• প্রচ্ছদ » লিড ১ » রাজধানীর অনেক হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা বন্ধ,  রোগীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৬শ ৮৩ জন, ঢাকায় ৯শ ৯২, অন্যান্য জেলায় ৬ শ ৯১ জন


রাজধানীর অনেক হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা বন্ধ,  রোগীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৬শ ৮৩ জন, ঢাকায় ৯শ ৯২, অন্যান্য জেলায় ৬ শ ৯১ জন

আমাদের নতুন সময় : 03/08/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : ডেঙ্গু রোগীরা এবার পড়েছেন শনাক্তকরণ বিপাকে। জ¦র আসলেও ডেঙ্গু হয়েছে কি না তা জানার উপায় নেই তাদের ঋপনপলা। রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ এলাকার বেশ ক’টি হাসপাতাল কিটস সংকটে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষাটি বন্ধ রেখেছে। তবে এখনও কিটস সরবরাহ রয়েছে ধানমন্ডি-কলাবাগান-গ্রীণরোড এলাকার প্যাথলজি ল্যাব-হাসপাতালে। এই অবস্থায় গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬শ ৮৩ জনে। এদের মধ্যে শুধু রাজধানীতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৯শ ৯২ জন। আর সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ শ ৯১ জনে।

সরেজমিনে রাজধানীর মগবাজার ওয়ারল্যাস গেইটে কমিউনিটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ওখানকার অভ্যর্থনা ডেস্কের সামনে বড় করে একটি কাগজে লেখা রয়েছে এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়না। জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার বলেন, গতকালকেই আমাদের সরবরাহে থাকা ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণের জন্য কিটসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা আর করছি না। এমনকি নতুন কোনো রোগীও ভর্তি নিচ্ছি না। একই কথা বলেন মগবাজারের রাশমনো হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক অন্তু জামান। তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই আমাদের এখানে নতুন করে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস আসছে না। তাই আজ(গতকাল) সকাল থেকে আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা করছি না। হাসপাতালের করিডোরের দেয়ালে বড় করে একটি কাগজে লিখে রাখা হয়েছে এখানে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা হচ্ছে না। হলিফ্যামিলি, আদ্-দ্বীন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল সব জায়গায় একই অবস্থা। তাই নতুন করে জ¦রে আক্রান্ত রোগীদের কি করণীয় বুঝতে পারছেন না। হলিফ্যামিলিতে একদিনের জ¦র নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা সঞ্জয় জানান, এখন পর্যন্ত ৪ টা হাসপাতাল ঘুরেছি। কারও কাছেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কিটস নেই বলছে। এ অবস্থায় কোথায় যাবো কি করবো বুঝতে পারছি না।

তবে কিটস থাকলেও নতুন করে কোনো রোগীকে ভর্তি করার মতো সিট খালি নেই রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালের। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা.আশীষ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের আউটডোর, ওয়ার্ড, কেবিন সব জায়গায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। তবে আমরা ২৪ ঘন্টা ডেঙ্গু পরীক্ষা এখন পর্যন্ত চালু রেখেছি। জানিনা কিটসের সরবরাহ কতক্ষণ থাকবে। তবে আমরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চাপে অন্যান্য রোগীরাও হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় ঘরেই ফিরে যাচ্ছে। মহাখালীর বাসিন্দা সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকন জানান, তার ছোট মেয়ের গতকাল শুক্রবার ভোরে হঠাৎ তীব্র শ^াসকষ্ট শুরু হয়। জরুরিভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ওখানে জায়গা খালি না পাওয়া পরে শ্যামলির শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ওখানে রোগী ভর্তি করতে অনীহা জানায় কর্তৃপক্ষ। জরুরি বিভাগে নেবুলাইজার দিয়েই ফিরিয়ে দেয় রোগীকে। ফলে একপ্রকার আশংকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাদের।

সরেজমিনে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওখানে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রোগীরা অপেক্ষা করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এসএন-১ কিটসটি আছে। তাই আমরা ডেঙ্গুর শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছি। একই চিত্র দেখা যায় শমরিতা হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতালেও। এসব হাসপাতালে ডেঙ্গুর মূল্য নির্ধারণ করে একটি বিজ্ঞপ্তিও টানিয়ে রাখা হয়েছে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সাথে নিজেদের স্বচ্ছতাও প্রমাণিত হয় বলে মন্তব্য করেন বিআরবি হাসপাতালের কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিন।

যদিও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওয়াডগুলোকে ১০ ভাগে ভাগ করে সচেতনতা ও পরিস্কার পরিচ্ছনতা চালানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যাদের বাসায় এডিশ মশার লার্ভা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মশার ওষুধ ছিটানোর কোনো তৎপরতা না দেখায় ক্ষেপেছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসিন্দা এ্যালি রহমান বলেন, মেয়ররা বলার সময় কত কথা বলে। কিন্তু গত এক বছরেও আমাদের এলাকায় কেউ মশার ওষুধ দিয়েছে বলে আমার চোখে পড়েনি। মেয়রদের এর দায়ভার নিতেই হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ডেঙ্গুর মহামারীতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ২৫৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ হাজার ৫৮২ জন।

বিশিষ্ট চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেন, মেয়রদের হম্বিতম্বি দেখে মনে হচ্ছে তারা সুপারম্যান হয়ে যাবেন। আবার এই শুনছি ডেঙ্গু নিধন করতে কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কেউই করছেন না। এরকম ভাবে মৃত্যু আমাদের কারোই কাম্য নয়। রোগ নিয়ন্ত্রণ যেমন জরুরি তেমনি জরুরি জনসচেতনতা তৈরি করা। তাহলেই আমরা একটি ডেঙ্গুমুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হবো। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]