• প্রচ্ছদ » » শিক্ষা ক্ষেত্রে আমার দেশটি দিন দিনই রসাতলে যাচ্ছে


শিক্ষা ক্ষেত্রে আমার দেশটি দিন দিনই রসাতলে যাচ্ছে

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

কামরুল হাসান মামুন : সরকারি কলেজের একজন অধ্যক্ষ কে হন এবং চাকরির কোন পর্যায়ে হন? বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এন্ট্রি লেভেলের প্রথম নিয়োগ সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে। এই প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হতে তাদের অনেকদিন লাগে। ততোদিনে তাদের সহপাঠীরা যারা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পায় তারা ইউএনও কিংবা তারও উপরে উঠে যায়। আর সহকারী অধ্যায়করা যতোদিনে সহযোগী অধ্যাপক হন ততোদিনে সহপাঠীরা যারা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পায় তারা ডিসি কিংবা উপসচিব এমনকি যুগ্ম সচিবও হয়ে যান। কলেজের সব শিক্ষকের কপালে অধ্যাপক হওয়া জুটে না। আর অধ্যাপক হলেই অধ্যক্ষ হন না। অধ্যক্ষ হন খুব কম সংখক মানুষ। আজকাল সব সরকারি কলেজেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স এবং মাস্টার্স পড়ানো হয়। তাই সরকারি কলেজগুলো একেকটি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়েরই মতো। দেখা যাবে অনেক অধ্যক্ষের অনেক ছাত্র ততোদিনে ডিসি-এসপি হয়ে তারই উপজেলায় পদায়ন হয়েছে। গতকাল দেখলাম ‘আইসিটি’র বিকাশ ও উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি বিষয়ক কমিটি করা হয়েছে যার প্রথম উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার এমপি, দ্বিতীয় উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান, যেই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চতুর্থ ব্যক্তি সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারপর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। কি ভাষায় ধিক্কার জানালে আমার মনের ক্ষোভ পুরোটা ডিসচার্জ হবে সেই ভাষাই আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি অথবা আমার জানা নেই। এদেশে নাকি শিক্ষকদের অনেক মর্যাদা! এগুলোর লজ্জা লাগে না তার স্যার/শিক্ষককে এমনভাবে অসম্মান করতে? এগুলো কি লজ্জার মাথা খেয়ে বসে আছে? এদেশের শিক্ষার উন্নতি কেমন হবে? তাদের সন্তানদেরই বা সুশিক্ষা কোথা থেকে আসবে? তাদের বলদামির আরেকটি উদাহরণ দিতে চাই।

‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রের একটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, তারা ২৭২৯ দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চ্যাম্পিয়ন হয়। সম্প্রতি নাসা এই চারজনকে ফ্লোরিডার কেনেডি সেন্টারে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ছয় কর্মকর্তা, বেসিসের পাঁচজনসহ মোট ১৬ জন সরকারি কর্মকর্তা। নাসার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক জনপ্রতি দুই লাখ ৭৭ হাজার টাকা করে বাজেট দেয়া হয়েছে। অগ্রিম এয়ার টিকিট, হোটেল ভাড়া করা হয়েছে। কিন্তু ভিসা জটিলতায় এই ভ্রমণের ‘মূল আকর্ষণ’ চারজন প্রতিযোগী যেতে পারছেন না। ফলে প্রতিযোগীরা অংশ না নিলেও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি সালমা সিদ্দিকা মাহাতাব, মো. আবুল খায়ের, মো. দিদারুল আলম, হাইটেক পার্কের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. আবদুল হাই, আইডিয়া প্রোজেক্টের কাজী হোসনা আরা ও আইসিটি ডিভিশনের প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একরামুল হক এবং বেসিসের পরিচালক দিদারুল আলম সানি এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। মানে এবার বোঝেন আমাদের শয়তানি আর বলদামি কোন লেভেলে পৌঁছেছে। প্রায়ই খবরের কাগজের সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের আমলাদের বিদেশ ভ্রমণপ্রীতি ভীষণ। যেকোনোভাবেই হোক বিদেশে যেতে তারা মরিয়া। আর প্রাডো/পাজেরো গাড়ি। দেশ জাহান্নামে যাক আর দেশের টাকার অপচয় হোক। তাতে তাদের কিচ্ছু আসে যায় না। এমনটি পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখা যায় না। তাদের কাজ চাকরের মতো অর্থাৎ ভধপরষরঃধঃড়ৎ হিসেবে আমাদের কাজকে এগিয়ে দেয়া। মাত্র কয়েকদিন আগেই দেখলাম শিক্ষকদের শিক্ষা সফরে যাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ৯ কর্মকর্তা! এ রকম সংবাদের অভাব নেই। অতি সম্প্রতি এমনি আরেকটি সংবাদ দেখে আমি বিস্মিত হই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণে একটি মিটিং আহ্বান করেছেন। উক্ত মিটিংয়ে যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান, মেম্বার তো অবশ্যই। তারপরই আছে দুইজন অতিরিক্ত সচিব (সচিব না কিন্তু! তিনি ঃড়ড় নরম ঃড় নব ঃযবৎব), যুগ্ম সচিব, উপসচিব পর্যায়ের ২ জন কর্মকর্তা। এছাড়া সচিব ও পরিচালক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এবার বোঝেন আলোচনা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ আর তাদের প্রমোশন নীতিমালা নিয়ে অথচ সেই কমিটির সদস্যদের অনেকেরই বিশ্ববিদ্যালয় কি সেই সম্বন্ধেই ভালো জ্ঞান থাকার কথা নয়। ঝঃৎরপঃষু ংঢ়বধশরহম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের এন্ট্রি লেভেল হওয়া উচিত সহকারী অধ্যাপক লেভেলে যার ন্যূনতম যোগ্যতা হওয়া উচিত পিএইচডি প্লাস ভালো গবেষক হিসেবে প্রমাণের দলিলাদি। এখানে এই আমলারা কি ভূমিকা রাখবে? বর্তমান পৃথিবীতে শিক্ষক নিয়োগের মানদ- কোন লেভেলে পৌঁছেছে তারা কি জানে? হওয়া উচিত ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত গুণী-জ্ঞানী শিক্ষক সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত কমিটি যার সাচিবিক দায়িত্ব পালন করতে পারতেন একজন সচিব! এসবই প্রমাণ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমার দেশটি দিন দিনই রসাতলে যাচ্ছে। এদের ধারণাই নেই কার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। ফেসবুক থেকে

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]