• প্রচ্ছদ » » ৩৭০ ধারা রদ : কাশ্মীরিয়দের কী হবে?


৩৭০ ধারা রদ : কাশ্মীরিয়দের কী হবে?

আমাদের নতুন সময় : 07/08/2019

বিপ্লব পাল

আমি বহুদিন থেকেই লিখে আসছি কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। নইলে সমস্যা আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে মোদি-শাহ ভারতের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করেছেন। ১. সীমানা রুদ্ধ করা… ব্যবসা বাণিজ্যে দেওয়াল তুলে দেয়াতে আখেরে সেই দেশেরই ক্ষতি হয়। ট্রাম্প যে এখন চারদিকে ‘প্রোটেক্টিভ’ টারিফ বসাচ্ছে চীনকে বাঁশ দেয়ার জন্য, তাতে ক্ষতি বেশি আমেরিকার। এটি মার্কস এবং ক্যাপিটালিজম… সবার স্বীকৃত তত্ত¡। কাশ্মীরে ৩৭০-এর জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বা জমি কিনতে পারতো না। তাহলে কাশ্মীরের টুরিজম শিল্প উন্নতির জন্য ইনভেস্টমেন্ট কোথা থেকে আসবে? সেখানে আরও অনেক ভালো এয়ারপোর্ট, হোটেল দরকার। শিল্পের জন্য ইনভেস্টমেন্ট কি করে আসবে? বাস্তবে যা হচ্ছিলো ৩৭০-এর জন্য ভারত কাশ্মীরে প্রচুর সাবিসিডি দিচ্ছিলো। টাকাটা যাচ্ছিলো কিছু নেতার হাতে, যারা আবার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আবহটা টেকাচ্ছিলো, নিজেদের স্বার্থে। মোদ্দা কথা এর ফলে কাশ্মীরে শিল্পের বিকাশ আটকে রয়েছে… অধিকাংশ লোকজন দরিদ্র… আর কিছু নেতা ভারতেরই টাকা খেয়ে, ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। টোটাল লস লস কেস। কাশ্মীরের জনতা, ভারতের জনতা… ক্ষতি দু’দিক থেকেই। এই রাহুমুক্তি ঘটলো। এতো আনন্দে দিন উভয় পক্ষের। ২. পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ আছে বা দেশের লোক আছে… যে দেশটা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কোনো বিতর্ক, রক্তপাত ছাড়া? কোনো বাঙালি দেশভাগ চেয়েছিলো? কোনো পাঞ্জাবি তা চেয়েছিলো? দেশ তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া। সেই বেলায় ‘জোর করে’ চাপিয়ে দেয়ার তত্ত¡ ওঠে না কেন? তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো কংগ্রেস-মুসলিম লীগের ক্ষমতা অন্ধ নেতারা। কাশ্মীরের মুসলিম লোকেদের তাও ভাগ্য ভালো যে দেশ-জমি ছাড়তে হয়নি। পÐিতদের তাড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু। সব দেশের সীমানা নিয়েই বিতর্ক আছে, সব দেশের জন্মের সঙ্গেই কিছু না কিছু গÐগোল। ওই পারফেক্ট এথিক্যাল দেশ বলে কিছু হয় না। ভারতও পারফেক্ট নৈতিক দেশ হতে চাইলে, দেশটাই উঠে যাবে। কারণ দেশকে টিকিয়ে রাখতে কিছু অনৈতিক বল প্রয়োগ, মাসল টুইস্টিং থাকবেই। ৩. দেশের মধ্যে আরেকটা আধা দেশ থাকাটা… অর্ধেক দেশের পক্ষেই ক্ষতিকর। যেটা গাজা স্ট্রিপ আর ওয়েস্ট ব্যাংকে হয়েছে। ৩৭০-এর জন্য কাশ্মীর ভারতের গাজা স্ট্রিপে পরিণত হতে চলেছিলো। কিন্তু যদি ওটা দেশেরই একটা অংশ হয়, কাশ্মীর গাজা স্ট্রিপ হওয়ার থেকে বাঁচবে। আমি একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম। ওয়েস্ট ব্যাংকের প্যালেস্টাইনবাসীদের নিয়ে। তাদের অনেকেই বলছে দেখো, ওয়েস্ট ব্যাংকের ইলিগ্যাল সেটলাররাও আমাদের থেকে কতো ভালো থাকে। কারণ ওদের একটা সরকার আছে। যারা দেখাশোনা করে। আমাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব দিলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়। ৪. কাশ্মীরের লোকেদের অনুমতি নিয়ে যেমন কাশ্মীরকে