• প্রচ্ছদ » আমাদের বাংলাদেশ » কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে একযোগে  মশানিধন কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দিলেন ড. রেজাউল ইসলাম


কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে একযোগে  মশানিধন কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দিলেন ড. রেজাউল ইসলাম

আমাদের নতুন সময় : 30/07/2019

জুয়েল খান : ইদানীং ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। এডিস নামে এক ধরনের মশা ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করে এবং এটা মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। এটা ঈঁষরপরফধব পরিবারের একটি পোকা। এর বৈজ্ঞানিক নাম অবফবং ধবমুঃঢ়র.সারা দুনিয়ার সব পোকারই শরীরের গঠন, মুখাংশ (সড়ঁঃয ঢ়ধৎঃং) এক এক শ্রেণির হয়ে থাকে। যাইহোক, এই এডিস মশার মুখাংশ হচ্ছে চরবৎপরহম ধহফ ংঁপশরহম ঃুঢ়ব. অর্থাৎ এরা লক্ষ্যবস্তুতে শুর ঢুকিয়ে দিয়ে রক্ত বা অন্য কিছু চুষে নেয়। এডিস মশা তাদের শুর দিয়ে মানুষের রক্ত গ্রহণ করে এবং ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী রোগের সংক্রমণ ঘটায়। আবার যেকোনো পোকারই জীবন চক্রের সাধারণত ৪ টি পর্যায় থাকে। যেমন ঊমম-খধৎাধব-চঁঢ়ধ-অফঁষঃ.এর কমবেশিও হতে পারে। তাই শুধু পুর্ণাঙ্গ এডিস মশাই নয়, এদের ডিমও ধ্বংস করতে হবে। জীবন চক্রের যেকোনো পর্যায়েই এদের ধ্বংস করতে হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম।

তিনি বলেন, এব্যাপারে আমাদের ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসা দিচ্ছেন। রেডিও- টেলিভিশনে ব্যাপকভাবে প্রচার হচ্ছে। সরকার খুব আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি মোকাবেলা করছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, এই এডিস মশা দমনে ওষুধ কাজ করছে না ইত্যাদি ইত্যাদি। তাছাড়া ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর আক্রমণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কীটনাশকের কার্যকারিতার ওপর (সড়ফব ড়ভ ধপঃরড়হ) নির্ভর করে কীটনাশককে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করা হয়। পোকার শরীরের গঠন, মুখাংশ ও কীটনাশকের ধরন সব মিলিয়ে কীটনাশক প্রেস্ক্রিপশন করা জরুরি। এডিস মশা দমনে হয়তো সেটাই হয়েছে। আবার মশার রেসিস্টেন্ট ক্ষমতা বেড়ে গেছে এটাও হতে পারে। এটা হয়েছে কৃষিবিদদের পরামর্শমতো কীটনাশক ব্যবহার না করে সারাদেশে নিজের খেয়ালখুশি মতো কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে। তারপরও এটা ভালোভাবে মিলিয়ে নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে কৃষিবিদ, বা কীটতত্ত্ববিদদের (বহঃড়সড়ষড়মরংঃ) পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে এডিস মশা দমনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমার নিজস্ব কিছু সুপারিশ-১, ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। ২-জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করতে হবে। ৩-স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, সাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রশিক্ষকসহ সবাইকে নিয়ে কমিটি করতে হবে। ৪-প্রতিটি জেলা, উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বাফার স্টকে প্রচুর পাওয়ার স্প্রেয়ার, হ্যান্ড স্প্রেয়ার মজুদ আছে এবং দক্ষ জনবল আছে। এমনকি পৌরসভাগুলোতেও থাকতে পারে। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে দেশের সব জায়গায় একযোগে মশা নিধন কর্মসুচি নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে সব বিভাগের সাথে সমন্বয় করতে হবে। ৪-নিজ নিজ দায়িত্বে সবার বাড়িতে মশা নিধন করতে হবে। ৫-মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে, এ ব্যাপারে অলসতা প্রদর্শন করা এই মুহুর্তে ঠিক নয়। ৬-সঠিক কীটনাশক, সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে-সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ৭-প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখতে হবে। ৮-এভাবে এডিস মশা দমন করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ একেবারেই কমে আসবে। ৯-শুধু ডেঙ্গুর আক্রমণ হলেই নয়, সারা বছর প্লান করে মাঝে মাঝেই মশা নিধনের কাজ করতে হবে। ১০-লক্ষ্মণ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে হবে। ১১-ফুলের টব, ছোটজলাশয়, ঝোপঝাড় পরিস্কার করতে হবে। ১২-মনে রাখতে হবে, শুধু এডিস মশাই ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে তাই এদের দমন করলেই সংক্রমণ আশাতীত ভাবে কমে আসবে। বর্তমানে সবার মধ্যেই একটা ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আসুন সবাই মিলে সরকারের সাথে এডিস মশা নিধন করি। ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাই।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]