যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় না পেয়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছি বললেন, এসকে সিনহা

আমাদের নতুন সময় : 28/07/2019

রাশিদ রিয়াজ : সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মনে প্রাণে ইচ্ছা আমার আমি দেশে ফিরে যেতে চাই। দেশে যেয়ে আমি চ্যারিটিমূলক কাজ করতে চাই। কিন্তু প্রশাসনের সহায়তা না পেয়ে আমি দেশে ফিরতে পারছি না। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে আমি এখন কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি। তার এ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার খবর সর্বপ্রথম কানাডার একটি ইতালির পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এরপর আমাদের নতুন সময়ের কানাডা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী বোখারী টরেন্টো থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠান যা ২৫ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এরপর এসকে সিনহা নিজেই বিবিসি বাংলাকে বিস্তারিত সাক্ষাতকার দেন।

বিবিসি বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের  আবেদন গৃহীত না হওয়ায় গেলো ৪ জুলাই তিনি তার স্ত্রীসহ স্থল সীমান্ত দিয়ে  কানাডায় ঢুকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে। এদিকে পূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মনোবল থাকলে এসকে সিনহার দেশে ফিরে আইনী লড়াই শুরু করা উচিত।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি রাজনৈতিক আশ্রয় নেইনি। এই চিন্তা আমার মাথায়ই আসেনি যে আমি অ্যাসাইলাম নেবো। কিন্তু যখন আমার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ প্রকাশিত হচ্ছে, সেসময় সিডি লিকড আউট হয়ে গেলো, তখনই গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমার ওয়াইফকে প্রেসার ক্রিয়েট করলো বইটা প্রকাশ না করতে। তখনি আমি আমেরিকায় অ্যাসাইলাম চাইলাম।

এস কে সিনহা বলেন, অ্যাসাইলাম নিতে যথেষ্ট কারণ দাখিল করতে হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে অ্যাসাইলাম দাবি করতে গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টগুলো দাখিল করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমেরিকা দুই তিন মাস কিছু করলো না। এরপর এটা ডেফারড করলো ইনডেফিনিট পিরিয়ডের জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য দেড় বছরেও তারা কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি।

শুক্রবার সিনহা জানান, এক পর্যায়ে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার যেহেতু কোন স্ট্যাটাস ছিল না, কোন ইনস্যুরেন্সই ছিল না। ফাইনান্সিয়াল  সাপোর্ট কিছু বন্ধু বান্ধবরা করতো, বই এর কিছু রয়্যালিটি পেয়েছিলাম, এটা দিয়ে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করছিলাম। এই কারণে অনেক চিন্তাভাবনা করে কানাডায় আসার চিন্তাভাবনা করলাম।

বিচারপতি সিনহা এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি দেশে ফিরবেন। সেই পরিকল্পনা কি এখন স্থগিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন প্রধান বিচারপতি ছিলাম, সেসময় যদি আমাকে গৃহবন্দি রাখা হয়, দেড় পছর পর আমাকে একটা মামলা দিয়ে দিলো, তাদের (সরকার) ইনটেনশন যদি ভালো থাকলে এটা করতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সরকার একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির ‘হিউমিলিয়েশন’ বা মানহানি করছে পদে পদে। এবং বলেন, ‘এখানে আসার পরে আমূল পরিবর্তন যেটা পেলাম, তারা (কানাডা সরকার) স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছে, তারা বলছে স্যার আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আমরা আপনার পাশে আছি। থাকার ব্যবস্থা সবকিছু তারা অ্যারেঞ্জ করে দিচ্ছে।’

সিনহা বলেন, ‘আমেরিকাতে আসার পরই আমি, আমার ডিপ্লোমোটিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করলাম এবং একজন লোক পাঠিয়ে কনসাল জেনারেলকে টেলিফোনে বললাম যে আমাকে যেন একটা নরম্যাল পাসপোর্ট দেয়া হয়। কনসাল জেনারেল আমাকে বললেন, আমি আপনাকে ঢাকার অনুমতি নিয়ে দেব।’ এরপর বিচারপতি সিনহার পাসপোর্টটি নেয় দূতাবাস। প্রায় ছয় মাস পরে আমি জানতে চাইলাম আমার পাসপোর্টটার কী হলো। তিনি বললেন, স্যার আমাদের ডিপ্লোমেটিক ব্যাগ আসে নাই। ঢাকা থেকে অ্যামেরিকাতে দেড় বছরেও ডিপ্লোমেটিক ব্যাগ আসে নাই। আমার পাসপোর্ট আর আসা হলো না।’

টাকা পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি জানান, নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন। কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি সিনহা জানান, কোন একটি দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রর্থনা করার পর, কানাডায় আশ্রয় চাওয়া যায় না বলে দেশটির আইনে একটি বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি থাকাকালে যাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে সরকার, তাকে যদি রাজনৈতিক আশ্রয় না দেয়া হয়, উন্নত দেশগুলো, যারা মানবাধিকারের কথা বলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা।

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]