• প্রচ্ছদ » » জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক ও প্রাণীদের বয়ান


জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক ও প্রাণীদের বয়ান

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

শায়লা সারমিন রিমা

এই প্রথম প্রিন্স মাহমুদের লেখা গানটা পুরো শুনলাম। গান এবং গায়ক বা লেখককে শ্রদ্ধা করা উচিত। করিও। কিন্তু এ-গানাটায় কী এমন এসেছে? যা এসেছে, সাহিত্যে তা অহরহ এসেছে এবং আসবে। এ-গানটায় শতকরা ৭জন সুর মেলাতে পারবে কি না সংশয় আছে। এর চেয়েও হাজার হাজার দেশের গান আছে, যা অঢেল ভালো লাগে। তারপরও জাতীয়সংগীত মানে জাতীয়সংগীত। ঘটনাগুলো ক্রমান্বয়ে হাস্যকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাপারটা এমন যে, নিজের মা থেকে অন্যের মা সুন্দর হলে তার কাছে যেতে হবে। নিজের দেশ দরিদ্র বলে জাপান, ফ্র্যান্স কড়িয়াল দেশগুলোকে ভালোবাসতে হবে। তবে কি নিজের দেশ থেকে সেগুলো আপন হয়ে যাবে? হয়তো যাবে। কেবল বেইসবর্ণ হৃদয়হীন ব্যক্তিদের কাছে।
এই ধরুন, আমার কাঁঠাল একদমই ভালো লাগে না। আম, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, বরই অনেক ভালো লাগে। তাই বলে বলবো যে, কাঁঠাল বাদ? বরইকে জাতীয় ফল বানানো হোক? তেমনি, শাপলার চেয়ে বেলি ফুল বেশি ভালো লাগে। গোলাপ কতো মধুর, প্রেম নিবেদন করতে জানে। তাই বলে কি বলবো জাতীয় ফুল গোলাপ? পাখি দোয়েলের চেয়ে কোকিল, সাদা চিল; বাঘের চেয়ে খরগোশ, কবি নজরুলের চেয়ে সুকান্ত প্রিয়। তাই বলবো যে চেঞ্জ করা হোক? আসলে সবকিছুর সাথে আমাদের একটা একাত্মতা থাকা প্রয়োজন। তা নেই কেন বলুন তো? ওকে, বাদ দিলাম। কেউ কেউ বলছে, “১৯৭১ সালে জাতীয়সংগীত লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে ১৯০৫ সালে। এটা বাংলাদেশকে কী দিলো?” মানলাম আপনাদের এ-কথা। তার আগে বলুন তো, বাংলাদেশ আগে নাকি বাঙালি? বলবেন বাংলাদেশ। আপনি কি জানেন, আমি বাংলাদেশি, এই পরিচয়ের চেয়ে আমি বাঙালি, এ-পরিচয়টা বড়? কারণ, আপনি চাইলে হিন্দু থেকে মুসলিম হতে পারবেন। মুসলিম থেকে হিন্দু, হিন্দু থেকে খ্রিস্টান, মুসলিম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা নিতে পারবেন। তেমনি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারতÑএসব দেশে আপনি নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু চাইলেই কি বাঙালি হতে পারবেন? এবার বুঝুন কোন পরিচয়টি প্রথম দরকার? যাক, অনেকে বলছেন রবীন্দ্রনাথ ঢাকা ভার্সিটি নিয়ে বাজে কথা বলেছেন, তিনি তা বলেননি। আর বলে থাকলেও বা ভুল কী বলেছেন? আমরা যে এক-একটা শিক্ষিত-অশিক্ষিত গাধা হবো, সেটি তিনি আগেই বুঝেছিলেন। তা না হলে কি এমন বলি? যেমন অ্যাডলফ হিটলার দশ লক্ষ ইহুদি হত্যা করে বলেছিলেন, “আমি কিছু ইহুদি বাঁচিয়ে রেখেছি, যাতে মানুষ একদিন বুঝতে পারে, আমি কেন ওদের হত্যা করেছি।” এ-ব্যাপারটা কিছুটা এরকমই। আসলে আমাদের বাঘকে বাদ দিয়ে গাধাকে জাতীয় পশু বানালে ভালো হতো। কারণ আমরা আর গাধা একই প্রাণী। ওতপ্রোতভাবে মানুষ আর প্রাণীর মিল। আসুন এটা নিয়ে একটা মিছিল করি আর একটা শ্লোগান দিই, “আমরা সবাই গাধা/আমাদের এই গাধার রাজত্বে।”




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]