হিরোশিমা বিভীষিকার ৭৪ বছর পরও বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

দেবদুলাল মুন্না : গতকাল ছিলো বিভীষিকাময় হিরোশিমা দিবস। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এই দিনটিতেই জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ হারান অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি।চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কাশ্মিরকে নিয়ে যুদ্ধাবস্থা বর্তমানে বিরাজমান।বর্তমান পৃথিবী পরমাণু যুদ্ধের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পরমাণু বিজ্ঞানী আর্নেস্ট মোনিজ। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিইও ও কো-চেয়ারম্যান মানিজ মনে করছেন, ক্ষুদ্রাকৃতির বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়েছে বিশ্বে; যেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে একটুখানি অসাবধানতার কারণে অনিচ্ছাকৃত বিস্ফোরণ ঘটতে পারে যখন-তখন।
বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েব সাইট ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড’-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট বলছে, হিরোশিমার ৭৪ বছর পার হয়েছে। কিন্তু, পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি না কমে বরং তা বেড়েই চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানের সহ-পরিচালক ডেভিড রাইট বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান সিদ্ধান্ত এবং পরমাণু চুক্তি নিয়ে টালবাহানার কারণে বিশ্বজুড়ে পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে। যা বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।’ সব পক্ষকে সার্বিক বিষয় মাথায় রেখেই পরমাণু চুক্তি এবং যেন যুদ্ধ না বাঁধে সে বিষয়ে আরও একবার ভাবার পরামর্শ দেন ডেভিড রাইট। বিবিসির প্রতিবেদন এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে প্রায় আট হাজার, রাশিয়ার সাত হাজার, ফ্রান্সের ৪০০, যুক্তরাজ্যের দুই শতাধিক, চীনেরও তেমনই, ভারতের আছে প্রায় ১৩০টি, পাকিস্তানের ১৪০টি, ইসরায়েলের রয়েছে ৮০টি এবং উত্তর কোরিয়ার আছে ২০টি। সব দেশই এসব তথ্যের ব্যাপারে কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখে।
১৯৮৭ সালে ‘কোল্ড ওয়ার’ বা শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে করা মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি আইএনএফ থেকে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াও একই চুক্তি থেকে বেরিয়ে নতুন করে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ইরানও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি আরও শিথিল করে ব্যাপক হারে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো শুরু করেছে।ব্যাপক বৈরী সম্পর্ক উতরে মিলিত হয়েছে উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তি হলেও অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তিনবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।বিষয়টিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহজভাবে নিলেও বিশ্ববাসী তা মোটেও একইভাবে দেখছেন না। কারণ, পরমাণু অস্ত্রের প্রভাব শুধু শত্রুপক্ষের দেশগুলোতেই নয় বরং পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়বে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]