প্রিয়া সাহারা কী চান?

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

মঞ্জুরুল আলম পান্না

প্রিয়া সাহা কে, কী তার পরিচয়, এরই মধ্যে অনেকের লেখালেখিতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে অনেকেই জেনে গেছেন। এখন জরুরি ভিত্তিতে উদঘাটন করা দরকার কারা তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর পর্যন্ত পৌঁছাতে কলকাঠি নেড়েছেন। কারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সারাবিশে^ নষ্ট করতে তৎপর? যে আওয়ামী লীগ সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে, সেই সরকারকেই বিব্রত করতে গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন কারা? হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত যতোই বলুন যে… প্রিয়া সাহা তার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাননি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে যাবার কথা তার জানা নেই তা আমাদের কাছে বিশ^াসযোগ্য নয়। তিনি বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে যে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গেছে তাতে প্রিয়া সাহার নাম নেই। নাম নেই, তা বুঝলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি কিংবা নাম বদল ছাড়াই প্রিয়া সাহা কীভাবে ওভাল অফিসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলো? বিষয়টি অনুসন্ধানে আমাদের সরকারকে খুব বেশি বেগ পাওয়ার কথা নয়।
বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সহায়তা ছাড়া কোনো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতরে ব্যক্তিগতভাবে কারোর পৌঁছে যাওয়াটা অতো সহজ নয়। অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিতে প্রিয়া সাহা অসত্য তথ্য হাজির করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুকম্পা লাভের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি কিন্তু আসলে তা নয়। ইউটিউবে তার বক্তব্যটি শুনে কারও বুঝতে সমস্যা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় ওভাল অফিসের লিখিত বক্তব্যটি পড়ে দেখতে পারেন। প্রিয়া সাহা স্পষ্ট করে বলেছেন তিনি বাংলাদেশে থাকতে চান। তাছাড়া বাংলাদেশে তার যে আয় রোজগার এবং তার স্বামী মলয় সাহা দুদকের যে পদে অধিষ্ঠিত তাতে বাংলাদেশ ছাড়ার মতো তাদের কোনো কারণই নেই। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় লাভের জন্য ওই মহিলা ওই ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে যারা সজ্ঞানে প্রচার চালাচ্ছেন তারা বরং তার অপরাধকে হালকাভাবে উপস্থানের চেষ্টা করছেন বিশেষ উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু গুম হয়ে যাওয়ার যে তথ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ওই মহিলা দিলেন তা আমাদের সবাইকে যেমন বিস্মিত করেছে, তেমনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ করেছে বিশ^জুড়ে। এদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সঠিক নয়। এটি তিনি আমাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন। তিনি হয়তো প্রকৃত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরেও জানিয়ে দেবেন। কিন্তু সারাবিশে^র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন না, পৌঁছে দিতে তার দায়ও ঠেকেনি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সারাবিশে^র মানুষের কাছে প্রিয়া সাহার বিকৃত তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ উপস্থাপিত হয়েছে একটি চরম সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে। এটি কি সহজে শোধরানো যাবে? রানা দাশগুপ্ত তার প্রতিক্রিয়ায় যে বক্তব্য তুলে ধরেছেন তা প্রিয়া সাহাকে পরোক্ষভাবে সমর্থনেরই নামান্তর। এদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ উধাও হয়ে যাওয়ার যে উদ্ভট তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টর সামনে তুলে ধরা হয়েছে সেটিকে খÐনের চেষ্টা করেছেন অ্যাডভোকেট রানা দাশ। এর আগে বছর তিনেক আগে একবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে তিনি তা অস্বীকার করলেও পিটিআই বিবিসিকে জানিয়েছিলো… রানা দাশগুপ্তের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। সেই রানা দাশগুপ্তের সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা এবার হস্তক্ষেপ চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এদেশেকে নিয়ে মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের মতো হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠীও যে বিশেষ তৎপর তা ভেবে দেখার মতো কঠিন এক সময়ে উপস্থিত আমরা। লেখক : সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]