• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭ রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র


পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭ রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

আমাদের নতুন সময় : 09/08/2019

শাহীন চৌধুরী : দফায় দফায় রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর চুক্তি নবায়নের পর অবশেষে পর্যায়ক্রমে তা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭টি রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ হওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রমতে, সরকারি- বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতা এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।
সূত্র জানায়, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩৩ শতাংশই আসে তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে। আগামী পাঁচ বছরে উচ্চমূল্যের এ বিদ্যুৎ থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক বেসরকারি খাতের রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর চুক্তি নবায়ন করা হবে না। ফলে অবসায়নে যাবে ৪ হাজার ৩৯৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে উৎপাদনে রয়েছে বেসরকারি খাতের ২৭টি রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে এগ্রিকোর রয়েছে তিনটি ও ডাচ্-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে দুটি। একটি করে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ম্যাক্স পাওয়ার, দেশ এনার্জি, আইইএল পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, পাওয়ারপ্যাক, একম, ইউনাইটেড, কেপিসিএল, খানজাহান পাওয়ার, নর্দান পাওয়ার ও সিনহা পাওয়ারের। এসব রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের কোনো কোনোটির মেয়াদ এরই মধ্যে একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। তবে আগামীতে আর বাড়ানো হবে না বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ফলে ২০২৩ সাল নাগাদ অবসায়নে যাচ্ছে অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
চট্টগ্রামের শিকলবাহায় অবস্থিত শাশা ডেনিমসের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডের (ইপিসিএল) হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) ভিত্তিক ৫৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ১১ জুলাই থেকে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যদিও আরো দুই বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করতে গত বছরের ৩০ আগস্ট বিপিডিবির কাছে আবেদন করে কোম্পানিটি।
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ইউপিজিডিসিএল) কুইক রেন্টাল রয়েছে একটি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এইচএফও-ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অবসায়নে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইউপিজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ বলেন, এইচএফওর ব্যবহার কমিয়ে আনা কিংবা বন্ধ করে দেয়ার আগে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে হাইড্রো কিংবা সোলার ব্যবহার করে খুব বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ নেই। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদও ফুরিয়ে আসছে। তাই এইচএফওর বিকল্প হিসেবে এলএনজি ও কয়লা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ব্যয় ৬-৭ টাকা। তবে ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে (কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল) প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮-২০ টাকায় কিনছে বিপিডিবি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ দুই-আড়াই টাকা। এরপরই রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ। জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে ৬ টাকা।
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে মোট ১৩৩টি। এর মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও রয়েছে রেন্টাল, কুইক রেন্টাল, আইপিপি ও স্মল ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (এসআইপিপি)। সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির গড় ব্যয় ৬ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪ টাকা ৮৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে বিপিডিবির ঘাটতি থাকছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে লোকসান গুনছে বিপিডিবি। গত ১০ বছরে বিপিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, মধ্যবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তেলভিত্তিক এসব কেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছিলো। আগামীতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের বেশকিছু কেন্দ্র শিগগিরই উৎপাদনে আসছে। এ অবস্থায় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হবেনা। সম্পাদনা : কাজী নুসরাত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]