ভারতে ঢোকানো হয়নি, তেমন বাঙালিদের অনুমতি না নিয়েই হিন্দু বাঙালিদের পশ্চিমবঙ্গে, মুসলমান বাঙালিদের পূর্ব পাকিস্তানে ফেলা হয়েছিলো। সেসময় অতো নৈতিকভাবে দেশভুক্তি সম্ভব ছিলো না। দেশভাগের জন্য মাত্র দেড়মাস সময় দেয়া হয়েছিলো মাউন্টব্যাটেনকে, রাডক্লিফকে। ফলে যে অনায্য দেশভাগের দুর্ভাগ্যজনক ইতিহাসের ভাগী আমদের বাবা-জেঠারা… সেটা আরও খারাপের দিকে যেতো যদি না সর্দার প্যাটেল কঠোরভাবে ভারত ইউনিয়ানে ‘জোর’ করে সবাইকে ঢুকিয়ে শক্তিশালী ভারত তৈরি না করতেন। এই ‘জোর’ করে সর্দার প্যাটেল সবাইকে ভারতে ঢুকিয়েছিলেন বলেই ভারতে ইথিওপিয়া বা সার্বিয়া-আলবানিয়ার মতো গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়নি। হ্যাঁ একটা গরিব রাষ্ট্র ছিলো… কিন্তু তাতে পলিটিক্যাল স্টেবিলিটি ছিলো বলেই আজ ভারত পাকিস্তান নয়। চন্দ্রযান পাঠাচ্ছে। পৃথিবীর আরন্ডি ব্যাক হাউস হয়েছে। এগুলো হয়েছে পলিটিক্যাল স্টেবিলিটির জন্যই। আর পলিটিক্যাল স্টেবিলিটি সম্পূর্ণ এথিক্যাল উপায়ে কেউ অর্জন করতে পারে না… তাতে কিছু আর্ম টুইস্টিং লাগবেই। সর্দার প্যাটেল মেকিয়াভেলিয়ান পথেই তা অর্জন করেছেন এবং যার জন্য ভারত ইউ এন প্রেসার অগ্রাহ্য করে কাশ্মীরে প্লেবিসাইট করেনি। ৫. কাশ্মীরীয়দের কি হবে? ১ আগস্ট আমার উবের ড্রাইভার ছিলো এক পাকিস্তানি পাঞ্জাবি। কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম পাকিস্তানে পাঞ্জাবি সাহিত্য সংস্কৃতির হাল। সে বললো ওসব আর নেই। পাঞ্জাবি সংস্কৃতি এখন শুধু ভারতেই আছে। পাকিস্তান সরকার শুধু উর্দুর পেছনেই খরচ করে। ভারতীয় সংবিধানে বাঙালি, মারাঠা, তেলেগু সব সংস্কৃতিই নিজেদের ধরে রেখেছে। কাশ্মীরের কি সমস্যা? সব থেকে বড় কথা কোন বাঙালি বাঙালিয়ানাতে বিশ্বাসী? যাদের ইলিশ মাছ কেনার ক্ষমতা আছে। তাদের সংখ্যাটা ১০ শতাংশ নয়। বাকি ৯০ শতাংশ বাঙালি একটু উপায় করার জন্য গুজরাট, ব্যাঙ্গালোরে। ব্যাঙ্গালোরের প্রতিটা হোটেল, রেস্টুরেন্ট বয় এখন বাঙালি। বাঙালিয়ানা, কাশ্মীরিয়ত… এসবই ওই ১০ শতাংশ পরজীবীদের দাবি। বাকিরা একটু ভালো থাকতে চায়। কাশ্মীরে ব্যবসার সম্প্রসারণ সম্ভব হলে তবেই সেটা সম্ভব। ৬. বিশ্ব জনমত? চীনে উইঘুর প্রদেশের মুসলমানদের ধর্মাচারণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেটা আবার পাকিস্তান সমর্থন করে। কারণ চীনের টাকা ছাড়া তাদের চলবে না। ভারতের মার্কেট বিশ্বের সব বড় শক্তির দরকার। রাশিয়া, আমেরিকার সব থেকে বড় অস্ত্র মার্কেট ভারত। চাইনিজ ফোনের সব থেকে বড় মার্কেট ভারত। একসঙ্গে থাকার ফলে ভারতের যে বৃহৎ মার্কেট তৈরি হয়েছে, সেটাই ভারতের আসল শক্তি। তাছাড়া ইসলামিক বিচ্ছিন্নবাদী সন্ত্রাসবাদীদের সাপোর্ট করবে এমন ভদ্রদেশ পৃথিবীতে আছে? সৌদি আরব? আমেরিকা এখন তেল কেনে না। ভারত তেল কেনা বন্ধ করলে দেশটাই লাল না হলেও হলুদ বাতি জ্বলবে। সেজন্য সৌদি রাজকুমার কাশ্মীর নিয়ে সর্বদাই চুপ। কাশ্মীরের জন্য ভারত আন্তর্জাতিক চাপ খাবে… অবান্তর কল্পনা। আন্তর্জাতিক তো দূরের কথা ৫১টা মুসলিম দেশের সংগঠন আইএমওতে কাশ্মীরের জন্য কেউ এক ফোঁটা জল ফেলবে না । পাকিস্তান ছাড়া। ৭. ভারতের বাম লিব্যারালদের ৩৭০ বিরোধিতা প্রমাণ করলো, কেন ভারতের জনগণ তাদের আঁস্তাকুড়ে ফেলেছে। এটা জেনেও মোদির অর্থনৈতিক পারফরমেন্স বলার মতো কিছু নয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]