• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » হারানো সংক্রান্ত জিডির তদন্তে অনীহা পুলিশের হতাশ অসংখ্য ভুক্তভোগী


হারানো সংক্রান্ত জিডির তদন্তে অনীহা পুলিশের হতাশ অসংখ্য ভুক্তভোগী

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

ইসমাঈল ইমু ও আসিফ কাজল : জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কথা বলা হলেও তেমন পুলিশি সেবা হচ্ছে না। থানায় জিডি করতে এখন আর বেগ পেতে হয় না, তবে জিডির তদন্ত হয় না। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরাই জানেন না, তিনি জিডির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। আবেদনকারি বারবার তাগাদা দিয়েও সুরাহা পাচ্ছেন না। আবার কোনো জিডির ক্ষেত্রে আবেদনকারি ও আসামী উভয়েরে কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
গত ১৮ মার্চ রাজধানীর সেগুন বাগিচা এলাকা থেকে মোবাইল হারান জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। শাহবাগ থানায় জিডি করার পর তদন্ত কর্মকর্তার পেছনে ঘুরছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে দ্রুত শনাক্ত হবে, এই হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করেন বলে সময় পার করছেন। গত ২০ মার্চ ডিএমপির তেজগাঁও থানায় মোবাইল হারানো বিষয়ে জিডি করেন এক ভুক্তভোগী। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান। ঘটনার পাঁচ মাস পর ওই কর্মকর্তাকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ওই জিডির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কি না তাই জানেন না। পরে জিডির নম্বর তাকে এসএমএস করতে বলেন। এতোদিন পর জিডি নম্বর চাওয়ায় ওই ভুক্তভোগী হতাশ হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে আর এসএমএস দেননি।
গত ২৪ মে শেরে বাংলা নগর থানায় মোবাইল ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় অভিযোগ করেন মেহেদী হাসান নামের এক প্রকৌশলী। চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন এক সপ্তাহ ধরে সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য আসামীকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ওই মোবাইল থেকে জিডি আবেদনকারির কাছে টাকাও দাবি করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামী দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়ার নজির রয়েছে পুলিশে। কিন্ত তার হারানো মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার না হওয়ায় তিনি হতাশ।
২ আগস্ট তেজগাঁও থানার পাশে একটি সিএনজিতে মোবাইল রেখে দোকানে পান কিনতে যান মামুন হাসান নামের এক ব্যবসায়ি। ফিরে দেখেন সিএনজিওয়ালা উধাও। এ বিষয়ে তিনি থানায় জিডি করেছেন। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। চালু করলেই ধরা পড়ে যাবে। মামুন এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশকেও অবহিত করেছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও তার ফোনের সন্ধান পায়নি পুলিশ।
এদিকে ৬ মাস আগে মোবাইল হারিয়ে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা স্বপ্না ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। চুরি যাওয়া মোবাইলটি ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি চায়ের দোকানদার বাবুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। সে ভ্রাম্যমাণ এক সিগারেট বিক্রেতার কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানান।
এদিকে খাদিজা স্বপ্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইলটি পাওয়ার কথা তাকে জানানো হয়নি। থানায় যোগাযোগ করলে মোবাইলটি যশোর বেনাপোল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে এসআই ফেরদৌস জানান।
ডিএমপির ডিসি পদমর্যাদার কয়েক কর্মকর্তা জানান, জিডির তদন্ত হয় না তা ঠিক নয়। একসঙ্গে অনেক জিডি হলে কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে সকল জিডিরই তদন্ত করা হয়। অনেক সময় হারানো মোবাইল ফোনের লোকেশন একেক স্থানে লক্ষ্য করা যায়। আবার বন্ধ থাকে। এছাড়াও মোবাইলের আইএমইআই নম্বর বদলে ফেললে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নতুন চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসলে পুরনো ঘটনা তদন্তে কিছুটা দেরি হতে পারে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]