কলকাতায়  লিঙ্গান্তরিত প্রথম তিস্তা-দীপনের বিয়ে হলো কাল

আমাদের নতুন সময় : 06/08/2019

দেবদুলাল মুন্না : গতকাল সোমবার কলকাতায় প্রথম বিয়ে হলো লিঙ্গান্তরিত জুটির। শুধু কলকাতায় নয় ভারতের কেরালা ছাড়া এটি এরকম নতুন ধরণের বিয়ে। ২০১৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রুপান্তরকামীদের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যদিও কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হতে চলেছে রুপান্তরকামী এক জুটির। এর আগে কয়েক মাস আগেও ভারতের কেরালা রাজ্যে রুপান্তরকামী আরেক জুটির বিয়ে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম। এদেরএকজন জন্মেছিলেন সুশান্ত নামে পুরুষ হয়ে। তিনি লিঙ্গান্তরিত হয়ে এখন তিস্তা। তার জন্ম কলকাতার আগরপাড়ায়। বয়স চল্লিশের কাছাকছি। অন্যজন আসামের লামডিং এ জন্মেছিলেন দীপান্বিতা নামে। তিনিও লিঙ্গান্তরিত হয়ে এখন দীপন চক্রবর্তী। তিস্তা ও দীপন আলাদা আলাদা জায়গায় বেড়ে উঠলেও তাদের গল্পটা প্রায় একই রকম। আর এই মিলের কারণেই তারা করতে যাচ্ছেন বিয়ে। মিলটা হচ্ছে দুজনেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে লক্ষ্য করেন যে শারীরিকভাবে তাদের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে শারীরিক পরিবর্তনও ধরা পড়তে থাকে। তাই সিদ্ধান্ত নেন  অস্ত্রোপচারের। সেসময়ও তারা দুজন দুজনকে চিনতেন না। জীবনটা হয়ে উঠেছিল কিছুটা দুর্বিসহ। কারণ তাদের ক্ষেত্রে এরকম শারীরিক ঘটনা ঘটতে যাওয়া ছিল খুবই ব্যতিক্রম।

বছর তিনেক আগে লিঙ্গান্তর সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতার আগরপাড়ায় এসেছিলেন দীপন। তিস্তা দাস এই লিঙ্গান্তর সংক্রান্ত সংস্থাটি চালান। সেখানেই দুজনের পরিচয়। দুজনেই লিঙ্গান্তরিত নারী-পুরুষ। একসময় দুজনেই দুজনের কথা জানান। অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। দুজন দুজনকে ভালোবাসে। অবশেষে বিয়ে হলো তাদের। বিয়ে কলকাতাতেই। দুপরিবারেরও সম্মতি রয়েছে শুধু নয়, তারা ভীষণ আনন্দিত। আগামীকাল  হবে বউভাতের অনুষ্ঠান। দীপন থাকছেন এখন কলকাতার গড়িয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে। বর্তমানে কলকাতার একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। তিস্তা কবি ও সমাজকর্মী। তারা এরিমধ্যে এসাথে থাকার জন্য ফ্ল্যাটও ভাড়া করেছেন সল্টলেকে। ওই বাসাতেই উঠছেন আজ থেকে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]