মায়া

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

ফারুক ওয়াসিফ

শীলা আহমেদ হুমায়ূনী চরিত্রের আস্বাদনে ‘মায়া’র টানে পড়ার কথা যে বলেছেন, এটা খুবই যথার্থ। আমি তার এই দেখার প্রশংসা করি। তার মৃত্যুর পর পরই প্রথম আলো সাময়িকীতে একটা ছোট্ট রচনায় এই মায়াশাসিত জগতের কথা বলেছিলাম। আমার পাঠকেরা জেনে থাকবেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে মায়ার টানের চেতনা নিয়ে আমি বরাবর কথা বলে আসছি। সেটা যেমন কৃষক চৈতন্য ব্যাখ্যায়, তেমনি জীবনানন্দ দাশের মায়াবাস্তব বইয়ে, আবার হুমায়ূনের বেলাতেও লিখেছি। গ্রিক নন্দনের শক্তি যেমন ট্র্যাজিক চেতনা, বাংলা সংস্কৃতির মর্মে তেমন পাই মায়া। বঙ্কিমচন্দ্র-রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভক্তিকে বড় করে দেখেছেন, রামমোহন বড় করেছিলেন দয়াকে। যাকে ভক্তি করি তার দয়াই চাওয়া হয়। ভক্তি থেকে দয়া সবই উচ্চ থেকে নি¤œ দিকে প্রবাহী। কিন্তু মায়ার ¯্রােত বহে সমানে সমানে, সমান্তরালে। এখানে ক্ষমতা সম্পর্ক অনেকটা মায়ার জাগরণে অবশিত বা হালকা হয়ে আসে। সেকারণে মায়াকে ধরে আমরা আরও কাছাকাছি আসতে পারি। ভালোবাসা ফুরালেও মায়া ফুরায় না।
বৈদিক দর্শনে মায়াকে ইল্যুশন অর্থে বোঝা হয়েছে, কিন্তু নি¤œবর্গীয় ভাষায় মায়াই সত্য। এই দুই মায়া তাই এক নয়। আমরা লোকায়ত মায়ার পক্ষপাতি। এ বিষয়ে জীবনানন্দের মায়া বাস্তবে আরেকটু গভীর আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে ভক্তিবাদ জয়ী হয়নি, মায়াবাদ এখনো শক্তি ফুরায়নি। মায়া কি জয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]