ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থির মসলার বাজার

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

রমজান আলী : আমদানি, পাইকারি ও খুচরা এ তিন পর্যায়েই বেড়েছে মসলার দাম। পেঁয়াজ-রসুন থেকে শুরু করে এলাচ-লবঙ্গ প্রায় সব মসলার দরই চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, বাজেটে আমদানির ওপর এআইটি (আগাম কর) যোগ হওয়া, উৎপাদক দেশে দাম বৃদ্ধি এবং কোরবানির চাহিদা। এ তিন কারণে দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মসলা পণ্যের বুকিং দর বাড়ায় পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়েছে, যা খুচরায় গিয়ে ঠেকেছে। জানা গেছে, টাকার অংকে দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আমদানিকৃত মসলা পণ্য এলাচের, আর শতাংশ হিসেবে দাম বেড়েছে দারুচিনির। এছাড়া পেঁয়াজ, আদা, রসুন, শুকনা মরিচ, জিরা ও জয়ত্রীসহ প্রায় সব মশলার দাম ঊর্ধ্বমুখী।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও বাজার, তালতলা মার্কেট, শান্তিনগর বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি কেজি দারচিনির দাম ২৮০ থেকে ২৮৫ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা। এলাচি মান ভেদে ২,২০০ থেকে ২,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি। অথচ মে মাসের শেষের দিকেও দাম ছিল ১,৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে গড়ে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি লবঙ্গ ৭৯০ থেকে ৮০০ টাকা, ইন্ডিয়ান জিরা ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা, তুরস্কের জিরা ৩৬৫ থেকে ৩৭০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৩৭৫ থেকে ৩৮০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা, কালো জিরা ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়ত্রী ২ হাজার ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও দুই মাস আগে এর দাম ছিল ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকা। মাস তিনেক আগে দাম ছিল ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা।

কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী শরিফ উল্লাহ বলেন, আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে মসলার দাম বাড়ছে। তাছাড়া কোরবানিতে চাহিদা বাড়ায় দাম একটু বাড়ে। তবে এলাচের দাম তুলনামূলক বেশি, যা বর্তমানে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাচ আসে গুয়াতেমালা ও ইন্ডিয়া থেকে। এর মধ্যে গুয়াতেমালায় ফসল জ্বলে গেছে, আর ভারতে বন্যায় এলাচ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। তাই ওই সব দেশেই দাম বেড়েছে। মাস দুয়েক পরে এলাচ ও জয়েত্রীর মৌসুম আসছে, তখন দামও কমবে। বাজারে নিত্য ব্যবহার্য মসলার মধ্যে প্রতি কেজি গুঁড়া হলুদ ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, আস্ত শুকনো হলুদ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, গুঁড়া মরিচ ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা, শুকনো মরিচ ১৫০ টাকা, আস্ত ধনিয়া ১১০ টাকা, ধনিয়া গুঁড়া ১৩০ টাকা, জিরা গুঁড়া ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচ ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, লবঙ্গ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১২০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১৫০ টাকা, জিরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দারুচিনি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, তেজপাতা ৩০ টাকা, ধনিয়া ২০ টাকা, হলুদ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, মরিচ ২১০ থেকে ২২০ টাকা, স্টার মসলা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, কাঠবাদাম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবও বলছে মসলার দাম বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাবে এলাচির দাম গেল বছরের একই সময়ে ছিলো ১,৬০০ থেকে ২,২০০ টাকা। মাসের ব্যবধানে ৫.৭৭ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪৪.৭৪ শতাংশ। গেল বছরের একই সময়ে দারুচিনির দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। মাস ও বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৩০.৭৭ শতাংশ। আদার দাম মাসের ব্যবধানে ৩.২৩ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। লবঙ্গের দাম বছরের ব্যবধানে ৭.৪১ শতাংশ বেড়েছে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]