প্রথম নোবেল জয়ী কৃষ্ণাঙ্গ লেখিকা টনি মরিসন মারা গেছেন

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

লিহান লিমা: ‘সে বছর শরৎকালে একটাও গাঁদা ফুল ফোটেনি। পিকোলার গর্ভে ছিলো তার বাবার বাচ্চা, তা-ই তো একটা ফুলও ফোটেনি সে বছর।’ কথাগুলো নোবেলজয়ী প্রথম আফ্রো-আমেরিকান লেখক টনি মরিসনের ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’ উপন্যাসের। মঙ্গলবার রাতে ৮৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কের হাসপাতালে মারা যান তিনি। বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।

মরিসনের উপন্যাস ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’-নীল নয়নের আজন্ম অপূর্ণ আকাঙ্খায় ছোট্ট পিকোলা নিজেকে চেনার আগে চিনেছে নিজের প্রতি ঘৃণাকে, চিনেছে বৈষম্য আর বিভেদকে, জেনেছে কেবল জন্ম আর বর্ণের ফেরে সে মানব সমাজে নেমে গেছে অনেক নিচে। এক সাক্ষাৎকারে টনি বলেছিলেন, ‘নীল চোখ, সোনালি চুল, সাদা চামড়ার বাইরেও যে একটা জগৎ আছে, নির্মম কিন্তু অপরূপ, শেকলে বাঁধা, সেটাই বারবার লিখেছি আমি। কারণ মৃত্যুই যেমন জীবনের চরম ব্যঞ্জনা, ভাষা তেমনই জীবনের!’

টনি মরিসনের লেখা বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’ (১৯৭০), ‘সুলা’ (১৯৭৩), ‘সং অব সলোমন’ (১৯৭৭) ও ‘বিলাভড’ (১৯৮৭)। ‘বিলাভড’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮৮ সালে ‘পুলিৎজার’ ও ‘আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ড’ পান টনি। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত আমেরিকার গৃহযুদ্ধ পরবর্তী পটভূমিতে রচিত হয়েছে উপন্যাসটি। মহাকাব্যিক বিষয়বস্তু, প্রাণবন্ত সংলাপ এবং চরিত্রগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার কারণে তার উপন্যাস বেস্ট সেলার থেকে পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে। ‘সুইটনেস’ উপন্যাসে মরিসন লেখেন, ‘মাতৃত্ব মানে মধুর স্বরে কথা বলা, মাতৃত্ব মানে প্রাপ্ত কোনো মূল্যবান দ্রব্য, কিংবা ডায়াপার ইত্যাদি, তাহলে তোমার মানসিক ঝাঁকি খাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বড় ধরণের ঝাঁকি। কল্পনা করে দ্যাখো তোমার বেনামি ছেলেবন্ধু, কিংবা স্বামীর কথা!’

টনি মরিসনের আসল নাম ক্লো আর্দেলিয়া উফোর্ড। ১৯৩১ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস তিনি। ১৯৯৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান মরিসন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ পান তিনি। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]