হাইকোর্টে জামিন মেলেনি মিন্নির

আমাদের নতুন সময় : 09/08/2019

নূর মোহাম্মদ : বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন ফেরত নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে শুনানির পর আদালত জামিন না দিয়ে রুল দিতে চাইলে তারা আবেদনটি ফেরত নেন।

গতকাল শুনানিতে জেড আই খান পান্না বলেন, মিন্নির জামিনের জন্য আবেদন করছি। ২৩ জুন হত্যাকা- ঘটে। এফআইআর হয় ২৭ জুন। আর ১৬ জুলাই মিন্নিকে ডাকা হলে বাবার সঙ্গে পুলিশ লাইনে যায় সে। আর সেদিনই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন আদালতে তুলে রিমান্ডে  নেয়া হয়। ১৬৪ ধারায় মিন্নির জবানবন্দী নেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে কারাগারে নেয়ার সময় পুলিশ তার মুখ চেপে ধরে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। কারা ফটক থাকতে একটি ১৯ বছরের নারীকে পুলিশ লাইনে নিয়ে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে? এটা সুপ্রিম কোর্টের  নির্দেশনার লংঘন। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী।

তিনি বলেন, মিন্নির কাছ থেকে জোর করে অবৈধভাবে জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। আদালতে তারপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেনি। এজন্য কোর্টও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আছে, আসামির সহযোগিতার জন্য আইনজীবী লাগবে। মূল চারজনকে ধরার ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। এসময় তিনি দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

এসময় আদালত বলেন, সাংবাদিকরাতো খুনের কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। পরে জেডআই খান পান্না বলেন, দুমাস হয় বিয়ে হয়েছে। এখনো মধু-চন্দ্রিমাও কাটেনি। মেয়েটি অসুস্থ। এসময় তিনি স্বামীকে রক্ষা করার সময় রক্তাত্ব হওয়ার ছবি আদালতে উপস্থাপন করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, টিভি-পত্রপত্রিকায় হত্যাকা-ের চিত্র এসেছে। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীকেই আসামি করা হয়েছে। মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে ও কিছু লোককে বাঁচাতে মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন ফকির দাঁড়ালে আদালত বলেন, ১৮ দিন পরে এক নম্বর সাক্ষীকে আসামি কেন করলেন? জবাবে মমতাজউদ্দিন ফকির বলেন, ঘটনার অন্তরালে অনেক ঘটনা রয়েছে। আদালত বলেন, তার বিরুদ্ধে কিছু আছে কি? মমতাজউদ্দিন বলেন, ১৫ জন আসামির চারজন মিন্নির নাম বলেছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রয়েছে। এছাড়া নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির আগে বিয়ে হয়েছিলো। রিফাত শরিফের সঙ্গে বিয়ের পরও গোপনে নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে।

আদালত বলেন, এটা কার কথা? পুলিশের ফরোয়াডিং?

মমতাজউদ্দিন ফকির বলেন, জ্বি। এছাড়াও ফোন কল রেকর্ড আছে। মিন্নি ঘটনার আগে পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরিকল্পনা করেছেন। ঘটনার সিডি আছে। নি¤œ আদালত চারটি যুক্তিতে মিন্নির জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। এগুলো হলোÑমামলার সিডি (কেইস ডকেট যেখানে ঘটনার আগে-পরে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের কথোপকথন), ভিডিও ফুটেজ (হত্যাকা-ের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ), কাবিননামা (নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে) ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি (মিন্নি ও অন্য আসামির)।

এসময় আদালত বলেন, আইনে (৪৯৭ ধারা) জামিনের ক্ষেত্রে নারীরা সুবিধা পাবেন বলে বলা আছে। মমতাজউদ্দিন ফকির বলেন, মামলা তদন্তনাধীন। পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের জন্য রয়েছে। জেড আই খান পান্না বলেন, তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) পুলিশের কথা বলেছেন। আমরা জনগণের কথা বলছি। তিনি প্রেমের কথা বলেছেন, কিন্তু খুন কিভাবে হলো সেটা বলেননি। দেশের প্রতিটি মানুষের সহানুভূতি মিন্নির পক্ষে। এসময় আদালত বলেন, নারী-এই বিবেচনায় জামিন পেতে পারেন। তবে সেজন্য ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লাগবে। সেটা আছে কি?

জেড আই খান পান্না বলেন, না। পুলিশ দেয়নি। অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ওটা দেবে না। আদালত বলেন, ১৬৪ ধারা জবানবন্দী না দেখে (পর্যালোচনা না করে) কিছু দেয়া যাবে না।  জেড আই খান পান্না বলেন, ১৯ বছরের নালী। অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু জামিন দিলে পালিয়ে যাবে না। আদালত বলেন, আমরা রুল দেই। এরমধ্যে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নিয়ে আসুন। এরপর জামিনের আবেদনের ওপর শুনবো।

জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, সে তো নারী। এই যুক্তিতেই জামিন হতে পারে। আদালত বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লাগবে। অন্যথায় আবেদন ফেরত নিতে পারেন। এরপর জেড আই খান পান্না জামিনের আবেদন ফেরত নেন। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]