• প্রচ্ছদ » সাবলিড » দেশে সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি, বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী


দেশে সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি, বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

হ্যাপি আক্তার/মঈন মোশাররফ :  লন্ডনে বিবিসি বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো উস্কানির  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হয়। কিন্তু শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করতে মিডিয়াকে বাধা দেয়া হয় না। বিবিসি বাংলাকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গণতন্ত্র, অনাদায়ী ব্যাংক ঋণ এবং হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিবিসি বাংলা ৭:৩০।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনা চক্রে কিছু ঘটনা হয় তো ঘটতে পারে। গত ১০ বছরে এই ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। যখন আমি নিজের বাবা-মা, ভাই-বোনকে হারালাম, খুনিদেরকে বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হলো। অর্থাৎ অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়া হল। আমাদের তো বিচার পেতে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। যে দেশে অপরাধকে স্বীকৃতি দিয়েই একটি  সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, সেই দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের বিষয়টি আমরা বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন সেইভাবে হেফাজতে মৃত্যু হয় না।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। এই কালচারটাই চলে আসলো এবং এটাই প্রচলিত হলো। মূলত ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই ছিলো, এটিই হলো বাস্তবতা। এই যে কালচার দীর্ঘ বছরের পর বছর চলেছে, সেখান থেকে ফিরিয়ে দেশেকে একটি সুষ্ঠু ধারায় নিয়ে আসা কঠিন দায়িত্ব। এই কঠিন দায়িত্বটি আমরা পালন করে যাচ্ছি। কাজেই এখন যারা বলছে সুনির্দিষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করেন, আমরা মনে হয় তারা তেমন কোনো তথ্য দিতে পারবে না কিন্তু একটা শ্রেণি আছে যারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের ভেতর একটা অসাংবিধানিক বা অস্বাভাবিক সরকার অথবা ইমার্জেন্সি সরকার যারা মিলিটারি রোলার আসলে তাদের খুব দাম বেড়ে যায়। খুটিনাটি বিষয় নিয়ে তারা সারাক্ষণ আমাদের পেছলে লেগেই থাকে। কিন্তু আমার কথা হলো দেশের মানুষ ভালো আছে কিনা।

অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-৬ সালে দেশে দারিদ্রের হার ৪১ ভাগের ওপরে ছিলো কিন্তু তা কমে ২১.৪ ভাগে কমে এসেছে। মাত্র ১০ বছরে তা অর্জন করতে পেরেছি। মাথাপিছু আয় মাত্র যা মাত্র ৪’শ-৫’শ মার্কিন ডলার ছিলো, তা থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছে যাচ্ছি। প্রবৃদ্ধি যখন বাড়তে থাকে সাথে সাথে মূল স্ফিতিও বাড়তে থাকে কিন্তু তা আমরা বাড়তে দেইনি, নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। যা খুব স্বাভাবিকভাবে এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।

ব্যাংকিং ক্ষাতের নাজুক অবস্থা ও বিপুল পরিমাণে খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতটা প্রচার হয় বিষয়টা কিন্তু এতোটা না। আমি নিজেও বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রণালয় ও সচিবদের সঙ্গে সভা করেছি। ঋণ নিয়ে না দেয়ার কালচার আমাদের দেশে আছে। আমরা যখন সরকারে আসছি সবসময়ই চেষ্টা করছি টাকাটা আদায় করার। সব সময় শুধু মার মার কাট কাট করলে তো হবে না। নরমে গরমে যেভাবে সম্ভব আদায় করতে হবে। এবারে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এবং সময় বেধে দেয়া হয়েছে এবং ঋণ আদায়ে সময়ও বেধে দেয়া হয়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধ না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেখেন এই সমস্যাগুলো যদি বড় হতো তাহলে আমাদের অর্থনীতি কী এতো মজবুদ হতো। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা কি এতো শক্ত হতো।

বর্তমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মান ও চর্চা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার আগে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের পূর্বে দেশে একটি টেলিভিশন ছিলো, একটি রেডিও এবং কয়েকটি সংবাদ পত্র ছিলো। আমি ক্ষমতায় এসব উন্মুক্ত করে দিয়েছি বেসরকারি খাতে। এখন ৪৪টি প্রাইভেট চ্যানেল। আমার উদ্দেশ্য ছিলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। তা নাহলে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে কীভাবে। জিয়াউর রহমান, এরশাদ, এমনকি খালেদা জিয়ার আমলেও এমন স্বাধীনতা কেউ ভোগ করেন নাই। সবাই সবকিছু বলে আর বলে স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনতা না থাকলে এতো কথা বললো কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের সমালোচনা করা যায়। টিভি টক’শোতে এসে বিভিন্ন ধরণের কথা বলে, কেই কাউকে কোনো সমস্যায় পরতে হয়নি তো। এখন উস্কানিমূল কথার মাধ্যমে যদি দেশের ক্ষতি হয় তাহলে তো সমস্যা হবেই। সম্পাদনা : রাশিদ, মারুফ, ইকবাল

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]