• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » হুজুরকে ফাঁসাতে আবিরকে বলাৎকারের পর গলা কেটে হত্যা, ৫ ছাত্রের স্বীকারোক্তি


হুজুরকে ফাঁসাতে আবিরকে বলাৎকারের পর গলা কেটে হত্যা, ৫ ছাত্রের স্বীকারোক্তি

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

সোহেল রানা : আলমডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আবির হুসাইন হত্যাকা- মামলার মূল রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষক তামিম বিন ইউসুফ এর অত্যাচারে ক্ষুব্ধ হয়ে আবিরকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ওই মাদ্রাসারই ছাত্ররা।
চুয়াডাঙ্গার আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুর রহমানের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা। সোমবার বিকেলে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে সন্ধ্যায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কোর্টসূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জবানবন্দি দেয়া ছাত্ররা হলেন-আনিসুজ্জামান (১৮ ছালিমির হোসেন (১৩), আবু হানিফ রাতুল (১৩) ও মামুন হোসেনের ছেলে আব্দুর নুর (১২) এবং মুনায়েম হোসেন (১৬)।
এ হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী মাদ্রাসা ছাত্র আনিসুজ্জামান তার জবানবন্দিতে বলেছে, তামিম হুজুর আমাদের উপর খুব অত্যাচার করতো। কারণে অকারণে বেত দিয়ে মারতো, বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করাতো। এরই একপর্যায়ে আমি (আনিস), ছালিমির ও রাতুল মিলে পরিকল্পনা করি তামিম হুজুরকে মেরে ফেলতে হবে। আবিরকে মারার আগে হুজুরকে মারার পরিকল্পনা ছিল। এরপর আমরা মাদ্রাসা থেকেই একটি ধারালো ছুরি ও একটি রড নিই। সে মোতাবেক আমরা হুজুরকে মারার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করি। কিন্তু মারতে পারিনি। এরপর ঠিক করি তামিম হুজুরকে যখন মারা গেলো না, তখন হুজুর যাকে নিয়ে এসেছে সেই আবিরকে মারবো। আমরা ভেবেছিলাম আবিরকে মারলে ওর বাবা-মা হুজুরকে সন্দেহ করবে এবং তামিম হুজুর ফেঁসে যাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত (২১ জুলাই) রোববার রাতে আমি ও মুনায়েম আবিরকে নিয়ে মাদ্রাসার পাশের বাগানে কাঠাল খেতে যাই। কিন্তু ভালো কাঠাল না পেয়ে ফিরে আসি। এ সময় আমি মুনায়েমকে বলি তুই একটু দাড়া, আমি আবিরের সঙ্গে খারাপ কাজ করবো। প্রথমে আবিরকে প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়নি, পরে রাজি হলে তার সঙ্গে খারাপ কাজ করি।
এর পর গত (২৩ জুলাই) মঙ্গলবার মাদ্রাসার খড়ির গাদায় একটি ধারালো ছুরি ও রড লুকিয়ে রাখি। ওই রাতে সবাই এশার নামাজে গেলে আমি আবিরকে বলি চল কাঠাল খেতে যেতে হবে। আমার কথায় আবির রাজি হয়। তারপর ওকে নিয়ে আমি কাঠালবাগানে যাই। ওখানে আগে থেকে আব্দুর নুর, রাতুল ও ছালিমির অপেক্ষা করছিলো, মুনায়েম লজিং খেতে চলে যায়। আবিরকে সঙ্গে করে আমবাগানে নিয়ে যাওয়ার সময় আব্দুর নুর পিছন থেকে পালিয়ে যায়। আমবাগানে পৌছে দেখি আবির নাই। তখন আমি আবিরের গলা ধরে পেড়ে ফেলি। ছালিমির ও রাতুল পা ধরে। তারপর আমি আমার ঘাড়ে থাকা তোয়ালে দিয়ে আবিরের গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলি। তারপর লাশ বাগানের একপাশে নিয়ে যাই। ছালিমির আবিরকে জবাই করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। এরপর তোয়ালে দিয়ে মাথাটা বেধে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরের মধ্যে ফেলি। ওই পুকুরেই ফেলে দেওয়া হয় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিটিও। আর তোয়ালে আমার কাছে ছিল। তোয়ালেটা ছালিমিরের কাছে রেখে হাতমুখ ধুয়ে আমি ছাত্রদের খেতে দিতে চলে যাই। মুনায়েম লজিং খেয়ে ফিরে এসে ছালিমিরের কাছ থেকে তোয়ালেটা নিয়ে মাদ্রাসার খড়ির গাদার নিচে লুকিয়ে রাখে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]