• প্রচ্ছদ » » প্রিয়া সাহার অভিযোগ ও সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু পারসপেক্টিভ


প্রিয়া সাহার অভিযোগ ও সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু পারসপেক্টিভ

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

মাসুদ রানা

পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় বাঙালিরা জাতিগতভাবে ‘ডোমিন্যান্ট’ হলেও তাদের মধ্যে যে ধর্মীয় সম্প্রদায় যেখানে সংখ্যালঘু, সেটি ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়। এটি একটি সাধারণ সত্য, যা সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক কখনো সত্য বলে স্বীকার করে না। স্বভাবত স্বদেশে বঞ্চিত ও নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি কখনো কোথাও সুযোগ পেয়ে তাদের বঞ্চিত ও নির্যাতিত হওয়ার বিষয়ে বিদেশিদের কাছে মুখ খোলে, সংখ্যাগুরু সম্প্রাদায়ের তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীলেরাও পর্যন্ত ক্ষেপে যান। তখন তাদের মনে হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলে ‘অদেশপ্রেমিক’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’।
বৈজ্ঞানিকভাবে এখানে সমস্যাটা হচ্ছে পারসপেক্টিভের। অর্থাৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ, আশঙ্কা ও মনোবেদনার বিস্তার ও গভীরতা কী ও কতোটুকু, তা সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের লোকেদের পক্ষে সম্ভবত কখনো বোঝা সম্ভব নয়। কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কাব্যিক ভাষায় বলতে হয় : ‘চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন/ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে?/কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/কভু আশীবিষে দংশেনি যারে?’ আমাদের স্বীকৃতি-অস্বীকৃতি নির্বিশেষে এটিই সত্য যে, পূর্ব বাংলায় বাঙালি হিন্দু এবং পশ্চিম বাংলায় বাঙালি মুসলমান নানা মাত্রায় বঞ্চিত ও নির্যাতিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমলে নিজেদের রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে প্রত্যাহৃত করে রাখার কারণে এখনো পর্যন্ত পশ্চিম বাংলার বাঙালি মুসলমানের ‘ভয়েস’ অত্যন্ত দুর্বল বলে তাদের বঞ্চনা ও নির্যাতনের কথা বিশ্ব পরিসরে তেমন শ্রæত হয় না।
বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দু প্রিয়া সাহা সৌভাগ্যবতী যে, তিনি তার সম্প্রদায়ের বঞ্চনা ও নির্যাতনের কথা বিশ্বের সম্রাটসম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছেন। আর জনাব ট্রাম্প স্বয়ং বর্ণবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী হওয়ার কারণে বিষয়টি গুরুত্বও পেয়ে থাকবে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, পশ্চিম বাংলার বঞ্চিত ও নির্যাতিত মুসলমানের, যাদের মধ্যে অভিযোগ করার মতো কোনো প্রিয়া সাহা নেই এবং সেই অভিযোগ শোনার মতো বিশ্বে কোনো ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]