বিনষ্ট হচ্ছে প্রজননক্ষেত্র, বিলুপ্তির পথে মহাশোলসহ বহু মূল্যবান মাছ

আমাদের নতুন সময় : 27/07/2019

মতিনুজ্জামান মিটু : উপমহাদেশে ‘স্পোর্ট ফিশ’ হিসেবে সমাদৃত মহাশোল মাছ বাংলাদেশের বিপন্ন প্রজাতির কার্প জাতীয় মছের মধ্যে অন্যতম। কয়েক দশক আগেও দেশের পাহাড়ী অঞ্চলের ময়মনসিংহ, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরের খর¯্রােতা নদী, ঝর্ণা, লেক এবং পাশ্ববর্তী খাল বিলে দুই প্রজাতির মহাশোলের প্রাচুর্যতা ছিলো। বিভিন্ন মনুষ্যসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক কারণে দেশে মহাশোলসহ বহু মূল্যবান মৎস্য প্রজাতির বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মহাশোলের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে কমে মাছটি প্রায় বিলুপ্তির পথে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য অধিদপ্তর সূত্র জানান, কার্পজাতীয় অন্যান্য মাছের চেয়ে অত্যন্ত কম ডিম ধারণও মহাশোলের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে মাছটির জীববৈচিত্র রক্ষায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট(বিএফআরআই) গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এর জীববৈচিত্র সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউটে প্রজননের মাধ্যমে  উৎপাদিত পোনা বিভিন্ন জলজ পরিবেশে অবমুক্তি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ভাতে-মাছে বাঙালি এই বহুল প্রচারিত প্রবাদটি এখন আর তেমন একটা উচ্চারিত হচ্ছেনা। লোকসংখ্যা  বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের ওপর চাপ এতোটাই বেড়েছে যে, এখন সারা দেশে চাষ করা ছাড়া দেশীয় মাছ খুব একটা দেখা যায় না। হারিয়ে গেছে অনেক দেশীয় মাছ। অতি জনপ্রিয় শোল এখন আর সারা মাছের বাজার খুঁজলেও খুব একটা পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তাও চাষ করা। সবার অতি প্রিয় খইলশা মাছটি এখন আর সারা দেশে খুব একটা দেখা যায় না। টাকি মাছটি কম বেশি পাওয়া গেলেও তাও অতি সামান্য। গ্রামাঞ্চলে এখনো টাকি মাছ পাওয়া  গেলেও শহরে খুবই দুর্লভ। পুটি মাছটি বাজারে গেলে আর দেখতে পাওয়া যায় না। দামের দিক দিয়ে এই মাছটির দাম এতই বেশি ইচ্ছা করলেও কেনা যায়না। অতি মর্যাদাশালী স্বরপুঁটি মাছ বিলুপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। দেশীয় মাগুর হিসেবে মানুষ যে মাছটি কিনছেন সেটি মূলত চাষ করা। সবার প্রিয় এই মাগুর মাছও বিলুপ্তির পথে। অসুস্থতার সময় রোগীকে খায়ানো হতো শিং মাছ। এখন এর পরিবর্তে হাইব্রিড শিং মাছ উৎপাদন হচ্ছে। দেশি চিতল এতোটাই বেশি জনপ্রিয় ছিল যে, গল্প-উপন্যাসে এই মাছটির উপস্থিতি দেখা যেত। এখন নদীর চিতলের পরিবর্তে কিনতে হচ্ছে চাষ করা চিতল। বাঘাইড় সোমেশ্বরী নদীতে এই মাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যেত। এখন এটি অনেকটা স্বপ্নের মতো। চূড়ান্ত বিলুপ্তির পথে রয়েছে রিটা, মেনি, ফলি, রানী, গইন্যা, গজার, মলা, চেলা, চান্দা, চাপিলা, পাবদা, বইচা, তারা বাইম, টেংরা, গোলমা, কাইক্কা, ভাটা, দর্গি, তেলাপিয়া, বাইম, সুবনখোরা। প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশে দেশীয় মাছের চাহিদা থাকলেও  এখন হাইব্রিড অথবা পুকুরের চাষ করা মাছ বাজার দখল করে নিয়েছে। অথচ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ পুষ্টিমান অনেক বেশি। সম্পাদনা : কাজী নুসরাত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]