এডিস নিধনে মেলাথিউন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

আমাদের নতুন সময় : 30/07/2019

তাপসী রাবেয়া : ২২ বছরের ইতিহাসে দেশে এবার ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু জ্বর। প্রায় ১২ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন এই সংখ্যাটি ডেঙ্গু আক্রান্তদের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নয়। বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৮ জন। কীটপতঙ্গবিদরা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে শতভাগ আন্তরিকতা থাকতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটপতঙ্গবিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, যেকোনো ধরনের মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে তৃতীয় ধাপের প্রতিষেধক। ঢালাওভাবে প্রচলিত মশা মারার কীটনাশককে অকার্যকর বলার সুযোগ নেই। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মশা মারতে ব্যবহার করে প্যারামেট্রিন, ট্রেটামেট্রিন ও এসবায়োলেট্রিনÑএই তিন ধরনের রাসায়নিকের মিশ্রণ। এই মিশ্রণের একটি প্যারমেট্রিনকে অকার্যকর ঘোষণা করছে আইসিডিডিআরবির গবেষণা। তাই নতুন একটি কীটনাশক ব্যবহার জরুরি। নতুন কীটনাশক আমদানিতে বেশ জটিলতা রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন প্রস্তাবিত মেলাথিউন  আনা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এডিস মশা জন্মায় নীরবে লোকচক্ষুর অন্তরালে। এডিস মশাকে বংশবিস্তারের সুযোগ দেয়া যাবে না। লার্ভা থেকে উড়ন্ত অবস্থায় চলে আসলে এই মশাকে মাত্র ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশেন ব্যবহার করে পেলেট্রিন, ট্রেটামিন ও এসবায়োএন্যালেট্রিন।

এসব ব্যবহার করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায়নি কেন জানতে চাইলে এই কবিরুল বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে মশা। এছাড়া প্রজনন মৌসুমের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শুধু ওষুধ ছিটালেই মশা নিয়ন্ত্রণ হবে না। কখন কোথায় কিভাবে এসব ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, তেমন যথেষ্ট দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। মশার প্রজননক্ষেত্র এবং এর পরিবেশ-প্রতিবেশ বুঝে, সেই অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। নয়তো ওষুধ যাবে, টাকার গচ্চা হবে, মশা মরবে না কিন্তু কীটনাশকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানুষের ক্ষতি করবে।

অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিতত্ত্বের গবেষক ড. আহসান বলেন, ম্যালেরিয়া জীবাণু যে পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে সেই পদ্ধতি নেয়া উচিত। নতুন ওষুধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। প্রাথমিকভাবে মশার উৎপত্তিস্থলে ব্লিচিং পাউডার, লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। সারাবছর ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলে বাসাবাড়িতে মশার আস্তানা তৈরি হয় না। এটি মশার লার্ভিসাইড ধ্বংসে কার্যকর।

জাপানের কানজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ গবেষক জান্নাতুন নাঈম জাবীন বলেন, টেম্পোস৫০ ইসি নামে একটি ওষুধ রয়েছে, যা দেশেই পাওয়া যাবে। এটি ব্যবহারে বাচ্চা মশা ধ্বংস হয় শতভাগ। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]