সংস্কৃত লিপির জন্ম হয়েছে সিরিয়ায়

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : যোগ ব্যয়ামের পর এবার ভারতের সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য নিয়ে উন্মাদনা তৈরী করতে চান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে নরেন্দ্র মোদী এই ভাষার মাধ্যমে নিজেদের যতোই ঐতিহ্যমন্ডিত করার চেষ্টাই করুক, একটি পুরাতন রজ্জু ভারতকে পেছনে টেনে ধরছে। ইতিহাসের প্রাচীনতম সংস্কৃত লিপির নিদর্শন কখনই ভারতে মেলেনি। এটির সন্ধান মিলেছিলো সিরিয়ায়। অর্থাৎ ভারতের অহংকারের নিদর্শনটি খুব সম্ভবত বিদেশী! স্ক্রল

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি চাইছে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে সংস্কৃতকে ব্যবহার করতে। তবে সমস্যা হলো সংস্কৃত একটি তথাকথিত পবিত্র ভাষা। তাই ‘নিচু জাতের’ মানুষের তা শোনবার পর্যন্ত অধিকার নেই। আর ভারতের ৭৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীই তথাকথিত নিচু জাতের। বিজেপি আর্য সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু তারা মনে রাখতে চায় না, আর্যরা আসলে বিদেশী। তারা এসেছিলো মধ্য এশিয়ার সেতপ থেকে ইরান হয়ে। বিষয়টি জাতীয়তাবাদী মিথের চেয়ে অনেক বেশি জটিলতর। কারণ সংস্কৃততে যারা প্রথম কথা বলা শুরু করেছিলেন তারা হিন্দু নন, এমনকি তারা ভারতীয়ও নন। তারা সিরিয়!

সংস্কৃতির প্রাচীনতম লিপি ব্যবহার হয়ে ঋকবেদে। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় এই লিপি পাথরে খোদাই অবস্থায় ভারতের মাটিতে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে আজকের দিনে উত্তর সিরিয়ায়। দেড় হাজার থেকে ১৩৫০ খ্রীস্টপূর্বাব্দের মাঝামাঝি সময়ে আপার দজলা ফোরাত অববাহিকায় শাসন করতো মিলান্তি নামের এক গোষ্ঠী। মিলান্তিরা যে ভাষায় কথা বলতেন তার নাম হুরিয়ান। হুরিয়ান ভাষা ব্যবহার হতো সিরিয়া, ইরাক ও তুরস্কে। এই হুরিয়ানের সঙ্গে সংস্কৃত’র নিবির সম্পর্ক ছিলো । প্রতিটি মিলান্তি রাজা এবং অভিজাতের একটি করে সংস্কৃত নাম থাকতো। যেমন পুরুষা, তুশরাত্তা, সুভারদাতা, ইন্দ্রতা এবং সুভ্যেন্দু। এসব নাম আজও ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কায় ব্যবহার হয়।

বেদিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলান্তি সংস্কৃতির মিলও ব্যাপক। তারাও রথ কেন্দ্রীক যুদ্ধনীতিতে অভ্যস্থ ছিলেন। রথ ব্যবহারের প্রথম নিদর্শন মিলান্তিদের মধ্যে মেলে। তারা একাধিক সংস্কৃতিক শব্দ ব্যবহার করতেন। যেমন আইকা বা এক, তেরা বা তিন, সাত্তা বা সাত, আশুয়া বা অশ^ মানে ঘোড়া। মিলান্তিরা ঋকবেদের দেবতাদেরই পুজা করতেন। তারা ১৩৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে প্রতিবেশী রাজাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন, যাতে দেবতাদের নাম লেখা ছিলো। দেবতারা হলেন ইন্দ্র, বরুণ, মিত্র এবং অশ^ীন। আজকের হিন্দুরাও এদের পুজা করেন। কোনো সন্দেহ নেই, নরেন্দ্র মোদীর গর্বের ভাষাটি শুধু নয়, ধর্মটাও বিদেশী।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]