• প্রচ্ছদ » » ডেঙ্গুতে শিশুদের নারী-শিশুদের মৃত্যুহার কেন বেশি?


ডেঙ্গুতে শিশুদের নারী-শিশুদের মৃত্যুহার কেন বেশি?

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

ইকবাল আনোয়ার

ঢাকায় ডেঙ্গুতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হারও বেশি। বড়দের চেয়ে, তাদের ক্ষেত্রে লক্ষণও বিচিত্র। দেখা যাচ্ছে জ্বর বেশি কি কম, দু-তিন দিনের মধ্যেই অথবা জ্বর না হয়ে পাতলা পায়খানা বমি তার পরই বা খিঁচুনী নিয়ে, পেটে ব্যথা নিয়ে, এক কথায় লক্ষণের বাদ বিচার ছাড়াই এবং পরীক্ষায় পজেটিভ কি নেগেটিভ (ধরা গেলো কি গেলো না) যাই হলো, শিশু শকে চলে যাচ্ছে বেশিরভাগ, কম সংখ্যক রক্ত ক্ষরণে চলে যাচ্ছে।
শকে চলে যাওয়ার পর বা রক্তক্ষরণকালে দু-তিন দিন একটি শিশুর দুর্যোগকাল মোকাবেলার মনিটরিংয়ে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যাবেক্ষণে দু-তিনজন রোগীতে একজন চিকিৎসক একজন নার্সের রীতিমতো সার্বক্ষণিক দরকার। কিন্তু যে হারে রোগী আসছে এতে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশজন রোগী দেখতে হচ্ছে একজনকে। আরও বেশি। তারপরও চিকিৎসকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। চিকিৎসক নার্স দরকার আরও। সিনিয়র ছাত্রদের, প্রশিক্ষণ দিয়ে, নিয়োগ দিয়ে নতুন চিকিৎসক, মোকাবেলা করতে হবে একে। নার্স তৈরি করতে হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু এ কাজের উপযুক্ত করে স্বল্প সময়ে। চিকিৎসা তো রোগী-ব্যক্তির জন্য। কমিউনিটিতে মশা নিধনের তো বিকল্প নেই, রোগ কমাতে হলে বা মানুষ বাঁচাতে হলে। মেরামতি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘর স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে পর্যাবেক্ষণ, ব্যাপক প্রচার ও জনসচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। স্কুল ছুটি দিলে ভালো হবে। এখনই দরকার। তাহলে বাড়িতে নিবিড়ভাবে মশার কামড় থেকে বাঁচাতে পারে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের। প্রকৃতই দুর্ভাগ্যজনক। হাসপাতালে জায়গা নেই। শেড তৈরি করা যায়। সিট না থাকলে অভার বার্ডেন্ড হলে রাখবে কোথায়। তাই বাধ্য হয়ে রোগীকে ফেরত দিতে হয়। এখনো সামনে সেপ্টেম্বর, আরও বেশি হবে। ঢাকা থেকে মানুষ যখন বাড়ি যাবে, তখন আরও ছড়াবে। ঢাকায় থাকলে বিপদ অনেক অনেক কম হতো। কাজটা কনফাইন্ড এলাকায় রেখে মোকাবেলা করা যেতো। চিকিৎসকদের পরামর্শ মানা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী নির্দেশ ও পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশন/ মিউনিসিপালিটিগুলোতে স্বল্পকালীন হলেও লোক নিয়োগ দরকার। ঢাকার মতো দেরি করে বা অকার্যকর ওষুধ দিলে অন্য শহরগুলোতেও সকল মানুষ বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হলে আরও বেদনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমার মনে হয়, বিগত অনেক বছরেও আমরা এমন বিপদে পড়িনি। সততা ও একতা ছাড়া, বাঁচার উপায়ে নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের কাজ করতে হবে।
ডাক্তারদের ছুটি বাতিল। ঠিক আছে। কিন্তু আর কি ব্যবস্থা? কি স্ট্রটেজি। সামনের ভয়াবহ অবস্থা, এর পরের বছরে আরও দ্বিগুণ ভয়াবহ পরিণতির বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে। তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এবার ব্যর্থ হলে সামনেরবার বিরাট বিপদ হবে। ২০০০ সন থেকে (২০১৭ কম) প্রায় গুণিতকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকরা এবারও ফেব্রæয়ারিতে সতর্ক করেছিলো। চিকিৎসকরা তো মশা নিধনের কাজটা করে না। যাক সে কথা, এখন কার ভুল কার ঠিক, ভাবার সময় নয়। চিকিৎসকরা ঝুঁকির মধ্যে গলদঘর্ম হয়ে কাজ করে চলেছেন। এদেশে চিকিৎসকের এমনই পরিণতি হবে। তাদের কাজের মূল্যায়ন হবে না কখনো। তাদের নিরাপত্তাও হবে না কখনো। এটা তাদের নিয়তি। হোক। মহান ¯্রষ্টা সব দেখছেন। এখন মানুষ তো বাঁচাতে হবে। বিপদ বুঝে নিন। দয়া করে দায়িত্বশীলের মতো আচরণ করুন। কথা গুছিয়ে বলতে পারছি না। বুঝে নিন। চিকিৎসক হিসেবে, শিশুর চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বের জায়গা থেকে বলছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]