• প্রচ্ছদ » » ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা মো. শামস-উল ইসলাম


‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা মো. শামস-উল ইসলাম

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

অসীম  সাহা, সংযুক্ত সম্পাদক দৈনিক আমাদের নতুন সময়

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম একটি অমোঘ সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, “সেটা স্বপ্ন নয়, যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটাই, যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।” আমরা এই সত্যকে পড়ি কিন্তু জীবনে কাজে লাগাই না। কারণ সহজপ্রাপ্তির লোভ প্রতিমুহূর্তে আমাদের দীনতা ও অসংস্কৃত মনোভাবকে এতোটাই জাগ্রত করে রাখে যে, আমরা বুঝতেও চাই না, পৃথিবীতে আমাদের জীবন একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। কালের করালগ্রাসে জীবনদীপ নিভে গেলে কেউ তাদের মনেও রাখবে না। মনে রাখবে তাদের, যারা এই অল্প সময়ের মধ্যেও নিজেদের কিছু মহৎ কীর্তি পৃথিবীর বুকে রেখে যেতে পারেন।

এমন একজন কৃতী মানুষ অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শামস-উল ইসলাম। তিনি একজন সফল ব্যাংকার। কিন্তু কিছুদিন আগেও কে তাঁকে চিনতো? তাঁর ব্যাংকের গুটিকয়েক মানুষ! কিন্তু এখন তাঁকে চেনেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সেক্টরের  সকলেই। এমনকি তাঁর কীর্তির দ্বারা তিনি এখন ধীরে ধীরে দেশের অনেক মানুষের কাছেই পৌঁছে যাচ্ছেন। কেন? শুধু একটি কাজ করে। অগ্রণী বাংকের সাততলায় চেয়্যারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুমে ঢোকার আগে যে দর্শনার্থী প্রতীক্ষালয় আছে, সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করে। কী আছে সেই কর্নারে? সেখানে আছে বঙ্গবন্ধুসম্পর্কিত সকল বই, বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার সিডিসহ ব্রোঞ্জ কাস্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ১১০ কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষমূর্তি। এই কর্নার থেকেই প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রচার করা হবে বঙ্গবন্ধুপ্রদত্ত ভাষণ। কিন্তু শামস-উল ইসলামের মাথায় কী করে এলো এই চিন্তা?

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি তাঁর প্রেরণার উৎস। যে বঙ্গবন্ধু না হলে বর্তমান বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না, তাঁর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর জন্য একটা কিছু করার স্বপ্ন শামস-উল ইসলামকে সবসময় তাড়িত করতো। তিনি যখন মৌলভীবাজারে অগ্রণী ব্যাংকের জোনাল অফিসের আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে যোগদান করেন, তিনি দেখতে পান, সে-অফিসটিতে অনেকটা প্রশস্ত জায়গা খালি পড়ে আছে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সেখানেই ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর সূচনা করবেন। নিজের টাকায় সেলফ ও কিছু বই কিনে ব্যাংকের অন্যদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অভিনব উদ্যোগÑ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। এরপর তিনি পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার পর সেই ব্যাংকের দোতলায় তৈরি করেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। কিন্তু স্বপ্ন যাকে ঘুমোতে দেয় না, তাঁর পক্ষে কি চুপ করে থাকা সম্ভব? থাকেনওনি। তাই অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শামস-উল ইসলাম আরো ব্যাপক পরিসরে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করে জাতির পিতার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে দেরি করেননি। গত বছর মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে খুব দুরু দুরু বক্ষে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর একটি ছবি দেখিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের প্রশংসা করায় তিনি আনসার-ভিডিপি ব্যাংকেও ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপনের কথা বলে তাঁকে সেখানকারও একটি ছবি দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারও প্রশংসা করে ছবি দু’টি নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর শামস-উল ইসলাম পত্রিকামারফত জানতে পারেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল সরকারি অফিসে এ-ধরনের ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রলায়ও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা স্থাপনের জন্য সার্কুলার জারি করেছে। এ-খবর জেনে শামস-উল ইসলাম আবেগে আপ্øুত। তাঁর স্বপ্নের  একটি ছোট্ট চারাগাছ রোপণের ফল যে এতো দ্রুত সারাদেশে মহীরুহ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাই তিনি কৃতজ্ঞ!

আসলে মানুষ যদি জেগে থেকে স্বপ্ন দেখে, আর তার জন্য নিরলস কাজ করে যায়, তা হলে তার ফল ফলতে বাধ্য। শামস-উল ইসলাম জানতেন, যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো, যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলের হাবীব ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংককে একত্রিত করে আজকের অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত ও নামকরণ না করতেন, তা হলে তিনি বড়জোর মাঝারি পর্যায়ের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা থাকতেন। কিন্তু জাতির জনকের জন্যই আজ এই স্বাধীন দেশে তিনি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে পেরেছেন। এই পাওয়ার ঋণ অপরিশোধ্য। শুধু জাতির জনকের স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ করলেই হয়তো তাঁর অবদানের একজন সামান্য অংশীদার হওয়া সম্ভব। জনাব শামস-উল ইসলাম সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন। তাঁর স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এক জীবনে এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

মোঃ শামস-উল ইসলাম আর কিছুই চান না। যতোদিন দেহে শক্তি আছে, ততোদিন তিনি জাতির জনকের স্বপ্নপূরণের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন, এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ও জীবন্ত স্বপ্ন।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]