• প্রচ্ছদ » » রিকশাওয়ালাদের মামা হয়ে ওঠার গল্প


রিকশাওয়ালাদের মামা হয়ে ওঠার গল্প

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

মোস্তফা ইকবাল

এই রিকশাওয়ালা… এই বেটা যাবি? এই রিকশা… এই রিকশা যাবি… যাবি? রাস্তায় বেরুলে এ রকম উত্তেজিত, অসভ্য ভাষার ব্যবহার সচারাচর শোনা যেতো। এখনো অল্পস্বল্প শোনা যায়। এ ধরনের অসভ্য আচরণকে কোনো দোষ-ত্রæটি মনে করা হয় না আমাদের দেশে। রিকশা হচ্ছে মানবচালিত মানুষ্যবাহী ত্রিচক্রযান, যা আমাদের দেশে অহরহ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি পেডিক্যাব নামে পরিচিত। আমাদের দেশে রিকশা এক জনপ্রিয় বাহন, প্যাডেল চালিত রিকশাকে গরিব মানুষের নিরুপায় বেঁচে থাকার অত্যন্ত কষ্টকর অবলম্বন বলা যায়। যখন রিকশায় বসি, নিজেকে অপরাধী বা অমানবিক বলে মনে হয়। তবুও রিকশায় উঠি, উঠতে হয়, চলতে হয়, বসতে হয়। শিল্পী মৃণাল হকের সম্পূর্ণ শিকল দিয়ে চালক এবং যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় একটি ভাস্কর্য স্থাপন চোখে পড়ে, ভাস্কর্যটির নাম ইস্পাতের কান্না। শিল্পী মৃণাল হক তার শৈল্পিক চিন্তায় এদেশের জনপ্রিয় এ বাহনের ভেতরের অমানবিক দিকসমূহ, যন্ত্রণা, অচ্ছুৎ সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পেরেছেন বলে আমি মনে করি। তার মননশীল চিন্তা, শৈল্পিক বাসনা আমার অনুভ‚তিতেও নাড়া দিয়েছে। অনুশোচনার নীরব কান্নার ঝড়-বৃষ্টি তুলেছে। বাংলাদেশের রিকশাওয়ালাদের প্রায় সবার ভাগ্যেই কোনো না কোনো দিন চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথিগুতা, কানমলা সইতে হয়েছে। যাত্রী ও পুলিশের হাতেই বেশিরভাগ তারা নির্যাতিত হয়েছে বা হচ্ছেন। প্রতিদিনই তো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিন-চারজন বিশেষ কায়দায় পা তুলে বসে চালককে রিকশা চালাতে বাধ্য করছে, এ দৃশ্য অহরহ চোখে পড়ে। যা খুবই অমানবিক। রিকশাওয়ালাদের নিয়ে অনেক লেখালেখি, নাটক, সিনেমা, গান তৈরি হয়েছে আমাদের দেশে। প্রায় চলচ্চিত্রে রিকশাওয়ালার চরিত্রটি পজিটিভভাবে দেখানো হলেও দর্শক-রিকশা আরোহীর ভেতর সেই মানবিক চরিত্র কতোটুকু আমরা দাঁড় করাতে পেরেছি তা ভাবার বিষয়। আমরা যে দানবীয় স্বরে ওদের ডাকি এই রিকশা… এই বেটা, যাবি… যাবি, অনেকটা পুলিশি ডাÐার ঢংয়ের এ শব্দে, আমাদের মেয়েরা তেমনি ডাকে না। আমার জানামতে, আশির দশকের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরাই তারা তাদের ভাষায় রিকশাওয়ালাদের মামা বলতে শুরু করার মধ্য দিয়ে আমাদের দানবীয় পশু চরিত্রের কিছুটা পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এখন সমগ্র দেশে রাস্তায় রিকশা দেখলেই প্রায় শুনি এই মামা যাবেন? এই মামা যাবি? ভাই, চাচা ইত্যাদি। এ পরিবর্তনের জন্য মেয়েরা যে ভ‚মিকা রেখেছে তা এককথায় মেনে নিতে হয়। আমরা যখন মামার রিকশায় চড়ে কোথাও যাই, যাওয়ার সময় আমাদের অনুভ‚তিতে থাকা উচিত আমরা কিন্তু এ গরিব মামার কাঁধে চড়ে যাচ্ছি। সেই মামাদের প্রতি কিছুটা ভালোবাসা, ভালো ব্যবহার দেখানোর দরকার। যা আমাদের দেশের মেয়েরা আমাদের শিখিয়েছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]