়িয়েছে, হিং¯্রতা পশুকে হার মানিয়েছে, নৃশংসতা এখন খুব মামুলি একটি শব্দ, পাশবিকতা শব্দটি মানুষের সমার্থক হয়ে গেছে।
প্রতিবেশী বৃহৎ দেশ ভারতও আগুনে ঘি ঢালছে। তাদের চরম সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার ঢেউ আছড়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী সব ভ‚-খÐে। ধর্মনিরপেক্ষ ভারত সব ধরনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা হারিয়ে অসীম ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে গরুতে। আর এই ভালোবাসার আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হচ্ছে এই উপমহাদেশের সব মানুষ। তবে চতুর রাজনৈতিক খেলা একসময় শেষ হবে। নিয়ন বাতির ঝলকানিতে মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। কোনো এক আলোকোজ্জ্বল প্রভাতে আমার এই প্রিয় মাতৃভ‚মি কলুষযুক্ত হবে। হাজার বছরের পুরানো বাঙালি সত্তা জেগে উঠবে, শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, জয় হবে অগণিত শান্তিকামী মানুষের, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ফিরবে এই ভ‚-খÐের মানুষ। আলো আসবেই একদিন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়বে সেই আলো। মানুষ জানবে… কোনো একদিন এখানেও অন্ধকার ছিলো।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]