• প্রচ্ছদ » » কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গতি-প্রকৃতি


কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গতি-প্রকৃতি

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

কাকন রেজা

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির ধারা আবারও পরিবর্তিত হতে চলেছে এবং তা কাশ্মীরকে ঘিরে। ভারত এবং কাশ্মীরের মাঝে যে জোড়াটা তাহলো ভারতের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা ৩৭০ ধারা। কাশ্মীর ৩৭০ ধারার মাধ্যমে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ‘অধিগৃহীত’ হয়েছে। ‘অধিগ্রহণ’ শব্দটির মানে হলো ‘আদেশ বলে গ্রহণ’ করে নেয়া, কাশ্মীর, সিকিম, হায়দরাবাদ সবই ভারতের ‘অধিগ্রহণকৃত’। এসব অঞ্চল বা রাজ্য সাতচল্লিশের পরে ভারতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বা দিতে বাধ্য হয়েছে। যা হোক অন্যের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঘাঁটা আমাদের কাজ নয়। কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলা এজন্য যে, এর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যেমন প্রভাব পড়বে, তেমনি ভবিষ্যতে ভৌগোলিক চিত্রেরও পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটা শুধু আমার ধারণা নয়। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা চিদাম্বরমের উক্তিটিও এ ধারণার সমর্থন করে। তিনি বলেছেন, ‘এ থেকেই ভারতে ভাঙনের সূচনা হলো’। ইতোমধ্যে কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তান ছাড়াও মালোয়েশিয়া ও তুরস্ক কথা বলতে শুরু করেছে। এই কথার রেশ ছড়াবে অনেকদূর পর্যন্ত। ভারতের এই কাÐে পাকিস্তানের প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি, পরোক্ষে খুশিও হবার কথা। কারণ কাশ্মীর নিয়ে রাজনীতি ও ক‚টনীতি উভয়ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাবে তারা। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গতি-প্রকৃতি যারা পর্যবেক্ষণ করেন তারা ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। এখন আজাদীর দাবিটাই মূল দাবি হয়ে উঠবে কাশ্মীরীদের। আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যেও বিভেদ বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। মূল দলগুলো হারাবে সমর্থন ও সদস্য। যা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে চিন্তার কথা উগ্রবাদের পালে হাওয়া লাগবে। তারা বলবে, দেখো আমরাই ঠিক ছিলাম। বিশ্ব রাজনীতিতেও সেই কথার প্রতিধ্বনি হবে। ‘উগ্রপন্থার জন্য দায়ী পাকিস্তান’ এমন দৃষ্টিভঙ্গিরও ক্ষেত্রেও নতুন চিন্তার সৃষ্টি হতে পারে। উগ্রপন্থাকে বাস্তবতা বলে আখ্যায়িত করতে চেষ্টা করবে উগ্রপন্থার সমর্থকরা। যা হয়তো ক্রমশ দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তো ইতোমধ্যেই টালমাতাল। শেষ করার আগে ৩৭০ ধারা নিয়ে সংক্ষেপে বলি। কাশ্মীরের রাজা হরি সিংয়ের সঙ্গে ভারতের চুক্তিই হলো ৩৭০ ধারা। এই ধারায় পরিষ্কার, চুক্তিটি বিলোপ হলে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হবে। প্রশ্নটা হলো বিলুপ্ত হলে কী হবে, কাশ্মীর তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে? প্রশ্নটির উত্তরের উপর নির্ভর করছে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি এবং সঙ্গে মানচিত্রের অবস্থানও। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]