সময় বড় আজব জিনিস!

আমাদের নতুন সময় : 21/07/2019

আকতার বানু আল্পনা

আমি ছোটবেলায় বন্যা খুব পছন্দ করতাম। তার কারণ ছিলো চারটা : ১. আমার নানার বাড়ি হলো গ্রামের শেষ মাথায়। বাড়ির সীমানার ঠিক পরই নিচু খোলা প্রশস্ত বিশাল মাঠ। আর মাঠের মাঝখান দিয়ে আছে একটা বড় নালা, যেটা নদীতে গিয়ে পড়েছে। বন্যা হলেই পুরো মাঠ ডুবে যায়। আর ওই নালা দিয়ে বিলের সব পানি নদীর দিকে গড়াতে থাকে। তখন খালটাই একটা ছোট নদী হয়ে যায়। আমরা ছেলেমেয়েরা কলার ভেলায় চড়ে ডুবে যাওয়া গোটা মাঠ আর নালায় ঘুরে বেড়াতাম। ভীষণ মজা! চারদিকে শুধু পানি আর পানি। স্কুল নেই, লেখাপড়া নেই, কাজও নেই। সারাদিন শুধু পানিতে খেলা। কেউ কিছুই বলে না। মজাই মজা! ২. বেশি বন্যা হলে বাড়ি ডুবে যাওয়ার কারণে উঁচু রাস্তার উপরে ধনী-গরিব সবাই জড়ো হয়ে থাকতে বাধ্য হয়। আমার নানী-খালারা তখন বাধ্য হয়ে মাটির অস্থায়ী চুলায় রান্না করে। আমার কাছে তখন সেই রান্নাকে ‘পিকনিক পিকনিক’ বলে মনে হয়। খুবই মজা! ৩. বন্যায় উপচে যাওয়া পুকুরের মাছ ধরা হয়। সবাই যে যার মতো জাল নিয়ে মাছ ধরে। ফলে প্রতিদিন মাছভাত খাওয়া হয়। বেশি করে পেঁয়াজ, ঝাল-মসলা দিয়ে রান্না করা ছোট-বড় মাছের তরকারি খেয়ে মনে হতো যেন অমৃত খাচ্ছি! ৪. রাস্তার উপরে অস্থায়ী টিনের ঘর বানানো হতো। কিন্তু বৃষ্টি না হলে আমরা ছোটরা খেজুর পাতার পাটি বিছিয়ে ঘুমাতাম খোলা আকাশের নিচে। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে গল্প করা আর চাঁদ দেখা। আমি জোছনা দেখে অভিভ‚ত হয়ে যেতাম! বন্যার পানির উপরে চাঁদের আলোর ঝলকানি, কী যে অপূর্ব সে দৃশ্য! ক’দিন ধরে বন্যাদুর্গত মানুষের ভোগান্তির ছবি দেখে খুব খারাপ লাগছে। অথচ একসময় এই বন্যার পানি দেখেই আমি ভীষণ খুশি হতাম! মর‌্যাল অব দ্য ঘটনা : সময় বড় আজব জিনিস! আপনি একই ব্যক্তি। কিন্তু দুটো আলাদা সময় আপনার ভাবনা, অনুভ‚তি, আবেগ, যুক্তি… ইত্যাদি সব কিছু বিপরীতমুখী করে দিতে পারে! আজব! বড়ই আজব! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