আমাদের জীবন, আমরাই বাঁচি

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

অধ্যাপক আবুল হাসনাৎ মিল্টন

ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বর এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখলো বিশ্ববাসী। পরিস্থিতি দেখে শুনে ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’ প্রবাদটির কথা আবার মনে পড়ে গেলো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নতুন ধরনের ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপারে (ডেঙ্গু ডেন ভি-৩) আগেই সতর্ক করেছিলো, দুই সিটি কর্পোরেশন কর্ণপাত করেছিলো বলে মনে হয় না। এমনকি, যখন ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে এবং মহামারী আকারে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, তখনো এটাকে ¯্রফে গুজব বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন দক্ষিণ ঢাকার মেয়র। ঢাকাবাসীসহ সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে কী নির্মম এক তামাশা করেছেন তিনি। এখনো এই মেয়রের কথাবার্তা-কর্মকাÐ খুবই আপত্তিকর এবং অপ্রাসঙ্গিক। ডেঙ্গু মশার কল্যাণে এবার আমরা জানতে পারলাম, মশার ওষুধ কেনার নামে সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়। তাদের লোকজন মশা দমনের জন্য কীটনাশক তেমন ছড়ায় না, যাও ছড়ায় সেটা অকার্যকর। সম্ভবত ভেজাল বলেই মশা মরে না। তবে ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা বনে জঙ্গলে বা ময়লা নর্দমায় নয়, আমাদের বাসায় বা আশপাশেই জন্মায়। টবে, ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, টায়ার বা খোলা পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশার জন্ম হয়। সুতরাং নিজেদের নিরাপত্তার কারণেই আমাদেরই নিজ গৃহকোণে, ছাদে কিংবা বাসার আশপাশে থাকা এডিস মশার উৎপত্তিস্থল নিয়মিত ধ্বংস করতে হবে। এক বা দুবার নয়, সারা বছরব্যাপী নিজেদেরই এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।
সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সময়মতো জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনিতেই গণমানুষের আচরণ বদলানো একটা কঠিন কাজ, তার উপর যদি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কোন কার্যক্রম না থাকে, তাহলে পরিণতি কী হতে পারে তা আজকের ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখেই সহজে অনুমেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এডিস মশা নিধনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এই সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম কেবল বর্ষাকালের আগে-পরে নয়, সারাবছরই চলমান রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দিতে হবে। শীতকালেও কাজ করতে হবে ডেঙ্গু নিয়ে। কারণ ডেঙ্গু বহনকারী মশা পানি ছাড়া যেকোনো স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় যদি ডিম পাড়ে তাহলে সে ডিম তিন বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। বর্ষার মৌসুম না থাকলেও স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে পানির ছোঁয়া পেলে ডিম জেগে উঠবে। জ্বর মানেই ডেঙ্গু জ্বর নয়। জ্বর হলে তাই ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু জ্বর কিনা। ডেঙ্গু জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। বাংলাদেশের মতো দেশে ডেঙ্গু জ্বর হবার আগে প্রতিরোধের চেষ্টা করাই উত্তম। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। আর এই প্রতিরোধে দেশের প্রতিটা নাগরিকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা আছে। আমাদের ঘর-বাড়ি আমরা সারাবছর এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস হয়ে যায়। জীবনটা আমাদের। সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে আসুন আমরা সবাই ভালোভাবে-স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বাঁচি। আমাদের সচেতন আচরণের ভেতরেই নিহিত আছে ভবিষ্যতের ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণের সাফল্য। লেখক : চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]