• প্রচ্ছদ » » নাগরিকজীবনের নিস্পৃহতায় নির্বাসিত হচ্ছে পাখিরা


নাগরিকজীবনের নিস্পৃহতায় নির্বাসিত হচ্ছে পাখিরা

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী

প্রিয় বন্ধুরা আমার, খুব সম্প্রতি পাখি নিয়ে ফেসবুকে দুটো ছোট লেখা লিখেছি। দুয়েকজন বলেছেন, বাংলায় দিতে। কিছু কথা যোগ হলো এখানে। পাখি তোমরা অনেকেই ভালোবাসো। চোখের সামনে একটা চড়ুই কি শালিক উড়ে গেলো, একটা দোয়েল কিংবা কোয়েল গাছের ডালে ডেকেই চলেছে, ভোরে জানালায় কাক ডাকছে। এসব নিশ্চয়ই তোমাদের কারও না কারও দেখতে, শুনতে ভালো লাগে। হ্যাঁ, কাকের ডাকও, সেই কাক যাকে নিয়ে টেড হিউস তার ‘কাক’ কবিতাগুচ্ছ লিখেছেন… ঈৎড়ি : ঋৎড়স ঃযব খরভব ধহফ ঝড়হমং ড়ভ ঃযব ঈৎড়।ি পাখি আর সেভাবে দেখা হয় না। দেখলে ভালো লাগে নিশ্চয়ই। পাখি আমরা দেখি কিছুটা গতানুগতিকভাবে। সব কোয়েল, সব দোয়েলকে একভাবে। ব্যক্তি পাখি দেখি না। দেখি সব টুনটুনি, সব মৌচুষকিকে এক করে। ওরাও যে আলাদা ব্যক্তি হতে পারে একথা ভুলেই বসি। তা আর কি করবে? বেশিরভাগ কবিরাও যে তাই করেন। ধরো কীটসের বিখ্যাত কবিতা… ঙফব ঃড় ধ ঘরমযঃরহমধষব।
বার্ড ওয়াচিং নিয়ে জুলিয়ান হাক্সলির (বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী, সুলেখক। কথাশিল্পি অলডাস হাক্সলির ভাই) লেখা ইরৎফ ডধঃপযরহম ধহফ ইরৎফ ইবযধারড়ঁৎ পড়তে ভালো লাগবে। মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকার ‘পক্ষী সংখ্যা’ পড়ার মতো বই। ভারতীয় পক্ষীবিদ সালিম আলীর কথা তোমরা অনেকেই জানো… যাকে বলা হয় ভারতের ইরৎফ গধহ। পাখি নিয়ে প্রচুর লিখেছেন… ঞযব ইড়ড়শ ড়ভ ওহফরধহ ইরৎফং ইত্যাদি। তার আত্মকথা ঞযব ঋধষষ ড়ভ ধ ঝঢ়ধৎৎড়ি উল্লেখযোগ্য। টিম বার্কহেডের ঞযব ডরংফড়স ড়ভ ইরৎফং গল্পে, জ্ঞানে সমৃদ্ধ, সংবেদনশীল বই।
ঢাকার কোন কোন জায়গায় পাখিরা ভিড় করে, আবার কোথাও আগের মতো নেই। ইংরেজি পোস্টের মন্তব্যে জেনেছি কেউ কেউ এখনো আনন্দিত যে তাদের বাসার পাশে পাখিরা আসে, ডাকে। একজন পাখিদের কমে যাওয়া নিয়ে দুঃখ করে লিখেছেন। সত্যিই নাগরিক জীবনের নিস্পৃহতায় নির্বাসিত হচ্ছে পাখিরা। উঁচুতলা ভবনের যথেচ্ছ নির্মাণে, প্রকৃতি সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের জীবন বিপন্ন। শুধু আমাদের দেশে নয়, অন্য দেশেও। কবিতায় গানে যে পাখির বন্দনা হয়েছে সবচেয়ে বেশি সেই নাইটিঙ্গেল বিদায় নিয়েছে নাগরিক জীবন থেকে। ঞযব ইৎরঃরংয ঞৎঁংঃ ড়ভ ঙৎহরঃযড়ষড়মু-এর রিপোর্টে জানা যায় ১৯৭০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নাইটিঙ্গেল কমেছে ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ৯ জন। উনিশশ সত্তর সালে বিখ্যাত সংগীত দল বিটলসে ভাঙন ধরে। কাকতালীয়ভাবে একই বছর থেকে নাইটিঙ্গেলকেও বিদায় নিতে হলো। নাগরিক জীবনের ঔদাস্যে ব্যথিত বিটলস, ব্যথিত নাইটিঙ্গেল। মুষড়ে পড়েছে ময়না, মৌটুসি। জাগতিক জমকে আমরা কি বোধহীন হয়ে যাচ্ছি? অস্কার ওয়াইল্ডের ঝবষভরংয এরধহঃ-এর মতো। পাখিরা আসবে না আর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]