• প্রচ্ছদ » » বঙ্গবন্ধুর প্যারোলের মুক্তির কথা যখন নেতারা ভাবছিলেন, তখন বঙ্গমাতা নিঃসংকোচে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, জাতি তাঁর দিকে চেয়ে আছে


বঙ্গবন্ধুর প্যারোলের মুক্তির কথা যখন নেতারা ভাবছিলেন, তখন বঙ্গমাতা নিঃসংকোচে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, জাতি তাঁর দিকে চেয়ে আছে

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

কাজী কেয়া : বাঙালি নারী জাগরণের পথিকৃৎ থেকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা এদের জীবনগল্প জানতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে শুধু কথার চটকদারিত্ব নয়, সেই কথা যাপিত জীবনে মেনে চলাই বড় কথা। রোকেয়া স্বপ্ন দেখতেন তার অসহায় বাঙালি নারী একদিন সমাজ-রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে, সব ক্ষেত্রে সেরা হয়ে উঠবে। চমকে দেবে পুরুষশাসিত একচোখা সমাজকে। শুধু স্বপ্নই নয়, বাস্তবে সারাটি জীবন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন কাজের মধ্যে। তিনি আজ নেই। তার স্বপ্নদেখা সেই নারী আজ বাস্তব হয়ে উঠেছে। মহীয়সী রোকেয়া তার লেখায় এবং বাণীতে জীবনের আদর্শ বর্ণনা করে গেছেন। আমরা এখন যতোই সেসব পড়ি ততোই বিস্মিত হই। তার বাণীর সত্যটুকু মিলিয়ে দেখি তার জীবনাচরণে। দেখে আরও বিস্মিত হই এই ভেবে যে, প্রণীত বাণীর সবই তার জীবনের আদর্শ ছিলো। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এক চিরকালের সাধারণ বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি। কী সাধারণ বেশভুষা, কী আটপৌরে জীবনাচরণ। জীবনের কোনো চাহিদা ছিলো না। অথচ সেই সাধারণের মধ্যে কী অসাধারণ কীর্তি তার। গ্রামের এক সাধারণ খোকার মুজিব হয়ে ওঠা, এক তরুণ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা এবং বঙ্গবন্ধু থেকে একটি স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্রের নির্মাতা জাতির জনক হয়ে ওঠার পেছনের মন্ত্রণাদাত্রী ছিলেন এই সাধারণ বাঙালি নারী। ভাবলে অবাক লাগে তার জীবনগল্প পাঠ করলে। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামমুখর জীবনের পথচলার দুরূহ সময়গুলো তিনি সন্তানদের নিয়ে কী কষ্ট ও বিপদের মধ্যে কাটিয়েছেন। তার মধ্যেই নিরন্তর বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা দিয়েছেন তার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার পথে এগিয়ে যেতে। আমরা ইতিহাসে দৃষ্টি বুলালেই তার প্রমাণ পাই। ছয় দফা আন্দোলনে, আগরতলা মামলায় জীবন সংহার দেখেও বঙ্গবন্ধুকে সত্যের পথে সাহস জুগিয়েছেন অসাধারণ দৃঢ়তায়। বঙ্গবন্ধুর প্যারোলের মুক্তির কথা যখন নেতারা ভাবছিলেন বঙ্গমাতাই তা নিঃসংকোচে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে, জাতি চেয়ে আছে তার দিকে। এমন লজ্জাজনক আপোসের মুক্তির চেয়ে মৃত্যু অনেক শ্রেয়। তিনি বলেছেন, তার মৃত্যু হলে তার সন্তানরাই পিতৃহারা হবে। অতএব তিনি নেতাদের নিবৃত্ত থাকতে বলেছেন তার প্যারোলের ব্যাপারে যেন কোনো উৎসাহ না দেখান। বঙ্গবন্ধুকে তিনি বুঝতেন এবং জানতেন বলেই এমন প্রত্যয়ী হতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুও সেই প্যারোলের মুক্তি নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের ভয়াবহ সময়ে দুই সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়ে তিনি দুই কন্যাকে নিয়ে শত্রæবেষ্টিত বিরুদ্ধ সময় অতিক্রম করেছেন। তার মধ্যে থেকেই তিনি জাতিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের, নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন ঠিক বঙ্গবন্ধুর বিকল্প হিসেবে। জীবনের নানা পর্বে তার ব্যক্তিভ‚মিকা এবং কথা, পরামর্শ, ভাবনাগুলো এমনই যা অনুকরণ করলে আমরা, আমাদের নারীসমাজ একটি সত্যসুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারবো। সূত্র : ঢাকা টাইমস




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]