• প্রচ্ছদ » » হাফিংটন পোষ্ট: ‘কাশ্মির অবলুপ্তির সঙ্গে ভারতীয় গণতন্ত্রের নিঃশব্দ প্রয়াণ’


হাফিংটন পোষ্ট: ‘কাশ্মির অবলুপ্তির সঙ্গে ভারতীয় গণতন্ত্রের নিঃশব্দ প্রয়াণ’

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তিরোহিত করার পর শ্রীনগরের প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের এক আদেশ বলে ওই রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দিত্ব থেকে ‘হরি নিবাস’ অতিথি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। লক্ষণীয়, ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘আপনার (মুফতি) সাম্প্রতিক কর্মকান্ড শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে কাশ্মিরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শান্তি ও প্রশান্তি (পিস অ্যান্ড ট্যাঙ্কুয়ালিটি) বিনষ্টে মারাত্মক সম্ভাবনার কারণ হিসেবে বিবেচিত। আর তাই আপনাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া গেল।’ একই সঙ্গে পিপলস্ কনফারেন্সের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ লোন ও ইমরান আনসারিও গ্রেফতার হয়েছেন, যারা ক্ষমতাসীন বিজেপি ঐক্যজোটে ছিলেন।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন গত ৫ আগষ্ট আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘হাফিংটন পোষ্ট’ তাদের ভারতীয় সংস্করণের প্রধান সম্পাদক আমান সেথির ‘অ্যাজ কাশ্মির ইজ ইরেজড্, ইন্ডিয়ার ডেমোক্রেসি ডাইস ইন সায়লেন্স’ নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে। এতে উপ-শিরোনামে আশঙ্কাপূর্ণ দুটি প্রশ্ন- ‘পরবর্তীতে কোন রাজ্য অমিত শাহ’র ধারালো ছুরির মুখোমুখি হবে? কোন শহর, জেলা বা পত্তন সমস্যাসংকুল পরিস্থিতি থেকে গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

সেই প্রশ্নদ্বয়ের পরই নিবন্ধের সূচনায় বলা হয়েছে- পুরোপুরি গোপনীয়তায় সংসদীয় ক্ষমতা বলে জম্মু ও কাশ্মির রাজ্য বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি অন্ধকারেই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। রাস্তায় সহ¯্রাধিক সেনা মোতায়েনসহ মধ্যরাতে বাড়ীর কড়া নেড়ে বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি এবং ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৫ আগষ্ট সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পার্লামেন্টে প্রবেশের একটি দৈবাৎ ছবি প্রকাশ থেকে সরকারি আভাসটি জানা গেছে। একটি সারিবিন্যস্ত তালিকা থেকে কাশ্মির বিলোপ উন্মোচিত: ‘সংবিধান বিষয়ক’ শিরোনামের ওই তালিকায় পর্যায়ক্রমিক লেখা- ‘রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতিকে জানানো, পাশে ‘সম্পন্ন’ লেখা। তার আগে মন্ত্রী পরিষদের একটি সভা হয়েছে, তারপর পার্লামেন্টে বিলটি আনা হয়েছে, যেখানে এক ঘন্টাকাল হট্টগোল ও বিরোধী দলের কোনো প্রকার কার্যকর ভূমিকা ছাড়াই ভারতের সেই নতুন মানচিত্রটি প্রতিভাত হয়েছে। পরিকল্পনা ঠিকঠাক থাকলে জম্মু ও কাশ্মির অঙ্গীভূত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যার একটির পদলেহী গভর্নর হবেন সংসদীয় অনুগত এবং অপরজন কেবলই পদলেহী গর্ভনর।

তা হলে কাশ্মিরবাসী? অমিত শাহ’র ওই তালিকায় ‘আইন-শৃঙ্খলা’ শিরোনামের অধীনে ১৪ ও ১৫ নম্বরে যথাক্রমে লেখা: নয়াদিল্লি নিয়ন্ত্রিত সেই বিচ্ছিন্ন ঔপনিবেশ রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর এবং ঔপনিবেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় ‘পোশাকধারী কিছু কর্মকর্তার সহিংস বিদ্রোহের আশঙ্কা রয়েছে’। যদিও কাশ্মির পরিসীমায় ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তি, সেই গণতন্ত্রের প্রয়াণ এখন অন্ধকারে।

এরপরই নিবন্ধটি লিখেছে, স্বাধীন ভারত দেখেছে পুরনো থেকে নতুন রাজ্য-মধ্যপ্রদেশ থেকে ছত্রিশগড়, বিহার ও বাংলা থেকে ঝাড়খন্ড, অতি উত্তরে উত্তরখন্ড, এমনকী রাজ্যের অঞ্চল গোয়া হয়েছে রাজ্য; তা সত্ত্বেও এই প্রথম কোনো রাজ্যের বাসিন্দারা দেখবে কল্পিত অভ্যুদয়।

এভাবে ওই নিবন্ধের মুখ্য প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছে যে, ‘কাশ্মিরের সেই ভবিষ্যৎ সংক্ষেপণে যেভাবে তাদের স্তব্দ করা হয়েছে, সেই স্তব্দতাকে আমরা ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রয়াণ হিসেবে দেখছি।’ বলা মুস্কিল, আগামী কয়েক সপ্তাহে কাশ্মিরের সেই বিলোপ কিভাবে প্রতিভাত হবে। সরকারের অতিভাষী সংবাদ উপস্থাপকরা মুনিবের কথায় নৃত্যরত। তার মাঝে হঠাৎ একজন বলে উঠবে এ এক রাজনৈতিক ‘মাস্টারষ্ট্রক’। কেউ আবার বিরোধী দলকে দোষারোপ করবে। কিন্তু পিছুবার পথ রুদ্ধ, সীমানা লংঘিত, জাতীয় সংলাপ থেকে জন¯্রােত অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমাদের মতো নাগরিকের কাছে অবশ্যই তার আবেদন রয়েছে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা সেখানে জারি করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]