• প্রচ্ছদ » » দুনিয়ায় যতোদিন অরুন্ধতীরা থাকবেন, ততোদিন কাশ্মীরও থাকবে


দুনিয়ায় যতোদিন অরুন্ধতীরা থাকবেন, ততোদিন কাশ্মীরও থাকবে

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

এটিএম গোলাম কিবরিয়া

বাংলাদেশে বসে কাশ্মীরের সঙ্গে সংহতি জানানো অনেকটা বিদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন দÐিত রাজবন্দির সঙ্গে ফাঁসির অপেক্ষায় থাকা বিদ্রোহী রাজবন্দির কথোপকথনের মতো। শেখ আব্দুল্লাহ পÐিত নেহেরুর বন্ধুমানুষ ছিলেন। বড়লোক বন্ধু যেভাবে পুরানো গরিব বন্ধুর মেসেজ সিন করে না, নেহেরুও সেভাবে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহকে জেলে ঢুকান। আব্দুল্লাহকে বলা হতো শের এ কাশ্মীর। সাতচল্লিশের আগে নেহেরু একবার আব্দুল্লাহর সঙ্গে ডাল লেকে শিকারা নিয়ে ভ্রমণের সময় দেখতে পান, পাড়ের লোকজন নেহেরুকে দেখে উল্টোঘুরে তাদের পশ্চাদদেশ দেখিয়ে দিচ্ছে। এহেন আনকুথ বিহেভিয়ার সিভিলাইজড নেহেরুকে যারপরনাই ক্রুদ্ধ করে, তিনি বুঝতে পারেন ভ‚-সর্গে প্রচুর বেয়াদব শয়তান ও থাকে। তারিক আলী এই ঘটনা রসিয়ে রসিয়ে ‘ক্ল্যাস অফ ফান্ডামেন্টালিজমে’ বর্ণনা করেছেন। ভারত যখন ভাগ হয়, তখন ৫৬৫টা প্রিন্সলি স্টেট ছিলো, যাদের ব্যাপারে বল্লভভাই প্যাটেল বলেছিলেন, তিনি ওই ৫৬৫টি ফল তার ঝুড়িতে নিতে চান। জয়পুরের রাণী গায়ত্রী দেবীর বায়োগ্রাফিতে ওই টেনশনটা পাওয়া যায়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োগ্রাফিতেও আছে যে, তিনি আটচল্লিশে হায়দারাবাদ ঘুরেছেন এবং হায়দারাবাদ তখনো স্বাধীন। কাশ্মীর নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছে, আব্দুল্লাহর পুত্র ও নাতিরা তাদের পূর্বজের মতো সোজা মেরুদÐের লোক ছিলেন না।
স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের পুত্র-কন্যারা একটু মৃদুমেরুদÐী হোন, এটা পূর্ব বাংলাতেও আমরা পরবর্তী সময়ে দেখবো। পÐিত নেহরু ব্যতীত আর একজন কাশ্মীরীকে আমি চিনি। হেজেলনাট চোখ আর চিনার বৃক্ষের মতো শরীর। সিডনিতে একটা রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিতে পরিচয়, আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি পাকিস্তানি? বলিলো ‘না’। ও, ভারতীয় তাহলে? ‘না, আমি কাশ্মীরী।’ অরুন্ধতীর মতো তেজ। অরুন্ধতীর নায়িকা তিলোত্তমা। তিলো বলেছিলো, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনারা চেকপোস্টে যখন কাশ্মীরী যুবাদের আটকায়, তাদের হার্টবিট থেকে তারা আজাদী আজাদী আজাদী শুনতে পায়। চিরুনির দাঁতের মতো উপত্যকাজুড়ে ছড়ানো শিশুদের কবর। কাশ্মীরীরা বাবাকে ডাকে বাবাজানা। আর একজন মেজরের কথা আছে, মেজর আ¤্রকি সিং। সদম্ভে সে বলে, ‘ম্যায় ভারত সরকার কা লান্ড হু, মেরা কাম হ্যায় চোদনা’। আর্টিকেল ৩৭০ সম্ভবত বাতিল হচ্ছে, মেজর আ¤্রকি সিংরা ‘মিনিস্ট্রি অফ আট্মোস্ট হ্যাপিনেস’ এর পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে উপত্যকাজুড়ে। হায়দারাবাদ, আইজল, কাশ্মীর। ভারতীয় সেনাদের মর্দাঙ্গীর চিহ্ন সর্বত্র। এই বইতেই একটা অসম্ভব সুন্দর ¯েøাগান আছে, এতো নোনা ¯েøাগান বুটের নিচে আমৃত্যু না থাকলে আসে না সচরাচর। ‘যিস কাশ্মীর খুন ছে ছিঁচা, য়োহ কাশ্মীর হামারা হ্যায়’ এই দুনিয়ায় যতোদিন অরুন্ধতীরা থাকবে, ততোদিন কাশ্মীরও থাকবে। কাশ্মীর কোনোদিন তোমাদের পোষ মানবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]