যেভাবে কাশ্মীরে একাংশ ভারতের হলো

আমাদের নতুন সময় : 06/08/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল :  সোমবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ কেড়ে নিয়েছে ভারত সরকার। কাশ্মীরের একাংশ ১৯৪৭ সাল থেকেই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে কাশ্মীর খুব সহজে ভারতের অংশ হয়নি। ফলে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে কাশ্মীর সঙ্কট। ভৌগলিকভাবে কাশ্মীরের অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে কাশ্মীরের গিরিপথগুলো। এমনকি পারস্য থেকে আর্যদের ভারতে প্রবেশের অন্যতম পথও ছিলো কাশ্মীর। জম্মুর কাশ্মীরি পন্ডিতরা তারই স্বাক্ষ্য দেন। বর্তমান জম্মু ও কাশ্মীর ভূখ-টি অতীতে ‘কাশ্মীর ও জম্মু দেশীয় রাজ্যে’র অধীনস্থ ছিলো। এই রাজ্যের শাসকেরা ঐতিহাসিক বৃহত্তর কাশ্মীর অঞ্চল শাসন করতেন। এখন কাশ্মীর অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে বিবাদ রয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর’ বা ‘ভারত-শাসিত কাশ্মীর’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শাসনাধীনে থাকা অংশটি ভারতে ‘পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর’ এবং পাকিস্তানে ‘আজাদ কাশ্মীর’ নামে পরিচিত।

১৯২৫ সালে হরি সিং কাশ্মীরের রাজা হন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের অন্যতম শর্ত ছিল, ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা তারা স্বাধীনতা বজায় রেখে শাসনকাজ চালাতে পারবেন। ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে। এসময় কাশ্মীরের রাজা গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চান।

রাজা ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন এমন শর্তে লর্ড মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে পশতুনদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। বিষয়টি জাতিসংঘের কাছে যায়। জাতিসংঘ ভারত-পাকিস্তানকে কাশ্মীর থেকে সরে গিয়ে তাদের অধীনে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়। কারণ, এটা অনেকখানি নিশ্চিত ছিল যে গণভোটে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের বেশিরভাগ ভোটারই পাকিস্তানের পক্ষে ভোটদান করবে। এতে কাশ্মীরে ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন জোরালো হওয়ার শঙ্কা ছিল। ভারত বেশ কিছু যুক্তি দেখিয়ে গণভোটে অসম্মত হওয়ায় পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। সেই থেকে যে যেভাবে পেরেছে কাশ্মীরের দখল বজায় রেখেছে। তবে, বড় অংশই আছে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]