• প্রচ্ছদ » » যারা ভুয়া বক্তৃতার নামে রাষ্ট্রের টাকা মেরে দিলো তারা কেমন অসৎ?


যারা ভুয়া বক্তৃতার নামে রাষ্ট্রের টাকা মেরে দিলো তারা কেমন অসৎ?

আমাদের নতুন সময় : 08/08/2019

কামরুল হাসান মামুন

বক্তৃতার নামে সিইসি, কমিশনার, সচিবদের পকেটে দুই কোটি টাকা : ওয়াউ! বক্তা, বিশেষ বক্তা, মিটিংয়ে উপস্থিতি ইত্যাদির নামে আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা টাকা কমানোর নতুন পদ্ধতি অনেক আগেই শুরু করেছেন। এর বাতাস এখন সাংবিধানিক পদে থাকা লোকজনের মাঝেও পৌঁছে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়েও পৌঁছেছে। আর প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণ কিংবা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ইত্যাদি তো আছেই। দুঃখ লাগে। গত বছর ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে চীনে গিয়েছি। আবার সেই বছরই আরেকটি কনফারেন্সে নিজের গবেষণার কাজ প্রেজেন্টেশনের জন্য আমেরিকায় গিয়েছি। দুটোতেই শতভাগ নিজের টাকা খরচ করে গিয়েছি। এই তো দুদিন আগেও ভারতে গিয়েছি নিজের টাকায় গিয়েছি। এর আগেও বেশ কয়েকবার করলকাতায় গিয়েছি শতভাগ নিজের টাকায়। প্রতিবার বক্তৃতা দিতেই গিয়েছি। ঘুরতে কিংবা শপিং করতে যাইনি। নিজের এবং ছাত্রের গবেষণার জন্য দুটো কম্পিউটার কিনেছি নিজের টাকায়। নিজের অফিসের চেয়ার কিছু আসবাবপত্র কিনেছি নিজের টাকায়। আমরা যখন বিদেশে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে যাই সেটা অনেকটা দেশের অ্যাম্বাসেডরের মতো। নিজের দেশকে তুলে ধরি। অনেককে অনেক সময় বলতে শুনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সম্পূর্ণ বুলশিট। আমরা যে বিদেশে বিভিন্ন কনফারেন্সে যাই পৃথিবীর নানা দেশের বিখ্যাত সব গবেষক শিক্ষকদের বক্তৃতা শুনি সেটাই আমাদের প্রশিক্ষণ। অথচ এসবের জন্য আমরা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাই না। আর ওরা বিদেশে গিয়ে শপিং করার জন্য টাকার অভাব হয় না। আমরা যে পিএইচডি কিংবা পোস্ট-ডক করতে বিদেশে যাই সেটাই আমাদের প্রশিক্ষণ।
আমাদের এই কনফারেন্সে যাওয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ রেখে আমাদের চরিত্র হরণ করার জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক হেকেপ আর একিউএসি প্রজেক্ট করে নানা নামে প্রজেক্ট কেনাকাটি আর প্রশিক্ষণের নামে অনেকটা টাকা বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে। কিছু লাভ তো অবশ্যই হয়েছি, কিছু কেনাকাটা ও কিছু গবেষণা তো অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু ক্ষতি যেটা হয়েছে সেটা অপূরণীয়। শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে একটি ওয়ার্কশপ হয়। জানার জন্য দেখার জন্য গিয়েছিলাম। ওম্মা, কিছুক্ষণ পরে দেখি আমাকে একটি ইনভেলাপ সাধে। লজ্জায় মনে হচ্ছিলো মাটিতে ঢুকে যাই। অনেক পিড়াপীড়িতেও ওই ইনভেলাপ নেইনি। আমি প্রশিক্ষণ নেবো আর আমাকেই টাকা দেবে। ভাবা যায়? যারা ভুয়া বক্তৃতার নামে রাষ্ট্রের টাকা মেরে দিলো তারা কেমন অসৎ। অথচ এদের হাতেই রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]