• প্রচ্ছদ » » জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে মোদী সরকারের ঘোষণা এবং…


জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে মোদী সরকারের ঘোষণা এবং…

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

সুলতান মির্জা

প্রিয়া সাহা যেদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহেবের কাছে বাংলাদেশের ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু ফেরত চেয়ে নালিশ করেছিলো, সেদিন হেসেছিলাম খুব। প্রিয়া সাহা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে কিনা করেছে সেটা ভিন্ন বিতর্ক, কিন্তু দুনিয়ার এক নম্বর উগ্র বর্ণবাদী ব্যক্তির কাছে নালিশ করে প্রিয়া সাহা কেবল বালিশ নিয়ে ফিরবেন সেটা আর কেউ না বুঝলেও সেদিন ঠিকই বুঝেছিলাম।
দিন কয়েক আগে একটা রিপোর্ট দেখলাম, ভারতে বেশ কিছু রাজ্যে সংখ্যালঘু হিসেবে রয়েছে হিন্দু ধর্মের লোকেরা। যেমন মিজোরামের কথা ধরা যাক, সেখানে সর্বমোট জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশ হলো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের, যেখানে হিন্দু হলো ৩.৬ শতাংশ, বাকি হলো বৌদ্ধ ৮.৫ শতাংশ ও মুসলিম ১.১ শতাংশ। মিজোরামে মুসলিমদের যা আছে তারা সকলেই রোহিঙ্গা। নাগাল্যান্ডে ৮৮ শতাংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, ৮.৭ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। অরুণাচলে ৩০ শতাংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, ২৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। মঘালয়ে ৭৫ শতাংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, ১১.৫৩ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়। পাঞ্জাবে ৫৭.৭ শতাংশ শিখ সম্প্রদায়ের, ৩৮.৪ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। কেন্দ্র শাসিত লাক্ষ্যা দ্বীপে ৯৬.২ শতাংশ মুসলিম, ২.২ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়। এর মধ্যে যা দেখলাম সেটা হলো কাশ্মীরে ৬৮.৩ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়, ২৮.৪ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়। অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু হলেও ভারতের অন্য রাজ্যে যেখানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেদের বসবাস সেই তুলনায় কাশ্মীরে হিন্দু সম্প্রদায়ের হার বেশি। জম্মু-কাশ্মীরে সমস্যা সমাধানে ভারতের ব্যর্থতা আছে কি নেই সেটা নিয়ে তর্ক করার ইচ্ছা নেই। কিন্তু এইটুকু সত্যি যে জম্মু-কাশ্মীরের চলমান এই সমস্যা যা আজ থেকে আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে তার মূলে কিন্তু পাকিস্তান। যদি ভারতের স্বায়ত্তশাষিত এই অঞ্চলে পাকিস্তানের মাতবরি না থাকতো তাহলে কোনোভাবেই কাশ্মীরের এই সমস্যা থাকতো না বলেই বিশ্বাস করি। মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল, পাঞ্জাবের কথা ধরুন, সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দু হলেও উক্ত রাজ্যগুলোতে জম্মু-কাশ্মীরের মতো গোলোযোগ নেই, কেন? এর অবশ্য যৌক্তিক কারণ আছে। বিষয়টা জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম রক্ষা বা নিধনের নয়। বিষয়টা হলো ভারতের ভ‚ÑখÐ রক্ষার। শান্তি আসবে না অশান্তি থাকবে সেটার মাশুল মোদিকে গুনতে হবে। তবে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে এবার পাকিস্তানের নাক গলানোর সুযোগ কম, কারণ জম্মু-কাশ্মীরের চেয়ে বেলুচ ও পশতুদের নিয়েই পাকিস্তানকে বেশি ভাবতে হচ্ছে। সুযোগ নেই চীনের নাক গলানোর, কারণ উইঘুর মুসলিম নিয়ে চীন নিজেরাই রেসিস্ট হয়ে বসে আছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে যা করছে সেটা চোখের সামনে, ইরান কথা বলবে না, কারণ বিশ্ববাণিজ্যে একঘরে থাকা ইরানের তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। সকলের ঝামেলা চলছে। ঠিক এমন সময়ে হিন্দু মৌলবাদী বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরে যা করেছে বা করতে চলেছে তার ভালোমন্দের মাশুল হয়তো সাধারণ ভারতীয়দের দিতে হবে কিংবা নরেন্দ্র মোদীকে দিতে হবে। বাংলাদেশের ভারত বিরোধী বিপ্লব দিয়ে চার আনার উপকার হবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]